জাতীয় ঐকমত্যের সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি

প্রকাশিত: ১১:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

জাতীয় ঐকমত্যের সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : সংবিধানের প্রচলিত সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ কিংবা রাষ্ট্রকাঠামোর সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম।

Manual6 Ad Code

অবিলম্বে জাতীয় ঐকমত্যের ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Manual3 Ad Code

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীতে সংসদের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সংস্কার পরিষদ গঠন না করা এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী আইন প্রণয়নের প্রতিবাদে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

Manual4 Ad Code

হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘আগের ১৭ বারের মতো সংবিধানের কেবল কোনো মামুলি সংশোধন করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ সম্ভব নয়, সেটাকে টেকসই করাও সম্ভব নয়।’ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের মাধ্যমে যে নতুন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, সংসদের ছয় মাস পার হলেও সরকার এখনো কার্যকর কোনো সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি। বরং সরকার সংবিধান সংশোধনের পুরোনো পথে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে র‌্যাবকে ভিন্ন নামে আরও সুসজ্জিত করা, গুমের পক্ষে আইন প্রণয়ন এবং দেশের জননিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে এসবের প্রতিবাদ জানান তিনি।

হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘কোনো প্রকার তালবাহানা না করে অবিলম্বে গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।’

সমাবেশে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, সংশোধনী কমিশন গঠন করে সংবিধানের ওপর দিয়ে কেবল কিছু উপরি কাঠামো পরিবর্তন করলে রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল সংকটের সমাধান হবে না। জনগণের মূল চাওয়া রাষ্ট্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। এ জন্য সরকারকে অবিলম্বে জাতীয় ঐকমত্যের সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার নজরুল হক বলেন, দেশে বেকারত্বের হার বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণে দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ আইন প্রণয়নের প্রস্তাব নিয়ে সমাবেশ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার ‘ঠুনকো কারণ’ দেখিয়ে তা বাতিল করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)-এর আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারে সরকার ও বিরোধী জোট আগ্রহী নয়—এটি এখন প্রমাণিত। গণরায় বাস্তবায়নে অন্যান্য অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব এবং জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী এহসান। এ ছাড়া বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার, গণরায়ের বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ