শ্রীমঙ্গলে কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ১১:১৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের প্রতিবাদ

Manual8 Ad Code
  • প্রবীণ, নারী ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের দুর্ভোগের আশঙ্কা; পূর্বের কেন্দ্র বহালের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৬ আগস্ট ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নম্বর কালাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Manual5 Ad Code

কেন্দ্রটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হলে সাধারণ ভোটারদের, বিশেষ করে প্রবীণ, নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটারদের ভোটদানে ভোগান্তি বাড়বে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

Manual2 Ad Code

রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় কালাপুর বাজারে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের ভোটার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় বক্তারা দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি বহাল রাখার দাবি জানান।

প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি হাজী মো. সোনা মিয়া।

হঠাৎ কেন্দ্র পরিবর্তনে ক্ষোভ

সভায় বক্তারা বলেন, কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটারদের কাছে পরিচিত, সহজগম্য ও সুবিধাজনক ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বছরের পর বছর এই কেন্দ্রেই এলাকার মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। ফলে ভোটারদের কাছে কেন্দ্রটির অবস্থান ও যাতায়াতব্যবস্থা সুপরিচিত।

তবে সম্প্রতি এলাকাবাসী জানতে পারেন, বিদ্যমান কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি পরিবর্তন করে উত্তর কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুরুষ ভোটারদের জন্য পৃথক কেন্দ্র করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের একটি ভোটকেন্দ্র কোনো ধরনের বাস্তবসম্মত প্রয়োজন ছাড়া হঠাৎ পরিবর্তন করা হলে সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক ভোটার, নারী, অসুস্থ ব্যক্তি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য অতিরিক্ত দূরত্ব বা অপরিচিত পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত করা কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে।

Manual1 Ad Code

‘পুরোনো কেন্দ্রেই স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দেন মানুষ’

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা আরও বলেন, কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র থাকাকালে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে আসছেন। কেন্দ্রটির সঙ্গে ভোটারদের দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে এবং এর অবস্থানও তাদের জন্য সুবিধাজনক।

Manual7 Ad Code

তাদের মতে, ভোটকেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের জন্য সহজ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান কেন্দ্রটি বহাল রাখাই অধিক যৌক্তিক। কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন হলে তা করার আগে স্থানীয় ভোটারদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে সরেজমিনে যাচাই করা জরুরি বলেও মত দেন তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেন্দ্র স্থানান্তরের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে অনেক ভোটারকে নতুন স্থানে গিয়ে ভোট দিতে হবে। এতে ভোটার উপস্থিতি ও ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সরেজমিন তদন্তের দাবি

প্রতিবাদ সভা থেকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রতি কেন্দ্র স্থানান্তরের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। এলাকাবাসী জানান, তারা শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাচন অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

লিখিত আবেদনে কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থান, ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধা এবং কেন্দ্রটি পরিবর্তন করলে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো সরেজমিনে তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হবে বলে সভা থেকে জানানো হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, কোনো প্রশাসনিক বা কারিগরি কারণে কেন্দ্র পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন স্থানীয় ভোটারদের মতামত ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে তারা কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেই ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র হিসেবে বহাল রাখার জোর দাবি জানান।

উপস্থিত ছিলেন যারা

প্রতিবাদ সভায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. মনর মিয়া, মো. সুন্দর মিয়া, জমসেদুর রহমান, মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ, মানিক মিয়া, মো. রোমান মিয়া, মো. শামিম মিয়া, মো. আলাল মিয়াসহ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ ভোটার ও এলাকাবাসী।

সভা শেষে বক্তারা বলেন, ভোটকেন্দ্র শুধু একটি ভোটগ্রহণের স্থান নয়; এটি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তাই দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত ও ভোটারদের কাছে সুবিধাজনক কেন্দ্র পরিবর্তনের আগে সবদিক বিবেচনা করা দরকার। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে কালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি পুনর্বহালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে, কেন্দ্র স্থানান্তরের প্রস্তাব নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে যে উদ্বেগ ও আপত্তি তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং সরেজমিন যাচাইয়ের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ