মৌলভীবাজারে ১৫ গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করল শিল্পকলা একাডেমি

প্রকাশিত: ৯:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৫

মৌলভীবাজারে ১৫ গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করল শিল্পকলা একাডেমি

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | মৌলভীবাজার, ০৩ অক্টোবর ২০২৫ : বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে মৌলভীবাজারের ১৫ জন গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করেছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত বর্ণিল অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা পদক ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ মহিউদ্দিন, পিপিএম। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানভীর হোসেন।

গুণীজনদের সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় নৃত্য, সংগীত ও নাটকের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক আয়োজন। বিশেষভাবে মঞ্চস্থ হয় নাটক “তুমিই বাংলাদেশ”, যার রচয়িতা কাজী রোকসানা রুমা এবং নির্দেশনা দেন শাহীন ইকবাল। পরিবেশনায় ছিল নাট্যদল মুৎনাট্য, মৌলভীবাজার।

যাঁরা সম্মাননা পেলেন

জেলা শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে ‘গুণিজন সম্মাননা’ ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের জন্য মোট ১৫ জন শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিসেবীকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

গুণিজন ২০২২ :

সৃজনশীল সাংস্কৃতিক গবেষণা: মোহাম্মদ আকবর

সঙ্গীতে: সেলিম চৌধুরী

নাট্যকলা: আবদাল মাহবুব কোরেশি

চারুকলা: ওয়ালীউর রহমান

যন্ত্রসংগীত: দুর্গা প্রসাদ দোশায়ারা

Manual3 Ad Code

গুণিজন ২০২৩ :

সৃজনশীল সাংস্কৃতিক গবেষণা: মোস্তফা সেলিম

নাট্যকলা: মো. দেলোয়ার হোসেন

যন্ত্রসংগীত: প্রসাদ দাস

সঙ্গীতে: শিল্পী মো. তারেক ইকবাল চৌধুরী

লোকসংস্কৃতি: সিরাজুল ইসলাম তোলা

গুণিজন ২০২৪ :

Manual2 Ad Code

সৃজনশীল সাংস্কৃতিক গবেষণা: মুজিবুর রহমান মুজিব

Manual1 Ad Code

সাংস্কৃতিক সংগঠক: ইন্দ্রজিৎ দেব

লোকসংস্কৃতি: মো. আব্দুস সহীদ

নাট্যকলা: মো. তাজুল ইসলাম

Manual8 Ad Code

সঙ্গীতে: শিল্পী নাদিরা আক্তার

শিল্পী তারেক ইকবাল চৌধুরীর বিশেষ স্বীকৃতি

সম্মাননা প্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শ্রীমঙ্গলের পরিচিত সঙ্গীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিল্পী মো. তারেক ইকবাল চৌধুরী। বহু বছর ধরে তিনি শ্রীমঙ্গলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

বর্তমানে তিনি হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি শ্রীমঙ্গল শিল্পী কল্যাণ সংস্থা, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সম্মিলিত নৃত্য পরিষদ ও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীসহ একাধিক সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদক ছিলেন।

বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক আয়োজনে নিয়মিত গান পরিবেশন করে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। শুধু সংগীতশিল্পী হিসেবেই নয়, সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।

সম্মাননা প্রাপ্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ায় তিনি লিখেছেন—
“আমার মতো নগণ্য একজন শিল্পীকে গুণী শিল্পী হিসাবে মনোনীত করায় কৃতজ্ঞতা জানাই বাছাই কমিটির প্রতি। আজ থেকে মনে হয় দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল।”

শুভেচ্ছা বার্তা ও প্রতিক্রিয়া

জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার ও সম্মাননা প্রদান কমিটির সদস্য সচিব আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী বলেন—
“এই আয়োজন কেবল সম্মাননা প্রদান নয়, বরং শিল্প-সংস্কৃতিপ্রেমীদের এক মিলনমেলা।”

অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন—
“তারেক ইকবাল চৌধুরী শুধু একজন প্রতিভাবান শিল্পী নন, তিনি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নিবেদিত সংগঠকও। জেলা শিল্পকলা একাডেমির এই স্বীকৃতি তার প্রাপ্য সম্মান।”

সম্মাননার তাৎপর্য

মৌলভীবাজার সাংস্কৃতিক চর্চার উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সমৃদ্ধ। স্থানীয় সংস্কৃতিকে চাঙ্গা রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে শিল্পচর্চায় অনুপ্রাণিত করার জন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমির এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংস্কৃতিসেবীরা।

শিল্পীদের আজীবন অবদানকে স্বীকৃতি জানানোর মাধ্যমে এই সম্মাননা আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে—এমনটাই মনে করছে স্থানীয় সাংস্কৃতিক মহল।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ