সিলেট ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২৬
প্রতারকের ব্যাংকে অবাধ চলাফেরা নিয়ে প্রশ্ন, তদন্ত ও অর্থ উদ্ধারের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৪ জুলাই ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এনসিসি (এনসিসি) ব্যাংকের একটি শাখার ভেতরে ডেকে নিয়ে এক বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে কৌশলে সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, নিজেকে ব্যাংকের কর্মচারী পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ব্যাংকের ভেতরেই তার সঙ্গে লেনদেনের অভিনয় করে ধাপে ধাপে বিকাশের মাধ্যমে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ‘ইকো শপ’ নামে বিকাশ এজেন্ট মো. রায়হান মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রায়হান মিয়া বলেন, গত জুন মাসে নিজেকে এনসিসি ব্যাংকের শ্রীমঙ্গল শাখার একজন কর্মচারী পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তার সঙ্গে পরিচিত হন। ওই ব্যক্তি বিকাশের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক লেনদেনের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত ব্যবসার আশ্বাস দেন। এভাবে বিশ্বাস অর্জনের পর গত ২৮ জুন তাকে ব্যাংকে আসতে বলেন।
রায়হান মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে তিনি এনসিসি ব্যাংকের শ্রীমঙ্গল শাখায় গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ব্যাংকের ভেতরে গ্রহণ করেন এবং স্টাফ কক্ষে বসান। সেখানে ব্যাংকের এক কর্মচারীর মাধ্যমে প্রথমে কফি এবং পরে বিরিয়ানি পরিবেশন করা হয়। খাবার গ্রহণের পর তিনি অস্বাভাবিক ঝিমুনি ও অসুস্থতা অনুভব করতে থাকেন।
তিনি দাবি করেন, ওই অবস্থায় প্রতারক তাকে বিভিন্ন অজুহাতে ছয়টি বিকাশ নম্বরে ধাপে ধাপে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। প্রতিবারই তাকে আশ্বস্ত করা হয়, বিকাশে পাঠানো টাকার সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে নগদ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করে তিনি টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু টাকা পাঠানোর কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যান। পরে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
সংবাদ সম্মেলনে রায়হান মিয়া অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা ব্যাংকের সুনামের কথা বিবেচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের পরিচিত নন।
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি ওই ব্যক্তি ব্যাংকের কেউ না হন, তাহলে কীভাবে তিনি দীর্ঘ সময় ব্যাংকের ভেতরে অবস্থান করলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করলেন এবং স্টাফ কক্ষে প্রবেশের সুযোগ পেলেন—এ বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী আরও জানান, ঘটনার পর তিনি শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তার দাবি, ফুটেজে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ব্যাংকের সামনে তাকে গ্রহণ করা এবং পরে ব্যাংকের বিভিন্ন স্থানে অবাধে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। তবে ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পার হলেও অভিযোগটি এখনো নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি প্রতারণার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং তার খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিসি ব্যাংকের শ্রীমঙ্গল শাখার ব্যবস্থাপক জয় দীপ বিশ্বাস বলেন, ঘটনার দিন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি দুই নারী-পুরুষের নামে প্রায় দেড় কোটি টাকার এফডিআর করার প্রস্তাব নিয়ে ব্যাংকে এসেছিলেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন কর্মচারীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেন এবং নিজেকে ব্যাংকের স্টাফ হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল নেন।
ব্যাংক ব্যবস্থাপক বলেন, ‘গ্রাহক হিসেবে তিনি কফি ও বিরিয়ানি খাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সৌজন্যতার অংশ হিসেবে তা পরিবেশন করা হয়। তবে বিকাশ এজেন্ট যে বিভিন্ন নম্বরে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পাঠাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে অবহিত করেননি। প্রতারক ব্যাংক ত্যাগ করার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি আমাদের জানালে আমরা প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের পক্ষ থেকে তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ব্যাংকের ভেতরে নিজেকে কর্মচারী পরিচয় দিয়ে একজন ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারলেন এবং একজন গ্রাহকের সঙ্গে এমন আর্থিক প্রতারণার সুযোগ পেলেন—এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাই ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি