সিলেট ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ : চলতি ২০২৬ সালের (জানুয়ারি থেকে মার্চ) ৩ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী ২৩১ শিশু নিহত হয়েছে। সড়ক ও সড়ক পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন বিষয়ে অসচেতনতার কারণে শিশুরা সড়ক দুর্ঘটনায় উদ্বেগজনক মাত্রায় হতাহত হচ্ছে।
সেবা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ১১টি জাতীয় দৈনিক, ১৩টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্টনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
সেবা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমিন আরা কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও গণমাধ্যমে প্রেরিত প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের চিত্র বিশ্লেষণ:
সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-
বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালক/হেলপার হিসেবে নিহত হয়েছে ১১৩ শিশু (৪৮.৯১%) এবং পথচারী হিসেবে বিভিন্ন যানবাহনের চাপা/ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১১৮ শিশু (৯১.০৮%),
শিশু পথচারীদের চাপা-ধাক্কা দেওয়া যানবাহনের চিত্র:
১.বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপা/ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৪ শিশু (৩৭.২৮%),
২.প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জীপের চাপা/ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১১ শিশু (৯.৩২%),
৩.থ্রি-হুইলার ও নসিমন-ভটভটির চাপা/ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৯ শিশু (৪১.৫২%)
৪.বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কাায় নিহত হয়েছে ১৪ শিশু (১১.৮৬%)।
শিশু নিহত হওয়া সড়কের ধরন:
শিশু নিহত হওয়া সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহাসড়কে ৫২ শিশু (২২.৫১%), আঞ্চলিক সড়কে ৮৫ শিশু (৩৬.৭৯%), গ্রামীণ সড়কে ৫৬ শিশু (২৪.২৪%) এবং শহরের সড়কে ৩৮ শিশু (১৬.৪৫%) নিহত হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ:
দুর্ঘটনাসমূহ ভোরে ৬টি (২.৫৯%), সকালে ৬১ (২৬.৪০%) দুপুরে ৬৮টি (২৯.৪৩%), বিকালে ৫৭টি (২৪.৬৭%), সন্ধ্যায় ২২টি (৯.৫২%) এবং রাতে ১৭টি (৭.৩৫%) ঘটেছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের বয়স ভিত্তিক বিশ্লেষণ:
১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ৪১টি (১৭.৭৪%), ৬ বছর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ৮৬টি (৩৭.২২%) এবং ১৩ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ১০৪টি (৪৫.০২%)।
সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণসমূহ:
১. দেশের সড়ক ও সড়ক পরিবহন শিশুবান্ধব না হওয়া,
২. সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে শিশুদের মধ্যে সচেতনতার অভাব,
৩. পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ না দেওয়া,
৪. অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক কর্তৃক যানবাহন চালানো,
৫. দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট,
৬. আহত শিশুদের চিকিৎসায় পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা।
দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের ঘটনা পর্যালোচনা:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময়, বসতবাড়ির আশে-পাশের সড়কে খেলাধুলার সময় নিহতের ঘটনা বেশি ঘটেছে। আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ি ঘেঁষা। ঘরের দরজা খুললেই সড়ক- এমন অবস্থা! এসব সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকে না। ফলে যানবাহনসমূহ বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। আবার শিশুরাও সড়ক ব্যবহারের কোনো নিয়ম-নীতি জানে না। এই অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে আমাদের শিশুরা নিহত হচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে। এটা অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ প্রতিটি শিশুই অমিত সম্ভাবনাময় এবং আজকের শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ।
সৈয়দ আমিরুজ্জামানের প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ :
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “দুর্ঘটনার এই চিত্র বাংলাদেশের সড়কে নিরাপত্তাহীনতা ও সীমাহীন অব্যবস্থার চিত্রই প্রকাশ পেয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাড়ি চালনার প্রাথমিক শিক্ষা কোর্স (ব্যবহারিক সহ) চালু করাসহ দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করা, চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করা,পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্ব রাস্তা (সার্ভিস রোড) তৈরি করা, সকল সড়ক-মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার করা, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের উপর চাপ কমানো, গণপরিবহন উন্নত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে মোটরসাইকেল ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা, সড়ক, নৌ ও রেলপথে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করাসহ
সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিমালা যথাযথ বাস্তবায়নে নতুন নতুন কৌশল ও ডিজিটালাইজড উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে হবে। সর্বোপরি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও ডিজিটাইজড করতে হবে। এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে প্রায় দুই বছর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন প্রজেক্ট পাঠানো হয়েছে, তা বাস্তবায়ন জরুরি।
যাত্রী ও পথচারীদের ব্যক্তি নিরাপত্তা ও বিধি-বিধান প্রতিপালনে সচেতন হতে হবে। নাগরিকদের মধ্যে আইন ও শৃঙ্খলা মানার সংস্কৃতি সৃষ্টি করতে হবে। সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যথাযথ আইন প্রয়োগে সহায়তা প্রদান করতে হবে।
প্রশাসন, পুলিশ, বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথ, মালিক, চালক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয়ভাবে সেল তৈরি করে এবং প্রতি বিভাগ ও জেলায় একইভাবে সেল গঠন করে নিয়মিত মনিটরিং ও পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং এ সেলকে সর্বদাই সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এভাবেই সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করা সম্ভব।”

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি