মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান

প্রকাশিত: ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ভাসানটেক (ঢাকা), ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ : মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার জন্য ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা-১৭ আসনের ভাসানটেক বিআরবি মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

নির্বাচনী প্রচারের দ্বিতীয় দিনে আয়োজিত এই জনসভায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।

তারেক রহমান বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন এসেছে। আমি মনে করি, শুধু এই মাঠে উপস্থিত মানুষ নয়—সমগ্র দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়।” তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মানুষ কী পরিবর্তন চায়? জবাবে তিনি বলেন, মানুষ চায় নিরাপদ চলাফেরা, সুশাসন, মানসম্পন্ন শিক্ষা, চিকিৎসা এবং লাখ লাখ কর্মহীন তরুণ-যুবকের জন্য কর্মসংস্থান।

তিনি দাবি করেন, অতীত অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, দেশের মানুষ যখনই ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়েছে, তখনই দেশে উন্নয়ন হয়েছে এবং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। “সে কারণেই আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি,”—বলেন তিনি।

সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনলেন মঞ্চে ডেকে

বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান একজন ভ্যানচালক, একজন নারী শ্রমিক ও একজন কলেজছাত্রীকে মঞ্চে ডেকে নেন। তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি ভাসানটেক এলাকার সমস্যার কথা শোনেন এবং কী কী উন্নয়ন প্রয়োজন—সে বিষয়ে মতামত নেন।

তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমিও এই এলাকায় বড় হয়েছি। আপনাদেরই একজন। ইনশাল্লাহ, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ জয়ী হলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে পুনর্বাসনসহ এ এলাকার সব সমস্যার সমাধান করা হবে। এ এলাকার সন্তান হিসেবে আমি এই ওয়াদা করে গেলাম।”

কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি

তারেক রহমান বলেন, দেশে লাখ লাখ তরুণ বেকার। তাঁদের কর্মসংস্থানের জন্য বিএনপির সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তাঁরা উচ্চ বেতনের চাকরি পেয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

এ সময় তিনি একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেখিয়ে বলেন, প্রতিটি সংসার থাকা নারীর কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর কথা জানান তিনি, যার মাধ্যমে কৃষিঋণ, সার-বীজ ও কৃষি বিমা সুবিধা পাওয়া যাবে।

ক্রীড়া ও তরুণ সমাজ নিয়ে পরিকল্পনা

Manual2 Ad Code

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, সবাই ডাক্তার, আইনজীবী বা ব্যারিস্টার হবে না—অনেকে খেলোয়াড় হতে চায়। বিএনপি সরকার গঠন করলে ক্রীড়াব্যবস্থা এমনভাবে ঢেলে সাজানো হবে, যাতে ছেলে-মেয়েরা পেশাদার খেলোয়াড় হয়ে জীবিকা অর্জন করতে পারে এবং দেশের সুপ্ত প্রতিভাগুলো তুলে আনা যায়।

Manual8 Ad Code

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব

তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছরে দেশের প্রতিটি খাত ধ্বংস হয়েছে। এগুলো পুনর্নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলে জনগণ তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারে। কিন্তু ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত তথাকথিত এমপিদের কাছে মানুষ যেতে পারেনি।”

তিনি জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণের কাছে গিয়ে সরাসরি সমস্যা জানতে হবে এবং সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।

Manual6 Ad Code

শপথবাক্য পাঠ ও ভোটের আহ্বান

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত জনতাকে শপথবাক্য পাঠ করান তারেক রহমান—
“করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।”

তিনি বলেন, তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। আগামী ১২ তারিখে আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ও জনসমাগম

ভাসানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদির মাহমুদের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

Manual5 Ad Code

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী জনসভা দুপুর আড়াইটায় হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় পরিবর্তন করে সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু করা হয়। আসরের নামাজের আগ থেকেই মাঠে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। মাগরিবের আগেই বিআরবি মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিপুল জনসমাগমের কারণে অনেক মানুষ মাঠে প্রবেশ করতে না পেরে আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ