সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাবের নিন্দা উদীচীর: জাতীয় সংগীত অবমাননার শাস্তি দাবি

প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২৬

সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাবের নিন্দা উদীচীর: জাতীয় সংগীত অবমাননার শাস্তি দাবি

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৩ মার্চ ২০২৬ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ক্ষোভের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

একইসাথে জাতীয় সঙ্গীতের সময় উঠে না দাঁড়িয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংগীত অবমাননা করার ঘটনায় শাস্তির দাবি জানিয়েছে উদীচী।

Manual5 Ad Code

এক বিবৃতিতে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, স্বাধীনতার চেতনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা জাতীয় সংসদের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষে যাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এবং যারা দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন সেই সব কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী, রাজাকারদের নাম জাতীয় সংসদের শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা শুধু ইতিহাস কলংকিত করা নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতিও চরম অবমাননা। জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে এমন একটি কাজ দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়।

বিবৃতিতে উদীচী নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জাতীয় সংগীতের প্রতি অবমাননাকর আচরণও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জাতীয় সংগীত শুধু একটি গান নয়; এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, আত্মত্যাগ এবং জাতিসত্তার প্রতীক। এ ধরনের আচরণ দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং জাতির মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে সাংবিধানিকভাবেও বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

Manual1 Ad Code

উদীচী মনে করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না। যুদ্ধাপরাধীদের মহিমান্বিত করার যে কোনো প্রচেষ্টা এবং জাতীয় প্রতীকসমূহের অবমাননার বিরুদ্ধে দেশের সব প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে উদীচী।

Manual7 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ