চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তা যাদব এখন হার্ভার্ডে

প্রকাশিত: ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২৬

চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তা যাদব এখন হার্ভার্ডে

Manual1 Ad Code
  • প্রায় ২ কোটি টাকার বৃত্তিতে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষা; লংলা থেকে বিশ্বমঞ্চে অনুপ্রেরণার নতুন গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক | কুলাউড়া (মৌলভীবাজার), ২২ আগস্ট ২০২৬ : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লংলা চা-বাগান। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সবুজ চা-বাগানে শুরু হয় শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। কাঁধে ঝুড়ি, হাতে চা-পাতা তোলার ব্যস্ততা—এই পরিবেশেই কেটেছে শান্তা যাদবের শৈশব ও বেড়ে ওঠার দিনগুলো।

চা-শ্রমিক পরিবারের সীমিত সামর্থ্য, নানা প্রতিকূলতা আর সুযোগের সংকটকে সঙ্গী করেই তিনি এগিয়েছেন শিক্ষার পথে।

আজ সেই শান্তা যাদবের ঠিকানা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের Master of Medical Sciences in Global Health Delivery (MMSc-GHD) প্রোগ্রামে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। জনস্বাস্থ্য বিষয়ে এই উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি পেয়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকা সমপরিমাণ বৃত্তি।

চা-বাগানের একজন শ্রমিক পরিবারের সন্তানের এমন অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তরুণদের জন্য সম্ভাবনারও একটি শক্তিশালী বার্তা। লংলা চা-বাগানের সবুজ পরিসর থেকে হার্ভার্ডের শ্রেণিকক্ষে পৌঁছে শান্তা যেন প্রমাণ করেছেন—সুযোগ ও অধ্যবসায় থাকলে জন্মের পরিচয় মানুষের স্বপ্নের সীমা নির্ধারণ করে না।

শ্রমিক পরিবারেই বেড়ে ওঠা

শান্তা যাদবের বাবা লক্ষীনারায়ণ যাদব ও মা রিনা যাদব—দুজনই লংলা চা-বাগানের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক। চা-বাগানের শ্রমজীবী মানুষের জীবন যেমন পরিশ্রমনির্ভর, তেমনি নানা সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ। আয়-রোজগারের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও চা-বাগান এলাকার মানুষের নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

এমন একটি পরিবারেই বেড়ে উঠেছেন শান্তা। তাঁর শৈশবের চারপাশে ছিল চা-বাগানের শ্রমজীবী মানুষের জীবন, অভাব-অনটন এবং প্রতিদিনের সংগ্রাম। তবে পরিবারের সীমিত সামর্থ্য তাঁর শিক্ষার আকাঙ্ক্ষাকে থামিয়ে দিতে পারেনি।

বরং বাবা-মায়ের সমর্থন ও নিজের দৃঢ় প্রত্যয়কে সঙ্গে নিয়ে তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছেন। চা-বাগানের যে বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন, পরবর্তী সময়ে সেটিই তাঁর চিন্তা ও আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ, স্বাস্থ্যগত বৈষম্য এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার বাস্তবতা তাঁর আগ্রহের কেন্দ্রে জায়গা করে নেয়।

শ্রীমঙ্গল থেকে চট্টগ্রাম

শান্তা যাদবের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় শুরু হয় শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজে। চা-বাগানঘেরা শ্রীমঙ্গলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই তিনি উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।

Manual6 Ad Code

পরে তিনি ভর্তি হন চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (AUW)-এ। সেখানে তিনি পাবলিক হেলথ বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

বাঁ থেকে শাওন্তী ইসলাম, তমা বর্মা, সুমাইয়া তাসনিম, সাবরিনা মনছুর, শান্তা যাদব, লক্ষ্মী মনি কুর্মী, দোলেনা খাতুন, আজিমা খাতুন, সোহানা আক্তার ও মার্জিয়া ইসলাম। ছবি: সৌরভ দাশ

AUW-এ অধ্যয়নকালে জনস্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর আগ্রহ আরও গভীর হয়। স্বাস্থ্যসেবা কেবল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয় নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আর্থসামাজিক অবস্থা, শিক্ষা, সচেতনতা, স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাঠামো এবং মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা—এই বৃহত্তর বাস্তবতা নিয়ে তাঁর ভাবনার পরিধি বাড়তে থাকে।

নিজের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাও তাঁর এই চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়। চা-বাগান ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জীবন কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে জনস্বাস্থ্যের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে।

হার্ভার্ডে নতুন অধ্যায়

পাবলিক হেলথে স্নাতক শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যান শান্তা। সেই পথ তাঁকে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের Master of Medical Sciences in Global Health Delivery (MMSc-GHD) প্রোগ্রামে তাঁর সুযোগ পাওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানব্যবস্থা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার নানা দিক নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন তিনি।

আর এই উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা সমপরিমাণ বৃত্তি পাওয়ায় তাঁর হার্ভার্ডযাত্রার আর্থিক বাধাও অনেকাংশে দূর হয়েছে।

একজন চা-শ্রমিকের সন্তান হিসেবে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন সুযোগ পাওয়া কুলাউড়া ও মৌলভীবাজারের মানুষের কাছেও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।

জনস্বাস্থ্য নিয়ে যে স্বপ্ন

শান্তার শিক্ষার ক্ষেত্রটি কেবল একটি একাডেমিক বিষয় নয়। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে মানুষের জীবনমান ও সামাজিক বৈষম্যের।

বাংলাদেশের চা-বাগানগুলোতে বসবাসকারী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। শিক্ষা, পুষ্টি, মাতৃ ও শিশুসেবা, চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ, স্বাস্থ্যসচেতনতা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে উন্নতির প্রয়োজন।

Manual4 Ad Code

শান্তা নিজেও এমন একটি বাস্তবতা থেকে উঠে এসেছেন। ফলে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে তাঁর উচ্চশিক্ষার পেছনে নিজের অভিজ্ঞতার প্রভাব রয়েছে বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

হার্ভার্ডে Global Health Delivery বিষয়ে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে তিনি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার কৌশল সম্পর্কে আরও গভীর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবেন।

ভবিষ্যতে সেই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার প্রত্যাশা তাঁর।

শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়

শান্তা যাদবের সাফল্যকে শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা বড় অঙ্কের বৃত্তি পাওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখলে এর ব্যাপ্তি হয়তো পুরোপুরি বোঝা যাবে না।

বাংলাদেশের চা-বাগানগুলোতে বেড়ে ওঠা বহু শিশু-কিশোরের সামনে উচ্চশিক্ষার পথ এখনও নানা কারণে কঠিন। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, শিক্ষার সুযোগের ঘাটতি, তথ্যের অভাব এবং সামাজিক বাস্তবতা—সবকিছু মিলিয়ে অনেকের স্বপ্ন অল্প বয়সেই থেমে যায়।

সেই বাস্তবতার বিপরীতে শান্তার গল্প একটি ভিন্ন বার্তা দেয়।

তিনি দেখিয়েছেন, প্রান্তিক একটি পরিবার থেকে উঠে এসেও বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো সম্ভব। প্রয়োজন দৃঢ় সংকল্প, ধারাবাহিক পরিশ্রম, শিক্ষার প্রতি মনোযোগ এবং সঠিক সময়ে পাওয়া সুযোগকে কাজে লাগানোর সক্ষমতা।

তাঁর এই অর্জন চা-বাগানের অন্য শিশুদের মধ্যেও নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস তৈরি করতে পারে।

লংলার সবুজ থেকে হার্ভার্ডের আঙিনা

লংলা চা-বাগানের জীবন ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ—দুটি বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব অনেক। একদিকে চা-শ্রমিক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম, অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিসর।

Manual8 Ad Code

কিন্তু শান্তা যাদবের জীবনের গল্প এই দুই প্রান্তকে একসূত্রে বেঁধেছে।

যে পরিবারে বাবা-মা দুজনই চা-বাগানের শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন কাটিয়েছেন, সেই পরিবারের সন্তান আজ বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর এই যাত্রা একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নিজের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল।

এটি লংলা চা-বাগানের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি কুলাউড়া ও মৌলভীবাজারের জন্যও অনুপ্রেরণার।

প্রান্তিকতার দেয়াল পেরিয়ে

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তরুণদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো সুযোগের সীমাবদ্ধতা। মেধা থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে পারেন না।

শান্তার পথও সহজ ছিল না। চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তান হিসেবে সীমিত সুযোগের মধ্যেই তাঁকে শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতে হয়েছে। কিন্তু প্রতিকূলতাকে তিনি নিজের পরিচয়ের সীমা হিসেবে গ্রহণ করেননি।

Manual5 Ad Code

বরং শিক্ষাকে করেছেন এগিয়ে যাওয়ার প্রধান হাতিয়ার।

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, সেখান থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল—এই ধারাবাহিকতা তাঁর শিক্ষাযাত্রার বিস্তৃত পরিসরকে তুলে ধরে।

নতুন প্রজন্মের জন্য বার্তা

শান্তা যাদবের অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো এর অনুপ্রেরণামূলক শক্তি। চা-বাগানের যে শিশুরা হয়তো প্রতিদিন নিজেদের চারপাশের বাস্তবতার মধ্যেই ভবিষ্যৎকে সীমাবদ্ধ করে দেখে, তাদের সামনে এখন একটি বাস্তব উদাহরণ রয়েছে।

এই উদাহরণ বলছে—চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান হয়েও হার্ভার্ডে পড়া সম্ভব।

অবশ্যই একটি ব্যক্তিগত সাফল্য দিয়ে পুরো চা-বাগান জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ, মানসম্মত শিক্ষা, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সহায়তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ সৃষ্টি। তবে শান্তার মতো সাফল্য সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করতে পারে।

তাঁর গল্প তাই শুধু একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প নয়; এটি সম্ভাবনার গল্প।

স্বপ্নেরও সীমানা নেই

লংলা চা-বাগানের সবুজ পাতার ভেতর দিয়ে যে পথ ধরে শান্তার বেড়ে ওঠা, সেই পথ এখন প্রতীক হয়ে উঠেছে তাঁর জীবনের এক বড় পরিবর্তনের।

চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তান থেকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের শিক্ষার্থী—এই যাত্রাপথে রয়েছে সংগ্রাম, অধ্যবসায়, শিক্ষা এবং স্বপ্নের প্রতি অবিচল থাকার গল্প।

শান্তা যাদবের সামনে এখন নতুন অধ্যায়। Global Health Delivery বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে তিনি কীভাবে কাজে লাগাবেন, সেটিই হবে তাঁর যাত্রার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

তবে এরই মধ্যে তাঁর অর্জন একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে—মানুষের জন্মপরিচয় তার স্বপ্নের চূড়ান্ত সীমা নয়।

লংলা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের ঘর থেকে হার্ভার্ডের আঙিনায় পৌঁছে শান্তা যাদব সেই কথাটিই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন। তাঁর সাফল্য শুধু তাঁর নিজের নয়; এটি চা-বাগানের অসংখ্য শিশু-কিশোর এবং বাংলাদেশের প্রান্তিক জনপদের তরুণদের জন্যও একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়ার গল্প।

সবুজ চা-বাগান থেকে বিশ্বমঞ্চে—শান্তা যাদবের এই যাত্রা তাই বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সম্ভাবনার এক অনুপ্রেরণাময় প্রতিচ্ছবি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ