সিপিবি-বামরা কেন নির্বাচন করছে?

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

সিপিবি-বামরা কেন নির্বাচন করছে?

Manual4 Ad Code

মঞ্জুরে খোদা টরিক |

নির্বাচন কি হবে? অথবা নির্বাচন হলে কি তা অবাধ-সুষ্ঠ হবে? নির্বাচনের তারিখ, মনোনয়ন, ব্যালট ছাপা-প্রাপ্তির পরও এই সন্দেহ দূর হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না? সরকার তো বলছে নির্ধারিত দিনেই হবে এবং সর্বকালের সেরাটাই হবে! তাহলেও কেন সন্দেহ? কিন্তু তাঁর কথা কোন দল-ব্যক্তি বিশ্বাস করছে না? কেন করছে না? এ দায়-দোষ কার? সরকারের শেষ সময়ে দেবপ্রিয় ভট্রাচার্যও আজ সে কথা বললেন।

Manual3 Ad Code

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকার-প্রশাসনের কর্মকান্ড, দলভেদে পক্ষপাতিত্বসহ অনেকগুলো ঘটনা ও বাস্তবতা ও সম্ভাব্য পরিণতি-প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এ কথা জোড় দিয়ে বলাই যায় যে, নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠ হবে না।

নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সিপিবি-বামফ্রন্ট কয়েক মাস ধরে ১। আরপিও-র অগণতান্ত্রিক ধারা সংশোধন, বাতিল, ২। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়েইং ফিল্ড, ৩। অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষ অবস্থান ৪। গণভোট অপ্রয়োজনীয় ৫। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনতির কথা বলছে।

Manual1 Ad Code

নির্বাচনকে নিয়ে তাদের এই বক্তব্য যৌক্তিক, কিন্তু তাদের কথা কি সরকার শুনছে, মানছে? না। যদি না মানে, তাহলে তারা কেন নির্বাচনে যাচ্ছে? কোন যুক্তিতে? তারা কি বিশ্বাস করে ড. ইউনূসের অধীনে নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠ হবে? কিন্তু সে কথা তো তারা নিজেরাই বলছে, সেটা হবে না! তাহলে..?

আওয়ামী লীগ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেয়নি বলে সিপিবি সেই সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। তাহলে ইউনূসের অধীনের এই অসঙ্গতির বৈষম্যের নির্বাচনে কেন অংশগ্রহণ করছে? শেখ হাসিনার আমি-ডামির নির্বাচনে বিরোধীরা অংশগ্রহণ না করলেও তারা নিষিদ্ধ ছিল না কিন্তু এই নির্বাচনে তাদের নিষিদ্ধ করা হলো কোন যুক্তিতে? যে যুক্তিতে তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ অপরাধ করে জামাত নির্বাচন করছে কিভাবে? সে বক্তব্য কোথায়?

ব্যালটের ডিজাইন, বিদেশে জামাত নেতার বাসায় ব্যালট বান্ডিল, ঢাকায় ২০ লাখ নতুন ভোটার, প্রশসনিক নিয়োগে কারসাজি, বিমানে সন্দেহজনক নিয়োগ, নতুন দলের প্রার্থীর বিজয়ের পক্ষে উপদেষ্টার বক্তব্য, গণভোটে হ্যাঁ’র পক্ষে তাদের ক্যাম্পেইন, পছন্দের দলকে গুরুত্ব দেয়া ইত্যাদি অনেক অভিযোগ তোলা যায়। এগুলো নিশ্চয়ই সিপিবি নেতারা জানেন? এবং এসব নিশ্চয়ই নিরপেক্ষ নির্বাচনের ইঙ্গিত-পরিবেশ বলে না!

উপরন্ত অন্তর্ভূক্তমুলক নির্বাচন না হওয়া, ভোটার উপস্থিতি কম, সহিংসতা, মব ও প্রশাসনিক কারসাজির নির্বাচন হলে তা কি দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না। এই সব আলামত থাকার পরো কি তাঁরা সুষ্ঠ নির্বাচন আশা করেন? সেই নির্বাচনে থাকবেন? সেখান থেকে তারা কি অর্জন করতে চান?

সিপিবি সেই অর্থে নির্বাচনের আলাপে নেই। অনেক উৎসাহ নিয়ে ’যুক্তফ্রন্ট’ নামের একটি জোট গঠন করলেন। তাও রাজনীতিতে কোন আলোচনা তৈরী করতে পারেনি। এই ফ্রন্ট ১৫৩টি আসনে নির্বাচন করছে। এর মধ্যে ১০০টি আসনে ফ্রন্টের একক প্রার্থী থাকলেও ৫৩টি আসনে একাধিক শরিক দলের প্রার্থী আছে। তারমানে ফ্রন্টটিকেও ঐক্যবদ্ধ রাখা যায়নি। বর্তমান জটিল ও বিপদজনক পরিস্থিতিও তাদের মধ্যে কোন উপলব্ধি তৈরী করেনি।

Manual1 Ad Code

মনে হয়েছে সিপিবির যারা নির্বাচন করছে তাঁদের কয়েকজন বাদে অনেকেই নির্বাচন করছেন কোন প্রস্ততি ছাড়া, অনেকটা সখ থেকে। নির্বাচন হঠাৎ করে করা যায় না, তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্ততি, পরিকল্পনা ও প্রান্তিক পর্যায়ে সংগঠন ও অর্থ লাগে। সেটা বিবেচনা না করেই তাঁরা নির্বাচন করছেন, যেমনটা অতীতেও হয়েছে। এভাবে নির্বাচন করলে কি সংগঠন দাড়াবে? নেতৃত্ব তৈরী হবে? এমন ভাবনাকে খন্ডিত মনে করি। অতীতেও সিপিবি অনেক নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তার ফলাফল কি বলতে পারেন?

Manual4 Ad Code

তারপরো বলি, এত বিতর্ক, সংশয়-সন্দেহ, আশঙ্কার পরো নির্বাচন করলে কোন সমস্যা ছিল না, যদি সিপিবি-যুক্তফ্রন্ট একটি দৃশ্যমান ধারা/আলাপ তৈরী করতে পারতো সেটাও ভবিষ্যতের সংগ্রাম, সংগঠন, নির্বাচনে কাজে লাগতো কিন্তু সেটাও তারা করতে পারেনি। বরং নির্বাচনের প্রশ্নে সিপিবি-বামদের যে যৌক্তিক দাবীগুলো ছিল তা আদায় না হওয়ায় নির্বাচন বর্জন করতো বা সরে দাড়াতো, সেটাই জনগণ দ্বারা অধিক সমর্থিত হতো। তাতে সম্ভাব্য আরেকটি সহিংসতা ও বিতর্কিত নির্বাচনের দায় এড়াতে পারতো।

এটা শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, এর সাথে আছে একটা গণভোটও। সরকার নিজেই বিতর্কিত গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে যা আপত্তিকর। গণভোটকে সিপিবি সমর্থন করে না, তারা সনদে সাক্ষরও করেনি। সেক্ষেত্রে এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার মাধ্যমে কি তারা এই বিতর্কিত সনদের বৈধতা দেবে? কেন বলছি? গণভোট যেহেতু সরকারের এজেন্ডা, তারা এটাকে পাশ করিয়ে আনবে। সেটা হলে এর বৈধতার দায় সিপিবি’র ঘাড়েও আসবে। কি জবাব দেবেন তারা?

তারপরো ’হয়তো’ নির্বাচন কি হবে, নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই, কিন্তু নির্বাচনের নামে যা হবে তা ইতিহাসে আলাদা হয়ে থাকবে। নির্বাচনের যে ভূমিধ্বস ও একতরফা ফলাফলের কথা বলা হচ্ছে তা হবে না। তবে অনেক কিছুর মত সেটাও মেটিক্যুলাসই হবে, যা হয়তো অবশ্যম্ভাবী ক্ষমতামূখী দলটি কল্পনায়ও আনতে পারছে না।
#
ড. মঞ্জুরে খোদা টরিক
লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ