শহীদ আসাদ ও ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান শীর্ষক ওয়ার্কার্স পার্টির আলোচনা সভা

প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬

শহীদ আসাদ ও ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান শীর্ষক ওয়ার্কার্স পার্টির আলোচনা সভা

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ : শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ এবং ঊনসত্তরের মহান গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Manual5 Ad Code

শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৪টায় ‘৬৯-এর মহান গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

Manual2 Ad Code

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক। সভা সঞ্চালনা করেন পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল।

ঐতিহাসিক স্মরণ ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার আহ্বান
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক কমরেড নুর আহমদ বকুল বলেন, ঊনসত্তরের মহান গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও গৌরবময় অধ্যায়। শহীদ আসাদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হওয়ার মধ্য দিয়েই ২৪ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থান এক অনিবার্য রূপ লাভ করে। তিনি বলেন, “শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ শুধু একটি আন্দোলনকে বেগবান করেনি, বরং আইয়ুব খানের সামরিক স্বৈরশাসনের পতনের পথ সুগম করেছিল।”

তিনি আরও বলেন, ১৯৬৮ সালের শেষভাগে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে, তা দ্রুত শ্রমিক-কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনের মূল প্রেরণা ছিল জাতিগত নিপীড়ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবি।

Manual5 Ad Code

সভাপতির বক্তব্য

সভাপতির বক্তব্যে কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক বলেন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছাড়া একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পথ প্রস্তুত হতো না। শহীদ আসাদ, মতিউরসহ শত শহীদের আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামে অনুপ্রেরণার চিরন্তন উৎস। তিনি বলেন, “আজকের প্রজন্ম যদি এই ইতিহাস না জানে, তাহলে তারা ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পথ নির্ধারণ করতে পারবে না।”

অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, শ্রমিক নেতা কমরেড আবুল হোসাইন, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কমরেড জাকির হোসেন রাজু, বাংলাদেশ নারীমুক্তি সংসদের কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড অ্যাডভোকেট জোবায়দা পারভিন, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুর্শিদা আখতার নাহার, বাংলাদেশ যুবমৈত্রীর সভাপতি যুবনেতা তৌহিদুর রহমান এবং ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ছাত্রনেতা অতুলান দাস আলো।

বক্তারা বলেন, ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি শুধু শহীদ আসাদই নন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউশনের দশম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান মল্লিক। এই দিনটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে রক্তাক্ত অথচ গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বক্তারা বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ক্রমশ বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে। শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, কৃষক, মধ্য ও নিম্ন আয়ের পেশাজীবী মানুষ এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ভাষা আন্দোলন (১৯৪৮–১৯৫২), স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রাম এবং জাতিগত বৈষম্যের অভিজ্ঞতা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানকে অনিবার্য করে তোলে।

বর্তমান প্রজন্মের প্রতি আহ্বান

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, শহীদ আসাদ ও মতিউরসহ শত শহীদের আত্মত্যাগে রচিত এই ইতিহাস বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানতেই হবে। গণতন্ত্র, সাম্য ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এই ইতিহাস শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে।

Manual1 Ad Code

আলোচনা সভা শেষে শহীদ আসাদ ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ