মৌলভীবাজারে মার্কসবাদী লেখক ও বুদ্ধিজীবী যতীন সরকার স্মরণে শোকসভা

প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২৫

মৌলভীবাজারে মার্কসবাদী লেখক ও বুদ্ধিজীবী যতীন সরকার স্মরণে শোকসভা

Manual1 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | মৌলভীবাজার, ২৩ আগস্ট ২০২৫ : প্রথিতযশা প্রাবন্ধিক, মার্কসবাদী লেখক, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক যতীন সরকার স্মরণে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী মৌলভীবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগষ্ট ২০২৫) বিকাল সাড়ে ৪টায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর জেলা শাখার সভাপতি জহর লাল দত্তের সভাপতিত্ত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রভাত দেবনাথের সঞ্চালনায় মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর হল রুমে উক্ত শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রগতিবাদী চিন্তাবিদ, মার্কসবাদী লেখক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ যতীন সরকারকে স্মরণ করে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এডভোকেট মকবুল হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবি শিবপ্রসন্ন ভট্টাচার্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটিরি সদস্য আ. স. ম সালেহ সোহেল, বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক কবি পুলক কান্তি ধর, চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক এস এম শুভ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর জেলা শাখার সহ-সভাপতি রামেন্দ্র চন্দ্র দাস, মৌলভীবাজার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও উদীচী মৌলভীবাজর জেলা সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি রানু তালুকদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মনতোষ দাস, সহযোদ্ধা হাসান তারেক প্রমুখ।

Manual2 Ad Code

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা শাখার সম্পাদক কমরেড তাপস কুমার ঘোষ, যুব ইউনিয়ন মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি আবু রেজা সিদ্দিকি ইমন, যুবনেতা রমাপদ ভট্টাচার্য্য যাদু, মৌলভীবাজার পিএফজি ইয়ূথ গ্রুপের সদস্য রিপন মালাকার প্রমূখ।

Manual6 Ad Code

Manual2 Ad Code

সৈয়দ আমিরুজ্জামানের শ্রদ্ধা

Manual3 Ad Code

মার্কসবাদী লেখক, বুদ্ধিজীবী, প্রথিতযশা প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক যতীন সরকারের স্মরণে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্টের প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক ও লেখক অধ্যাপক যতীন সরকার গত ১৩ আগস্ট বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
যতীন সরকার ১৯৩৬ সালের ১৮ আগস্ট নেত্রকোনার কেন্দুয়ার চন্দ্রপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক এই শিক্ষক সুদীর্ঘকাল ধরে মননশীল সাহিত্যচর্চা, বাম রাজনীতি এবং প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি দুই মেয়াদে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

লেখক হিসেবে যতীন সরকার ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার, ২০০৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পদক, ২০০৫ সালে ‘পাকিস্তানের জন্ম-মৃত্যু দর্শন’গ্রন্থের জন্য প্রথম আলো বর্ষসেরা গ্রন্থপুরস্কার, ড. এনামুল হক স্বর্ণপদক, খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার, মনিরুদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন।

৪২ বছরের বেশি সময় শিক্ষকতা পেশায় থেকে ২০০২ সালে অবসর গ্রহণের পর যতীন সরকার স্ত্রী কানন সরকারকে নিয়ে শিকড়ের টানে চলে যান নিজ জেলা নেত্রকোনায়।

তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘বাংলাদেশের কবিগান’, ‘বাঙালির সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য’, ‘সংস্কৃতির সংগ্রাম’, ‘মানবমন, মানবধর্ম ও সমাজবিপ্লব’। এ প্রবন্ধ গ্রন্থগুলোর পাশাপাশি শিশুদের জন্য সুপাঠ্য একটি ব্যাকরণ গ্রন্থও রচনা করেন তিনি। বাংলা একাডেমি থেকে ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত ‘গল্পে গল্পে ব্যাকরণ’ বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যে এবং ব্যাকরণ গ্রন্থের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। বাংলা একাডেমির জীবনী গ্রন্থমালার মধ্যে চারটি গ্রন্থ রচনা করেন তিনি। যথাক্রমে- ‘কেদারনাথ মজুমদার’, ‘চন্দ্রকুমার দে’, ‘হরিচরণ আচার্য’, ‘সিরাজউদ্দিন কাসিমপুরী’। তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘রবীন্দ্রনাথের সোনার তরী’, ‘প্রসঙ্গ মৌলবাদ’ ও ‘জালাল গীতিকাসমগ্র’। এ ছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আরও আছে ‘পাকিস্তানের জন্মমৃত্যু দর্শন’, ‘দ্বিজাতিতত্ত্ব, নিয়তিবাদ ও বিজ্ঞান-চেতনা’, ‘সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবী সমাচার’, ‘সাহিত্য নিয়ে নানাকথা’ ইত্যাদি।”

 

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ