লক্ষীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ: আইনজীবীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২৬

লক্ষীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ: আইনজীবীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

Manual6 Ad Code

মেহেদী হাসান রাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি | লক্ষীপুর, ০৪ মে ২০২৬ : লক্ষীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ফারুক হোসেন পরান লক্ষীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, লক্ষীপুর জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহ প্রকাশ করলে স্থানীয় মুসল্লিরা তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ মে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে চর লামছি নতুন জামে মসজিদের ভেতরে ফারুক হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ফারুক হোসেন পরান বাদী হয়ে অ্যাডভোকেট আমির হোসেন (৩০), মো. মাসুদ আলম ফরহাদ (৩৫) ও মো. শিবলু (২৫)-কে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে মসজিদের সামনে পুনরায় তাকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

আহত ফারুক হোসেন লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার অনুযায়ী তার চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

Manual7 Ad Code

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, জুমার নামাজের পর মসজিদ কমিটির পদ নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আমির হোসেন। তিনি দাবি করেন, ফারুক হোসেনের কাছে তার প্রায় ১৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা মসজিদ কমিটি সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

লক্ষীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান পাটোয়ারী বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কোনো আইনজীবী অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে সমিতির পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

Manual7 Ad Code

লক্ষীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজিব জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মারধরের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Manual7 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ