ছাত্রলীগ নেতা নাঈমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২২

ছাত্রলীগ নেতা নাঈমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৫ এপ্রিল ২০২২) : প্রতারণা করে সাড়ে ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আমেরিকা পালিয়ে যাবার অভিযোগ উঠেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আসিফ চৌধুরী নাঈমের বিরুদ্ধে।
ঢাকা মহানগরীর রফিক হাউজিং সোসাইটি শেখেরটেকের স্থায়ী বাসিন্দা, আদাবর থানা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আব্দুল খালিক শুক্রবার (১৫ এপ্রিল ২০২২) দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

ছাত্রলীগের এ নেতা শ্রীমঙ্গল শহরের পূর্ব বিরাহিমপুর কলেজ রোডের বাসিন্দা ও আজহার চৌধুরীর ছেলে।

Manual4 Ad Code

ঢাকা আদাবর থানার শেখেরটেক এলাকার কাজের বুয়াসহ বিভিন্ন সমিতি ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরো ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

Manual8 Ad Code

আব্দুল খালিক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিন বছর আগে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি পরিচয়ে এবং ঢাকায় একই এলাকায় বসবাস করায় নাঈমের সাথে পরিচয় হয়। গত বছর চা পাতার ব্যবসার জন্য সে ঢাকাস্থ আমার মালিকানাধিন একটি দোকান ঘর ভাড়া নেয়। একই বছর নাঈম চা পাতার ব্যবসা সম্প্রসারণ করার জন্য লোন নেয়ার প্রয়োজনে পূবালী ব্যাংক রিং রোড শাখায় চৌধুরী টি হাউজ নামে একটি চলতি হিসাব খুলে। এরপর লোনের জন্য আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজনে নাঈম আমার কাছে অল্পদিনের কথা বলে কয়েক দফায় ১৫ লাখ ৫০ টাকা নেয়। জামানত হিসেবে তিনি ও তার স্ত্রীর নামের সমপরিমান অর্থের ৪টি চেক প্রদান করে।
গত বছরের অক্টোবর মাসে নাঈমের নামে ৫০ লক্ষ টাকা লোন বন্দোবস্ত হয়েছে। এসময় আমি তার খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে বাসা ছেড়ে চলে গেছে। এক সপ্তাহ পরে নাঈম ফোন করে জানায়, স্ত্রীকে নিয়ে সে আমেরিকায় চলে এসেছে।

আব্দুল খালিক অভিযোগ করেন, সোসাইটিতে থাকা অবস্থায় নাঈম বিভিন্ন এনজিও ও সমবায় সমিতি থেকে ১২ লাখ টাকা লোন নেয়। এসব লোন গ্রহণকালে আমাকে জামিনদার করে। চা পাতার ব্যবসা করে মুনাফার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন লোকজনদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। মাকসুদা নামে এক কাজের বুয়ার কাছ থেকে নাঈম চেক জামানত রেখে ৬ লক্ষ ও হাসান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা নেয়।
আমি জামিনদার হওয়ায় তার কিস্তির টাকা পরিশোধে আমাকে চাপ দেয়া হচ্ছে। অথচ নিজের সাড়ে ১৫ লাখ টাকা হারিয়ে আমি পথে বসেছি।
তিনি বলেন, এ নিয়ে আমি নাঈমের শ্রীমঙ্গলে বসবাসরত পিতা ও ভাই রিয়ামকে জানালে তারা এই টাকার দায় দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এসময় আরেক অভিযোগকারী ঢাকার বাসিন্দা মো: হাসান খাঁন উপস্থিত ছিলেন।

Manual3 Ad Code

আদাবর থানা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আব্দুল খালিক কর্তৃক সংবাদ সম্মেলনে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আমেরিকা থেকে মুঠোফোনে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আসিফ চৌধুরী নাঈম বলেন, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য সংবাদ সম্মেলন করে মানহানিকর মিথ্যা অভিযোগ করায় অাব্দুল খালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

Manual6 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ