আট ঘণ্টার কর্মদিবসের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক ঐক্যের সূচনা

প্রকাশিত: ৪:০৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২৬

আট ঘণ্টার কর্মদিবসের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক ঐক্যের সূচনা

Manual8 Ad Code

আজকের দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শ্রমিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয় | ছবি: ওয়েবলি

  • ১৮৬৬ সালের ২০ আগস্ট গঠিত ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়ন বদলে দেয় শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের গতিপথ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২০ আগস্ট ২০২৬ : শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টার সীমা এবং কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা—আজকের দিনে এসব অধিকারকে শ্রমজীবী মানুষের মৌলিক দাবি হিসেবে দেখা হলেও উনিশ শতকের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রে বিষয়গুলো ছিল তীব্র সংগ্রামের অংশ। শিল্পায়নের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে কারখানা ও উৎপাদন ব্যবস্থায় শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছিল, কিন্তু দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কম মজুরি ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। এমন এক সময়েই শ্রমিকদের দাবিকে জাতীয় পর্যায়ে সংগঠিত করার উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকরা।

Manual8 Ad Code

১৮৬৬ সালের ২০ আগস্ট বাল্টিমোরে প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়ন (National Labor Union—NLU)। সংগঠনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের শ্রমিক সংগঠন বা শ্রমিক ফেডারেশন হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। এর অন্যতম প্রধান দাবি ছিল—প্রতিদিনের কর্মদিবস আট ঘণ্টায় সীমিত করা।

আজকের দিনে আট ঘণ্টার কর্মদিবস, সাপ্তাহিক ছুটি ও নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনেক দেশের শ্রম আইনের স্বীকৃত অংশ। কিন্তু এই অধিকার অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আন্দোলন, ধর্মঘট, রাজনৈতিক চাপ এবং শ্রমিক সংগঠনের বহু বছরের সংগ্রাম। সেই দীর্ঘ ইতিহাসে ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

শিল্পবিপ্লব ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টার বাস্তবতা

উনিশ শতকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যায়। রেলপথ, খনি, বস্ত্র, ধাতু, জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন শিল্পে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করতে শুরু করেন। গ্রাম থেকে শহরে মানুষের আগমন বাড়ে এবং শিল্পাঞ্চলগুলোতে গড়ে ওঠে নতুন শ্রমবাজার।

তবে শিল্পায়নের সুফল শ্রমিকদের জীবনে সমানভাবে পৌঁছায়নি। অনেক শ্রমিককে প্রতিদিন ১০, ১২ এমনকি তারও বেশি ঘণ্টা কাজ করতে হতো। কর্মপরিবেশ ছিল কঠিন; দুর্ঘটনা ও পেশাগত ঝুঁকির পাশাপাশি ছিল চাকরির অনিশ্চয়তা। শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগও ছিল সীমিত।

এই বাস্তবতায় শ্রমিকদের মধ্যে ধীরে ধীরে একটি ধারণা শক্তিশালী হতে থাকে—শুধু স্থানীয়ভাবে দাবি জানিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়; প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত সংগঠন।

আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা অবসর, আট ঘণ্টা বিশ্রাম’

শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম জনপ্রিয় স্লোগান হয়ে ওঠে—“Eight hours for work, eight hours for rest, and eight hours for what we will”—অর্থাৎ আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম এবং বাকি আট ঘণ্টা নিজের মতো করে কাটানোর অধিকার।

এই দাবির মূল লক্ষ্য ছিল শ্রমিকের জীবনকে শুধু কারখানা বা কর্মক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা। শ্রমিকেরও পরিবার, সামাজিক জীবন, শিক্ষা, বিনোদন ও ব্যক্তিগত সময়ের অধিকার আছে—আট ঘণ্টার কর্মদিবসের দাবির মধ্য দিয়ে সেই ধারণাই সামনে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রে আট ঘণ্টার কর্মদিবসের দাবি ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়নের আগে থেকেই শ্রমিক আন্দোলনে উচ্চারিত হচ্ছিল। তবে ১৮৬৬ সালে জাতীয় পর্যায়ে সংগঠিত শ্রমিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দাবিটি আরও সুস্পষ্ট রাজনৈতিক রূপ পায়।

বাল্টিমোরে ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠা

১৮৬৬ সালের আগস্টে বাল্টিমোরে অনুষ্ঠিত শ্রমিকদের জাতীয় সম্মেলন থেকে ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়নের জন্ম। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিকদের জাতীয় পর্যায়ের দাবিদাওয়া সামনে আনার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।

সংগঠনটির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন উইলিয়াম এইচ. সিলভিস (William H. Sylvis)। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং বিভিন্ন কারিগরি ও শ্রমিক সংগঠনকে বৃহত্তর ঐক্যের আওতায় আনার পক্ষে সক্রিয় ছিলেন।

ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়নের লক্ষ্য ছিল কেবল মজুরি বাড়ানোর দাবি নয়; শ্রমিকের কর্মঘণ্টা কমানো, শ্রমিক সংগঠনের অধিকার, রাজনৈতিক সংস্কার এবং শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন নিয়েও সংগঠনটি কাজ করে।

কেন আট ঘণ্টার কর্মদিবস এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল

আজকের হিসাবে দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মদিবসকে স্বাভাবিক মনে হলেও সে সময় এটি ছিল অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী দাবি। দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ পড়ত। পরিবারকে সময় দেওয়া, সন্তানদের সঙ্গে থাকা, শিক্ষা গ্রহণ কিংবা সামাজিক জীবনে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল সীমিত।

Manual8 Ad Code

আট ঘণ্টার দাবির মধ্যে তাই শুধু কর্মঘণ্টা কমানোর প্রশ্ন ছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল শ্রমিকের মানবিক মর্যাদা ও জীবনযাপনের অধিকার।

শ্রমিক নেতারা যুক্তি দিতেন, উৎপাদনের প্রধান শক্তি শ্রমিক। তাই উৎপাদন বাড়ানোর স্বার্থে শ্রমিককে সীমাহীন সময় কাজ করিয়ে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও অবসর নিশ্চিত করা হলে উৎপাদনশীলতাও বাড়তে পারে।

Manual2 Ad Code

ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়নের রাজনৈতিক ভূমিকা

ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়ন শ্রমিক আন্দোলনকে শুধু কারখানা বা কর্মক্ষেত্রের দর-কষাকষির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। সংগঠনটি উপলব্ধি করেছিল, শ্রম আইন ও সরকারি নীতিতে পরিবর্তন আনতে হলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও শ্রমিকদের উপস্থিতি প্রয়োজন।

এ কারণে সংগঠনটি শ্রমিকবান্ধব আইন প্রণয়নের পক্ষে জনমত তৈরি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। আট ঘণ্টার কর্মদিবসকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও এ সময় জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব পেতে শুরু করে।

১৮৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের কিছু কর্মচারীর জন্য আট ঘণ্টার কর্মদিবস নির্ধারণে আইন পাস হয়। তবে এটি সব শ্রমিকের জন্য সার্বজনীন আট ঘণ্টার কর্মদিবস প্রতিষ্ঠা করেনি। বাস্তবে বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হয়েছে।

তবু ১৮৬৬ সালের শ্রমিক সংগঠনের দাবির কয়েক বছরের মধ্যেই ফেডারেল পর্যায়ে আট ঘণ্টার কর্মদিবস নিয়ে আইন হওয়ার ঘটনা আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

Manual1 Ad Code

শ্রমিক সংগঠনের বিস্তৃত আন্দোলনের ভিত্তি

ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়নের সময়কাল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৮৭০-এর দশকের শুরুতে সংগঠনটি নানা অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে এবং ১৮৭৩ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর এর প্রভাব দ্রুত কমে যায়।

তবে কোনো সংগঠনের স্থায়িত্বই তার ঐতিহাসিক গুরুত্বের একমাত্র মাপকাঠি নয়। ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়ন শ্রমিকদের জাতীয় পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ করার যে ধারণা সামনে এনেছিল, পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক আন্দোলনে সেটির প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

এর পর যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক শ্রমিক সংগঠন গড়ে ওঠে। কারিগরি শ্রমিক, খনি শ্রমিক, রেলশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সংগঠিত হতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে Knights of Labor, American Federation of Labor (AFL) এবং আরও অনেক শক্তিশালী শ্রমিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আট ঘণ্টার দাবির দীর্ঘ পথ

আট ঘণ্টার কর্মদিবস একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। উনিশ শতকের শেষভাগে এই দাবিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে শ্রমিক আন্দোলন তীব্র হয়। ১৮৮৬ সালের হে মার্কেট আন্দোলন ও তার সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের আট ঘণ্টার কর্মদিবসের দাবি পরবর্তী শ্রম ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে ধর্মঘটে অংশ নেন। শিকাগোর হে মার্কেট স্কয়ারে শ্রমিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলে।

পরবর্তীকালে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে। ফলে ১৮৬৬ সালে ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়নের মাধ্যমে যে আট ঘণ্টার দাবি জাতীয় শ্রমিক রাজনীতির অংশ হয়েছিল, কয়েক দশকের মধ্যে সেটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবিতে পরিণত হয়।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্ব শ্রম আন্দোলনেও প্রভাব

আট ঘণ্টার কর্মদিবসের সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত কোনো একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। শিল্পায়নের বিস্তারের সঙ্গে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং পরে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও শ্রমিকরা কর্মঘণ্টা কমানো, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সংগঠনের অধিকার দাবি করতে শুরু করেন।

শ্রমিক আন্দোলনের দীর্ঘ সংগ্রামের ফলেই আধুনিক শ্রম আইনে কর্মঘণ্টার সীমা, ওভারটাইম, সাপ্তাহিক বিশ্রাম, ছুটি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং সংগঠনের অধিকারসহ নানা বিধান যুক্ত হয়েছে।

বিশ শতকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও (ILO)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শ্রমের আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে আট ঘণ্টার কর্মদিবস ধীরে ধীরে বিশ্বের বহু দেশে শ্রম অধিকার ও শ্রমনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডে পরিণত হয়।

আজকের শ্রমবাজারে সেই দাবির প্রাসঙ্গিকতা

প্রায় দেড় শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও আট ঘণ্টার কর্মদিবসের প্রশ্ন পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়নি। বরং প্রযুক্তির পরিবর্তন, গিগ অর্থনীতি, দূরবর্তী কাজ, অনলাইন প্ল্যাটফর্মভিত্তিক চাকরি এবং অনিশ্চিত কর্মসংস্থানের যুগে শ্রমিকের সময় ও অধিকারের প্রশ্ন নতুনভাবে সামনে এসেছে।

একদিকে প্রযুক্তি অনেক কাজকে দ্রুত ও সহজ করেছে; অন্যদিকে কর্মক্ষেত্র ও ব্যক্তিজীবনের সীমারেখাও অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট হয়েছে। মোবাইল ফোন, ই-মেইল ও অনলাইন যোগাযোগের কারণে কর্মঘণ্টার বাইরে কর্মীর ওপর কাজের চাপ তৈরি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে বিভিন্ন দেশে।

ফলে দেড় শতাব্দী আগে শ্রমিকরা যে প্রশ্ন তুলেছিলেন—কাজের সময়েরও কি একটি মানবিক সীমা থাকা উচিত নয়?—তা আজও বিভিন্ন রূপে প্রাসঙ্গিক।

ইতিহাসে ২০ আগস্টের তাৎপর্য

১৮৬৬ সালের ২০ আগস্ট ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি বাঁকবদলের ঘটনা। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের বিচ্ছিন্ন দাবিকে জাতীয় পর্যায়ে সংগঠিত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ দেখা যায়।

সংগঠনটি দীর্ঘস্থায়ী না হলেও এর সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার ছিল—শ্রমিকের অধিকারকে জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং কর্মঘণ্টাকে শ্রম অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে পরিণত করা।

আজকের আট ঘণ্টার কর্মদিবস, শ্রমিক সংগঠনের অধিকার কিংবা কর্মক্ষেত্রে মানবিক পরিবেশ—এসব অর্জনের পেছনে রয়েছে বহু প্রজন্মের শ্রমিকের আন্দোলন। সেই দীর্ঘ ইতিহাসে ১৮৬৬ সালের ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।

শ্রমিকের কাজের সময়কে সীমিত করা থেকে শুরু করে শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন, তার ইতিহাস মূলত একটি প্রশ্নের ইতিহাস—মানুষ কি শুধু উৎপাদনের যন্ত্র, নাকি তার শ্রমের পাশাপাশি অবসর, পরিবার ও নিজের জীবনেরও অধিকার রয়েছে? ১৮৬৬ সালের সেই শ্রমিক সংগঠন এই প্রশ্নটিকেই জাতীয় পরিসরে সামনে এনেছিল, যার প্রতিধ্বনি আজও বিশ্বের শ্রমবাজারে শোনা যায়।

১৬১২ সালের ২০ আগস্ট ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাস্টারে নয়জন ব্যক্তিকে জাদুবিদ্যার অভিযোগে ফাঁসি দেয়া হয়।

এক নজরে দেখে নেয়া যাক আজকের দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা, জন্ম ও মৃত্যু—

উল্লেখযোগ্য ঘটনা
১০০০ : প্রথম স্টিফেন হাঙ্গেরিকে খ্রিস্টান রাজ্যে পরিণত করেন।
১৫৭৮ : ফ্রান্সিস ড্রেক তার জাহাজের নাম ‘পেলিক্যান’ থেকে ‘গোল্ডেন হাইন্ড’ রাখেন।
১৬১২ : ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাস্টারে নয়জন ব্যক্তিকে জাদুবিদ্যার অভিযোগে ফাঁসি দেয়া হয়।
১৮৬৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ‘ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়ন’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯০৮ : কঙ্গো ফ্রি স্টেট বেলজিয়ান কঙ্গোয় পরিণত হয়।
১৯৪০ : উইনস্টন চার্চিল ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর প্রশংসা করে ঐতিহাসিক বক্তব্য দেন।
১৯৬৮ : সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন ওয়ারশ জোটের আড়াই লাখ সেনা চেকোস্লোভাকিয়া আক্রমণ করে।
১৯৭৭ : মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ‘ভোয়েজার ২’ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করে।

জন্ম
১৭৭৬ : বার্নার্দো ও’হিগিন্স, চিলির রাষ্ট্রনায়ক।
১৭৮৫ : অলিভার হ্যাজার্ড পেরি, মার্কিন নৌ কর্মকর্তা।
১৮৮৬ : পল টিলিখ, জার্মান ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক।
১৯১০ : ইয়েরো সারিনেন, মার্কিন স্থপতি।

মৃত্যু
১৮৯৯ : রবার্ট বুনসেন, জার্মান রসায়নবিদ।
২০১২ : ফিলিস ডিলার, মার্কিন কৌতুকশিল্পী।
২০১৩ : এলমোর লিওনার্ড, মার্কিন লেখক।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ