সংসার সামলে প্রথম বিসিএসেই এএসপি হয়ে ওঠার গল্প চবি ছাত্রী নুসরাত ইয়াছমিন তিসার!

প্রকাশিত: ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০

সংসার সামলে প্রথম বিসিএসেই এএসপি হয়ে ওঠার গল্প চবি ছাত্রী নুসরাত ইয়াছমিন তিসার!

Manual7 Ad Code

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম), ০৩ জুলাই ২০২০ : প্রথমবার বিসিএস দিয়েই এএসপি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নুসরাত ইয়াছমিন তিশা। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ওই ছাত্রী ৩৮তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

Manual8 Ad Code

জানা গেছে, দ্বিতীয় বর্ষেই তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয় তিসাকে। তবুও থেমে যাননি তিনি। ইসলামিক স্টাডিজে পড়েও বিসিএসের স্বপ্ন দেখতেন। আর একারণে তাকে নানা উপহাসও সহ্য করতে হয়েছে। অবশেষে সংসার সামলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রীটিই প্রথমবার বিসিএস দিয়ে এএসপি হয়েছেন।
তিসার ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছা ছিল পুলিশ হওয়ার। আর সেই ইচ্ছাটাই বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয়বর্ষে থাকা অবস্থায়ই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন চট্টগ্রামের হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়া তিসা। অনার্স শেষ করে তিনি বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। এসময় তাকে অনেক বঞ্চনা ও অবজ্ঞা সইতে হয়েছে। অনেকে নাক সিঁটকেছেন। বলেছেন, ‘ইসলামিক স্টাডিজ থেকে বিসিএস? তাও আবার বিবাহিত!’ মেয়ে হয়ে ‘পুলিশ’ হওয়ার ইচ্ছাটাও অনেকে সহ্য করতে পারেননি। তবে উপহাসকে জেদ হিসেবে নিয়েছেন তিসা। ‘পাছে লোকে কী বলবে’ না ভেবে উপেক্ষা করে বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায়ই সুযোগ পান প্রাথমিকে শিক্ষকতা করার। তবে ছয় মাস পরেই অবসর নেন শিক্ষকতা থেকে। কারণ, তার লক্ষ্য বিসিএস।

Manual7 Ad Code

জানা গেছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ফরহাদাবাদে জন্ম নিয়েছেন তিসা। তার পরিবারে চার ভাই-বোনের মধ্যে শুধু তারই সুযোগ হয়েছে উচ্চশিক্ষা অর্জনের। শ্বাশুড়ি, ননদ না থাকায় শ্বশুর বাড়ি শুরু হয়েছে ঘরের একমাত্র গৃহিণী হিসেবে। তবে বিসিএস হওয়ার পেছনে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরও অবদান রয়েছে বলে দাবি করেন তিসা। বিয়ের পর তার স্বামী তাকে অসম্ভব রকম সমর্থন দিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ