সংক্রমণে দেশে একদিনে ২০১ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ১:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২১

সংক্রমণে দেশে একদিনে ২০১ জনের মৃত্যু

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৭ জুলাই ২০২১ : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে দেশে একদিনে আরও ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে ৫ জুলাই সর্বোচ্চ ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ১৬২ জন।

বুধবার (৭ জুলাই ২০২১) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ১৪৭ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৬৩৯টি। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬৮ লাখ ২৯ হাজার ৮৩২টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৮ জনে। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৫ হাজার ৫৯৩ জনের।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৯৮৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৫০ হাজার ৫০২ জন।
নতুন নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩১ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪৭৩২, ময়মনসিংহে ৩৯২, চট্টগ্রামে ১৫৮৬, রাজশাহীতে ৯৯৭, রংপুরে ৫৭১, খুলনায় ১৯০০, বরিশালে ৬২২, সিলেটে ৩৬২ জন রয়েছেন।

এছাড়া মৃত্যু ২০১ জনের মধ্যে ১১৯ জন পুরুষ এবং ৮২ জন নারী। এদেরমধ্যে খুলনার ৬৬, ঢাকায় ৫৮, চট্টগ্রামে ২১, রাজশাহীতে ১৮, বরিশালে ৭, সিলেটে ৯, রংপুরে ১৪ এবং ময়মনসিংহে ৮ জন মারা গেছেন।

Manual2 Ad Code

এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়া ১৫ হাজার ৫৯৩ জনের মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ২ জন এবং নারী ৪ হাজার ৫৯১ জন।

Manual4 Ad Code

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১১৫ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৪৭, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ২৫, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ৯, ২১ থেকে ৩০ বছরের ৪ এবং ১১ থেকে ২০ বছরের একজন রয়েছেন।

Manual2 Ad Code

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ

গত ২৪ ঘণ্টায় আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬৩ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়েছে ৪৫ জনের। এছাড়া হাসপাতালটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ জন।

Manual6 Ad Code

প্রসঙ্গত, কোভিড ও নন কোভিড রোগীদের সম্পূর্ণ পৃথক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এমনকি দুটি বিভাগের চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মরত প্রত্যেকের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনা চিকিৎসা ছাড়া অন্য সকল চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম আগের মতই চলমান রয়েছে।

মৌলভীবাজারে অনেকটা নিয়মিতই করোনাভাইরাসের শনাক্ত বেড়ে চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এ সময় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৪৬ জনের। মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ জন। শনাক্তের মধ্যে গ্রামাঞ্চলের রোগীর সংখ্যাই এখন বেশি হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল কেন্দ্রে নমুনা প্রদানকারীদের মধ্যে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ৪২ জনের, জুড়ী ৮, শ্রীমঙ্গল ১১, কমলগঞ্জ ২, বড়লেখা ৫, কুলাউড়া ১৬ এবং রাজনগরে ১০ জন। এ পর্যন্ত সারাজেলায় করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩৩২ জনের। সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৭৫০ জন। হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩২ জন। এর মধ্যে শনাক্ত রোগী ১৮ জন এবং সন্দেহভাজন ১৪ জন। বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫০১ জন। মারা গেছেন ৩৮ জন। গত বছরের ৪ এপ্রিল মৌলভীবাজারের রাজনগরে প্রথম করোনার উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তি মারা যান। পরে তাঁর নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত ৪৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। শনাক্ত হয়েছে ৮০ জনের। ৬ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৮২ জনের। শনাক্ত হয়েছে ৭৮ জনের। ১৩ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৭৪ জনের। শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জনের। ২০ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫৫৯ জনের। শনাক্ত হয়েছে ১৫২ জনের। ২৭ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫৭০ জনের। শনাক্ত হয়েছে ২৪৩ জনের। এদিকে ৪ জুলাই থেকে আজ ৭ জুলাই পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫৪০ জনের। শনাক্ত হয়েছে ২৩২ জনের। এ ছাড়া ৩ জুলাই থেকে গতকাল ৬ জুলাই পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ জন।ড
সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, মৌলভীবাজার জেলায় কোভিড রোগীর জন্য জেলা সদর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় ১৪০টি শয্যা আছে। তার মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা সদরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে আছে ৬০টি। এ ছাড়া পাঁচটি আইসিইউ আছে। হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা আছে পাঁচটি। এ ছাড়া রাজনগরে আছে ৩০টি শয্যা এবং শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখাতে ১০টি করে ৫০টি। সব শয্যার সঙ্গে অক্সিজেন সুবিধা রয়েছে। সারা জেলায় অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ৪৪৫টি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা: চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি রোগী বেশি না। জটিল রোগী কম। লো ফ্লো অক্সিজেন দিয়েই আমরা কাভার করতে পারছি। এখন গ্রামের রোগীই বেশি শনাক্ত হচ্ছে। গ্রামের হাটবাজারগুলোয় কোনো স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা কিছুই মানা হচ্ছে না। লোকজন অবাধ চলাচল করছে।’
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা জানান, লকডাউন কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ সকাল থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত সদর উপজেলায় আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ৩২টি মামলা হয়েছে। ২৭ হাজার ২০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। সাময়িক আটক করা হয়েছে নয়জনকে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ