আখচাষী নেতা শহীদ কমরেড আব্দুস সালামের ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২২, ২০২৬

আখচাষী নেতা শহীদ কমরেড আব্দুস সালামের ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ

Manual6 Ad Code
  • খুনিদের বিচারকাজ সম্পন্নের দাবি; আখচাষী আন্দোলনে তাঁর অবদানের স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা/লালপুর (নাটোর), ২২ জুন ২০২৬ : উত্তরাঞ্চলের আখচাষী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা এবং কৃষক-শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রসৈনিক শহীদ কমরেড আব্দুস সালামের ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন তাঁর সংগ্রামী জীবন, কৃষকবান্ধব রাজনৈতিক ভূমিকা এবং আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।

১৯৯২ সালের ২২ জুন সকাল প্রায় ১০টার দিকে নাটোরের লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ২ নম্বর গেটের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন কমরেড আব্দুস সালাম। তাঁর হত্যাকাণ্ড তৎকালীন সময়ে উত্তরাঞ্চলের কৃষক আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় কৃষক সংগঠন, রাজনৈতিক কর্মী এবং মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিবেদিত জীবন

কমরেড আব্দুস সালাম ছিলেন উত্তরবঙ্গের আখচাষীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের একজন সুপরিচিত নেতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, কৃষকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ, চিনি শিল্প রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কৃষকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করেন।

স্থানীয় কৃষক নেতাদের মতে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় তাঁর আপসহীন ভূমিকা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছিল। তিনি শুধু আখচাষীদের সমস্যা নিয়েই নয়, বরং গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, ভূমিহীন কৃষকের অধিকার এবং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

রাজনৈতিক সহকর্মীরা বলেন, কমরেড আব্দুস সালাম ছিলেন এমন একজন সংগঠক, যিনি মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে থেকে তাদের সমস্যা বুঝতেন এবং সেই সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের জন্য নিরলসভাবে কাজ করতেন। তাঁর নেতৃত্বে উত্তরাঞ্চলে কৃষক আন্দোলন একটি সুসংগঠিত রূপ লাভ করে।

হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে উদ্বেগ

শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান শহীদ কমরেড আব্দুস সালামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, “কমরেড আব্দুস সালাম ছিলেন কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের একজন সাহসী সৈনিক। তাঁর আত্মত্যাগ দেশের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, তাঁর হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পরও বিচারকাজ সম্পূর্ণ হয়নি। আমরা অবিলম্বে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “শহীদ সালামের আদর্শ ও সংগ্রামের চেতনা নতুন প্রজন্মের কৃষক-শ্রমিক নেতাদের অনুপ্রাণিত করছে। তাঁর স্বপ্ন ছিল শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য অর্জনে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

স্মরণ কর্মসূচি

শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে নাটোরের লালপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, স্মরণসভা, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া ও শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কৃষক সংগঠন ও বামপন্থী রাজনৈতিক নেতারা এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শহীদ আব্দুস সালামের জীবন ও সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন।

বক্তারা বলেন, দেশের কৃষি ও চিনি শিল্প আজও নানা সংকটের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে কমরেড আব্দুস সালামের আন্দোলনের ইতিহাস নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। কৃষকের ন্যায্য অধিকার, উৎপাদিত ফসলের লাভজনক মূল্য এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কৃষি খাতের উন্নয়নের দাবিগুলো এখনও প্রাসঙ্গিক।

ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকা এক সংগ্রামী নাম

কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কমরেড আব্দুস সালামের জীবন ও আত্মত্যাগ কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার স্মৃতি নয়; এটি বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি যে আদর্শ ও সংগ্রামের পথ দেখিয়ে গেছেন, তা আজও কৃষক-শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগায়।

তাঁর ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, শহীদ কমরেড আব্দুস সালামের অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং তাঁর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন।

আখক্ষেতের রক্তলেখা শহীদ সালাম
— সৈয়দ আমিরুজ্জামান |

আজও জুনের রৌদ্রঝরা সেই বাইশে দিনের ক্ষণ,
উত্তরের মাঠে জেগে ওঠে শোকের গভীর মন।
লালপুরের পথের ধারে, চিনিকলের গেট,
রক্তমাখা ইতিহাসে আজও জাগে হাহাকার-স্মৃতির রেট।

আখপাতার ফাঁকে ফাঁকে বাতাস যখন বয়,
কৃষকেরা স্মরণ করে সেই সংগ্রামী জয়।
যে মানুষটি মাটির কাছে করেছিলেন অঙ্গীকার,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে গড়েছিলেন অধিকার।

নাম তাঁর আব্দুস সালাম, কমরেড বলে খ্যাত,
শ্রমিক-কৃষক হৃদয়জুড়ে যার অমলিন প্রভাত।
সাধারণের দুঃখগাথা করেছিলেন আপন,
অভাবী মানুষের মুখে খুঁজেছেন দেশের মন।

ছিল না তাঁর প্রাসাদঘেরা জীবনের আয়োজন,
ছিল না কোনো স্বার্থলোভী ক্ষমতার অনুসরণ।
গ্রামের পথে ধূলিমাখা ছিল তাঁর চলার রীতি,
মানুষেরই সুখ-দুঃখে খুঁজতেন ভবিষ্যৎ-গীতি।

আখচাষীর ঘামে ভেজা মাটির প্রতিটি ঢেলা,
জানত তাঁর পদধ্বনির আপন স্নেহের মেলা।
বকেয়া টাকা, ন্যায্যমূল্য, উৎপাদনের দাম,
এসব নিয়েই উচ্চারিত হতো সালামের নাম।

যখন মাঠের কৃষক তখন হতাশ চোখে চায়,
শ্রমের মূল্য না পেয়ে বুকের ভেতর ক্ষয়,
তখন তিনি দাঁড়িয়েছেন সাহস নিয়ে পাশে,
দুর্দিনেরও অন্ধকারে আলো জ্বেলে আশে।

Manual2 Ad Code

চিনিশিল্পের দুর্দশাতে উচ্চারণ করেছেন,
রাষ্ট্র যেন কৃষকেরই পাশে এসে দাঁড়ায় তখন।
কারখানার চাকা ঘুরুক শ্রমিকের অধিকার নিয়ে,
আখের ঘ্রাণে দেশ ভরুক ন্যায়ের আলোক দিয়ে।

Manual3 Ad Code

ভূমিহীনের কান্নাধ্বনি শুনেছেন গভীর কানে,
মেহনতি জনতার কথা তুলেছেন সভামঞ্চখানে।
শোষণের সব দেয়াল ভেঙে নতুন দিনের ডাক,
সেই আহ্বানে জেগেছিল বহু তরুণের চোখ।

তিনি ছিলেন সংগঠক এক দৃঢ় প্রত্যয়ের নাম,
অন্যায়ের সামনে মাথা নোয়াননি অবিরাম।
কৃষকের ঘরে বসে বসে শুনেছেন শত কথা,
দুর্দশাগ্রস্ত মানুষেরই করেছেন ব্যথার কথা।

উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠের বুকে,
সালামেরই সংগ্রামের গান উঠত সুখে-দুঃখে।
হাটের চায়ের দোকানজুড়ে চলত তাঁরই কথা,
কীভাবে পাবে কৃষক তার ন্যায্য জীবনের ব্যাখ্যা।

কোনো মঞ্চের অলঙ্কার নয়, তিনি ছিলেন প্রাণ,
আন্দোলনের অগ্রভাগে উচ্চারণিত গান।
দাবির পক্ষে মিছিল গড়ে পথ দেখিয়েছেন তিনি,
কৃষকেরও রাষ্ট্র আছে—শিখিয়েছেন সেই ঋণী।

তবু ইতিহাস জানে কত নির্মম অন্ধকার,
স্বার্থান্ধতার বিষদাঁতে রক্তাক্ত হয় অধিকার।
বাইশে জুন, সকালবেলা, সূর্য তখন জাগে,
মানুষ চলেছে কর্মপথে আপন দিনের ভাগে।

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের দ্বিতীয় গেটের কাছে,
অপেক্ষায় ছিল ঘাতকেরা নৃশংসতার নাচে।
প্রকাশ্য দিনের আলোকমাঝে গর্জে ওঠে গুলি,
এক মুহূর্তে স্তব্ধ হলো সংগ্রামী কণ্ঠখানি।

লুটিয়ে পড়ল সাহসী এক কৃষকনেতার দেহ,
আকাশজুড়ে ছড়িয়ে গেল বেদনার দীর্ঘ স্নেহ।
আখপাতাগুলো কেঁপে উঠল শোকে স্তব্ধ হয়ে,
নদীর জলে ব্যথার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল বয়ে।

কৃষকেরা ছুটে এলেন, স্তব্ধ হলো প্রাণ,
কেড়ে নিল কারা হঠাৎ মানুষের সেই গান!
যে মানুষটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন ঢাল,
তাঁরই বুকে রক্ত ঝরল নিষ্ঠুর হত্যাজাল।

Manual1 Ad Code

সেদিন শুধু একটি প্রাণের অবসান হয়নি,
কৃষকের বহু স্বপ্ন যেন ক্ষতবিক্ষত হয়েই রই।
মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে ছিল ইতিহাস নির্বাক,
রাষ্ট্র ও সমাজ শুনেছিল জনতার প্রতিবাদ-ডাক।

তিন দশকেরও অধিককাল চলে গেছে আজ,
তবু বিচার অপূর্ণ রয়ে প্রশ্ন তোলে সমাজ।
স্বজনদের চোখের জলে জমে আছে ক্ষোভ,
কেন আজও সত্যের পথে জাগে না ন্যায়ের রৌদ্ররব?

যে হত্যার সাক্ষী ছিল দিনের খোলা আলো,
তারই বিচার পেতে কেন এত দীর্ঘকাল গেল?
গণতন্ত্রের মানচিত্রে এই প্রশ্ন জাগে বারংবার,
বিচারহীনতা কখনো কি পারে দিতে অধিকার?

যারা রক্তে ভিজিয়েছে সংগ্রামের পতাকা,
তাদের দায় ইতিহাসে থাকবে অনির্বাণ লেখা।
আইনের পথ সম্পূর্ণ হোক, পূর্ণ হোক বিচার,
শহীদের প্রতি এটাই আজ মানুষের অঙ্গীকার।

তবে সালাম কেবল নন কোনো স্মৃতিফলক নাম,
তিনি যেন আন্দোলনের চিরজাগ্রত ধ্বনি অবিরাম।
যখন কৃষক ন্যায্য দামের জন্য পথে নামে,
সালামেরই ছায়া তখন মিশে থাকে সেই থামে।

যখন শ্রমিক মজুরি চেয়ে উঁচু করে হাত,
তাঁরই শিক্ষা জাগায় তখন সংগ্রামের প্রভাত।
যখন ভূমিহীন মানুষ চায় বেঁচে থাকার স্থান,
তাঁরই কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হয় অজস্র প্রাণ।

আজও দেশের কৃষিখাতে সংকট ঘনায়মান,
মূল্যহীনতায় ভেঙে পড়ে উৎপাদনের গান।
মধ্যস্বত্বের দৌরাত্ম্যে ক্লান্ত কৃষকের প্রাণ,
তবু তারা আশা খোঁজে নতুন দিনের টান।

চিনিকলের ধোঁয়া কোথায়? কোথায় সেই শব্দ?
অনেক কারখানা আজও যেন সময়ের কাছে বন্দী।
আখচাষীর ঘামে ভেজা ফসল যখন রয়,
ন্যায্য মূল্য না পেলে তার জীবন শুধু ক্ষয়।

Manual2 Ad Code

এই প্রেক্ষাপট মনে করায় সালামেরই কথা,
কৃষিবান্ধব রাষ্ট্র গড়ার সুদূরপ্রসারী ব্যথা।
উৎপাদকের মর্যাদা আর বাজারের ন্যায়বোধ,
এসব নিয়েই গড়েছিলেন তিনি সংগ্রামের সেতুবন্ধ।

তাঁর স্বপ্ন ছিল এমন দেশ, বৈষম্যহীন ভূমি,
যেখানে শ্রমের সম্মান হবে সভ্যতারই ভূমি।
কেউ থাকবে না বঞ্চিত হয়ে ক্ষমতার প্রাচীরে,
মানুষ জিতবে মানুষেরই ন্যায়সংগত অধিকার ঘিরে।

শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার যে প্রত্যয়ী গান,
আজও তা অনুপ্রেরণা দেয় অগণিত প্রাণ।
তরুণ কর্মী, কৃষক নেতা, শ্রমিক সংগঠক,
তাঁর জীবন থেকে নেয় পথচলার আলোক।

বার্ষিকীর এই দিনে তাই শ্রদ্ধার নত শির,
স্মরণ করি এক সংগ্রামী মানুষের গৌরব-নির্ঝর।
পুষ্পস্তবক, সভা-সমাবেশ, স্মৃতিচারণ ধ্বনি,
সবকিছুরই অন্তরালে তাঁর আদর্শের বাণী।

দোয়ার মৃদু উচ্চারণে, কবিতার পঙ্‌ক্তিমালা,
মিছিলভরা কণ্ঠস্বরে ফিরে আসে জ্বালা।
শহীদেরা কখনো নন ইতিহাসের অন্ত,
তাঁদের ত্যাগে জেগে থাকে ভবিষ্যতের প্রান্ত।

আখক্ষেতের সবুজ পাতায় রৌদ্র যখন নামে,
মনে হয় সালাম হাঁটছেন কৃষকেরই থামে।
গ্রামবাংলার কাঁচা পথে ধূলি উড়িয়ে ধীর,
মানুষের অধিকারের গান গাইছেন অবিরত স্থির।

রক্তের দাগ মুছে যায় না সময়ের প্রবাহে,
সত্যের দীপ জ্বলতে থাকে মানুষেরই চাহে।
তাঁর আত্মদান শেখায় আজ দৃঢ়তারই পাঠ,
ন্যায়ের জন্য সংগ্রামই জীবনের প্রকৃত সাথ।

হে শহীদ কমরেড সালাম, গ্রহণ করো প্রণাম,
বাংলার কৃষক হৃদয়ে জাগরুক তোমার নাম।
তোমার রক্তে রঞ্জিত পথ আজও দেয় দিশা,
অধিকারহীন মানুষের মুখে জ্বালে আশা।

যতদিন আখের ক্ষেতে শিশির ঝরবে ভোরে,
যতদিন কৃষক বীজ বুনবে নতুন স্বপ্ন ঘোরে,
যতদিন শ্রমিক ঘাম ঝরাবে কারখানার দ্বারে,
ততদিন তোমার স্মৃতি থাকবে বাংলার অন্তরে।

যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে উঠবে প্রতিবাদ,
ততদিন তোমার সংগ্রাম করবে নতুন উন্মাদ।
যতদিন ন্যায়ের পতাকা উড়বে আকাশময়,
ততদিন আব্দুস সালাম মানুষের হৃদয়ে রয়।

ইতিহাসের অক্ষরে অক্ষরে লেখা থাকবে নাম,
কৃষক-শ্রমিক মেহনতি জনতার প্রিয় সালাম।
শাহাদাতের এই দিবসে নব শপথের ডাক—
বিচার হোক, অধিকার হোক, জাগুক জনতার হাক।

রক্তমাখা সেই প্রভাতের ঋণ শোধ হবে কবে?
যখন ন্যায় দাঁড়াবে দৃপ্ত হয়ে সত্যেরই রথে।
যখন কৃষক পাবে তার শ্রমের পূর্ণ মান,
যখন মানুষের জয়গান হবে রাষ্ট্রের গান।

সেই দিনের প্রত্যাশাতে আজও জাগে প্রাণ,
শহীদ কমরেড আব্দুস সালাম—সংগ্রামের মহাগান।
বাংলার মাটির গভীর থেকে উচ্চারিত অবিরাম,
কৃষকের হৃদস্পন্দনে বেঁচে থাকো, কমরেড সালাম।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ