ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের উন্নয়নশীল দেশের গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের রূপরেখা

প্রকাশিত: ৫:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২৩

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের উন্নয়নশীল দেশের গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের রূপরেখা

Manual4 Ad Code

শরীফ শমসির |

আমার স্যার, অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ শুধু অর্থনীতিবিদ নন, ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রালয়ের দায়িত্বে থাকার সুবাদে রাষ্ট্র পরিচালনায়ও অভিজ্ঞ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি [১৯৭৭]।
জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি, গ্লোবাল নেটওয়ার্ক, সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অব ইকোনমিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট সহ নানা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে তাঁর রচিত গবেষণা গ্রন্থ ছাড়াও, প্রবন্ধাদি রয়েছে। অর্থনীতি বিষয়ে তিনি শুধু শিক্ষকই নন, তিনি একজন আন্তর্জাতিক গবেষকও। তাঁর এই পরিচয় তাঁকে চেনার জন্য যথেষ্ট নয়, তাঁর পরিচয় তাঁর চিন্তা ও ভাবনায়। তিনি উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে লিখতে গিয়ে প্রবৃদ্ধির চিন্তায় আচ্ছন্ন না থেকে মানুষের সত্যিকার উন্নয়নের যেমন, তার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, দারিদ্রমুক্তি ও মানবাধিকার সহ অন্যান্য বিষয়ের দিকেও মনোযোগ দিয়েছেন।
একজন নগণ্য ছাত্র হিসেবে তাঁকে সর্বসাধারণে সম্যক পরিচয় করিয়ে দেবার শিক্ষাগত ও বিদ্যাগত যোগ্যতা আমার নাই, তবুও তাঁর একটি ভাবনা নিয়ে লিখছি, কিছুটা এই রাজনীতি ও রাজনীতি বিষয়ে ভাবনার সাথে পরিচয়ের সুবাদে।

১। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ‘উন্নয়নশীল দেশে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র- একটি রূপরেখা’ শীর্ষক তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ-গ্রন্থ প্রকাশিত হলে, আমার সাহস হয়, স্যারের ভাবনা বোঝার চেষ্টা করা এবং তা অন্যদের জানার জন্য নিজের মত করে সে ভাবনাকে প্রচার করা, যদিও জানি, এটা একটা দুঃসাহস।
অত্যন্ত শীর্ণকায়, মাত্র বাহাত্তর পৃষ্ঠার এই প্রবন্ধ- গ্রন্থটি স্যারের ভাষায়, একটি মূল গ্রন্থের উপজাত হিসেবে লিখেছেন। কিন্তু তাঁর এই ভাবনাটি অনেকটা রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ঘরানার বলা চলে। উন্নয়ন অর্থনীতির সূচকগুলো বাস্তবায়নের ভার থাকে রাষ্ট্রের হাতে, সেই রাষ্ট্র কেমন হলে উন্নয়নের সুফল প্রান্তিক মানুষও পাবে মূলত সে ভাবনা থেকে, হয়ত, স্যার উন্নয়নশীল দেশের গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র নিয়ে ভেবে লিখেছেন।
উনবিংশ শতকে সমাজতন্ত্র ধারণাটি প্রথমে ইউটোপিয় থাকলেও মার্কস- এঙ্গেলসের হাত ধরে তা রাষ্ট্রনৈতিক ভাবনায় পরিণত হয় এবং বিংশ শতকের প্রথম পাদে লেনিনের হাতে তা রাষ্ট্রীয় মডেলে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে, তার প্রভাব অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু, বিংশ শতকের শেষ পাদে এসে সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের পর সমাজতন্ত্র তার আবেদন অনেকটা হারিয়ে ফেলে। সমাজতন্ত্র অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো হিসেবে কেন সত্তর বছর পর ধ্বসে পড়ল তার বিচার- বিশ্লেষণ অনেক হয়েছে। অন্যদিকে, চীনের বিদ্যমান সমাজতন্ত্র নিয়েও লাল-পুঁজিবাদের সমালোচনা আছে। বাকি কয়েকটি দেশ বিশেষ করে, কিউবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও স্যাংসানে অর্থনৈতিকভাবে কাহিল প্রায়, বাকিরাও বাজার- সমাজতন্ত্রের পথে হাঁটছে।
এই পরিস্থিতিতে, গত কয়েক যুগ ধরে লিবারেল বা নয়াউদারতাবাদী অর্থনীতির ক্রমাগত প্রসার বিশ্বকে অনেকটা এককেন্দ্রিক ব্যবস্থায় পরিণত করেছে। উল্লেখ্য যে, যে সকল উন্নয়নশীল দেশ জোটনিরপেক্ষ ছিল তারাও নানা নীতি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মুক্তবাজার অর্থনীতির অংশ হয়েছে।
তাই বলা চলে, সমাজতন্ত্রের পালে এখন হাওয়া নেই, উজানে ঠেলেও এগুতে পারছে না। দেশে দেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনও নিজেদের পুনর্গঠিত করে নতুন শক্তি হিসেবে তেমনভাবে দৃশ্যমান নয়। কিন্তু, সমাজতন্ত্র, নানা আলোচনা- পর্যালোচনার পরও এখনো প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে। তবে, তা পুরানো ধাঁচে নয়। নতুন ধাঁচে। নতুন ধাঁচের মূল উপপাদ্য হল, সমাজতন্ত্রের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোয় বাজার- অর্থনীতির সমন্বয়। এই প্রেক্ষাপটেই ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্যারের বইয়ের পরিচিতি। বইটির প্রচ্ছদের পেছনে লেখা আছে, উনিশ শ পঞ্চাশের দশকে সদ্য স্বাধীনতা পাওয়া কিছু উন্নয়নশীল দেশে তদানীন্তন সোভিয়েত রাশিয়ার অনুকরণে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত শিল্পায়নের চেষ্টা হয়। আশি ও নব্বইয়ের দশকে বাজারভিত্তিক ব্যাপক উদারীকরণ এবং মুক্তবাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও দারিদ্র নিরসনের নীতি অনুসরণ করতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে মুক্তবাজার অর্থনীতির দর্শনের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই উন্নয়নশীল বিশ্বের কোথাও কোথাও তথাকথিত নব্য- উদারীকরণ- পরবর্তী বা পোস্ট- নিউলিবারেল সমাজতন্ত্র নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়। এই ক্রমবিবর্তনশীল ধারণার প্রেক্ষাপটে সমসাময়িক উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির সমন্বয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি রূপরেখা তৈরি করা যায় কি না, তা নিয়ে কিছু প্রাথমিক চিন্তাভাবনাই এ বইয়ের উদ্দেশ্য।

২। এই বইয়ের শুরুতে স্যার একটি মুখবন্ধ লিখেছেন। একটি ভূমিকাও লিখেছেন। এছাড়া, গ্রন্থে রয়েছে, গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের বিবর্তনশীল ধারণা, সরকারের আর্থিক সামর্থ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের কিছু উপাদান শীর্ষক তিনটি অধ্যায় এবং উপসংহার। পরিশিষ্টে রয়েছে, গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র ও সরকারের অঙ্গীকার ও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র সম্পর্কে কিছু স্মরণীয় উদ্ধৃতি।
ভূমিকায় স্যার জানিয়েছেন, শিল্পোন্নত দেশের সামাজিক গণতন্ত্র, নরডিক বা স্ক্যান্ডিনেভীয়ান সামাজিক গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্যে তিনি এই বই লিখেন নি। তিনি সমসাময়িক উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য একটি রূপরেখার প্রাথমিক ধারণাপত্র হিসেবে এই বই লিখেছেন।
প্রচলিত অর্থে সমাজতন্ত্রের সনাতনী ধারণা তিনি এখানে ব্যবহার করেন নি। কোনও নির্দিষ্ট আদর্শিক মতবাদের অংশ হিসাবেও তিনি সমাজতন্ত্র শব্দটি এখানে ব্যবহার করেন নি। বরং এখানে তিনি ভিন্ন ভিন্নভাবে কিছু সমাজতান্ত্রিক উপাদান বা নীতির কথা বলেছেন যা বিভিন্ন দেশের বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মাত্রায় বাস্তবায়নের কথা ভাবা যায়। এখানে তিনি বাজার অর্থনীতির ক্ষেত্রেও অ্যাডাম স্মিতের বাজারের অদৃশ্য হাত যা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তাকেও পরিহার করার কথা বলেছেন। বাজার অর্থনীতি ও ব্যক্তি উদ্যোগের অন্তর্নিহিত শক্তিকে স্বীকার করে কিছু মানুষের হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত ও ঘনীভূত হতে না দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ধারণ করার কথা তিনি বলেছেন।

Manual4 Ad Code

৩। গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের বিবর্তনশীল ধারণায় তিনি অমর্ত্য সেন ও আমেরিকার প্রগতিশীল দার্শনিক জন রোলসের ন্যায্যতার সংজ্ঞাটি সমাজতন্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করেছেন। এই ন্যায্যতার প্রথম শর্ত হল, সকল নাগরিকের সমান সুযোগ, সমান সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যারা এটা ব্যবহার করতে পারবে না রাষ্ট্র তাদের সামাজিক সুরক্ষা দিতে নৈতিকভাবে বাধ্য থাকবে। তাহলে দাঁড়াল এই যে, রাষ্ট্র সব নাগরিকের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থান ছাড়াও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ও ন্যূনতম জীবনধারণের জন্য সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা দিতে বাধ্য থাকবে।

৪। স্যার যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আলোচনা করেছেন তা হল, সরকারের আর্থিক সামর্থ্য। সরকার আর্থিকভাবে সামর্থ্যের অধিকারী না হলে সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি সমাধান হবে কীভাবে? তা হলে সরকারে আয় কোথা থেকে আসবে? সরকারের রাজস্ব আয়ের স্বল্পতা উন্নয়নশীল দেশের সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জনের বড় সমস্যা। জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আয় বাড়লেই সমাজতন্ত্রের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বেড়ে যায়। বিশদ পর্যালোচনা করে স্যার দেখিয়েছেন, কর্পোরেট খাতে বাড়তি কর না বসিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে তাদের মালিকানার কিছু অংশ শেয়ারের মাধ্যমে সরকারের অধিগ্রহণ, সম্পত্তির উত্তরাধিকারের উপর করারোপ, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের মুনাফা থেকে বড় অংকের রাজস্ব আয় করে রাষ্ট্র তার আর্থিক সামর্থ্য বাড়াতে পারে। ব্যক্তি উদ্যোগ ও প্রণোদনাকে ব্যাহত না করেই এভাবে সরকার তার রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে পারে যাতে জনকল্যাণমূলক কাজে তা ব্যয় করা যায়।

৫। গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের কিছু উপাদান শীর্ষক অধ্যায়ে স্যার বেশ কিছু কথা বলেছেন। প্রথমত, অর্থনৈতিক সাম্য ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করা। ন্যায্য অধিকার বা মজুরি আদায়ে শিল্পশ্রমিক, ভূমিহীন কৃষক, মৎস্যজীবী- এসব দুর্বল গোষ্ঠীকে সংগঠিত করে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। [স্যার লিখেছেন এসব সংগঠনভিত্তিক গণতন্ত্র বাজার অর্থনীতির আদর্শের পরিপন্থী নয়।], সর্বজনীন মানসম্মত স্কুল শিক্ষা ও মেধাভিত্তিক উচ্চ শিক্ষা [দক্ষিণ কোরিয়ার মত সর্বজনীন মানসম্মত মৌলিক শিক্ষার নীতি যেখানে উচ্চ শিক্ষার প্রতি প্রথমে গুরুত্ব দেওয়া হয় নি, সে রকম, ভারতের মত অভিজাত স্বতন্ত্র ধারার শিক্ষা নীতি নয় যেখানে সর্বজনীন শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় নি তেমন নয়।], বর্ণ, গোত্র, ধর্ম লিঙ্গ নির্বিশেষে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতের সুযোগ- সুবিধা প্রদান, ভূমি সংস্কার [জমির স্বল্পতার ক্ষেত্রে ব্যক্তিমালিকানা বজায় রেখেও সেচ ও কৃষি যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ], জনস্বার্থে জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো বা ক্রয়ক্ষমতার বৈষম্য রোধ করা, বনভূমি বা জলাশয় মুনাফার জন্য বাজারের হাতে তুলে না দেওয়া, পরিবেশের সুরক্ষা, ভারতের আমুলের মত সরকারি খাতের সেবামুলক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি খাতের মুনাফামুখি ব্যবসা- বাণিজ্যের মাঝখানের পরিসরে সামাজিক ব্যবসা এবং প্রতিটি ব্যক্তির কল্যাণ নিশ্চিতে ব্যবসা- বাণিজ্যকেও আলাদা সত্তা হিসেবে সামাজিক চুক্তির আওতায় আনা।

Manual8 Ad Code

৬। উপসংহারে, স্যারের বক্তব্য হল, এই প্রস্তাবিত গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য কোনও রাজনৈতিক বিপ্লবের প্রয়োজন নেই। এই ব্যবস্থা বাজার অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ। পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সহায়ক। তাঁর মতে, একটি ন্যূনতম গণতান্ত্রিক সুশাসনের মান নিশ্চিত করা এবং এর মাধ্যমে দ্রুত ক্রমসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধি অর্জন ছাড়া সমাজতান্ত্রিক পথে বেশি দূর অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়। স্যারের ধারণা, পুঁজিবাদী বিশ্ব অর্থনীতির চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক কল্যাণমুখী বাজার অর্থনীতির নতুন দিগদর্শন হয়তো উন্নয়নশীল দেশ থেকেই আসবে, যেখানে পরীক্ষা- নিরীক্ষার সুযোগ অনেক বেশি।

Manual8 Ad Code

৭। পরিশিষ্ট-১ এ স্যার, গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র কায়েমে সরকারের অঙ্গীকারের কথা বলেছেন। রাজনীতিবিদগণ যদি গণস্বার্থে রাজনীতি করেন তবে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য অর্জনের পথে এগুনো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। স্যারের মতে, তিনি যা করার জন্য বলেছেন তা বাস্তবে অর্জনযোগ্য।

৮। উন্নয়নশীল দেশের গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র- একটি রূপরেখা গ্রন্থটি পাঠ করে আমি উপকৃত হয়েছি। কোনও ধরনের মার্কসীয় টার্ম ব্যবহার না করেও, তিনি ল্যাটিন আমেরিকার ভোটে জেতা সমাজতান্ত্রিক দেশ এবং যেসব দেশের সংবিধানে সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র আছে সেসব উন্নয়নশীল দেশের অবস্থা পর্যালোচনা করে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের রূপরেখা প্রস্তাব করেছেন।

৯। বাংলাদেশের বামপন্থী মহলে এই বই পঠিত হোক, আমি চাই, কারণ, এখনে তর্কমূলক পদ্ধতিতে প্রথাগত সমাজতন্ত্রের কাটাচেরা না করেও উন্নয়নশীল দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রে নিহিত আছে, এই বিশ্বাসটুকু তিনি রোপিত করেছেন।

১০। এটি স্যারের প্রথম বাংলা ভাষায় লিখিত বই। বাংলা ভাষার রাজনৈতিক সাহিত্যে এই বইয়ের সংযোজন একটি গুণগত উৎকর্ষ হিসেবে বিবেচিত হবে, আমার বিশ্বাস। বইটি রাজনৈতিক- অর্থনীতির সাহিত্য হিসেবেও উৎকৃষ্ট।

১১। বাংলাদেশের সংবিধানে এখনো সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র বহাল আছে, বাজার অর্থনীতির একচেটিয়া, শোষণ ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে যদি রাষ্ট্রের জনকল্যাণমূলক বিধি- বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে পরিচালনা করা যায় তবে, এই বাংলাদেশও একদিন উন্নয়ন- প্রবৃদ্ধির পথে সাম্য, ন্যায্যতা ও বৈষম্যহীন হয়ে উঠবে। স্যারের এই আশাটুকু আমাদের রাজনীতিতে যুক্ত হোক- কামনা করি।

[স্যারের বক্তব্য কোথাও ভুলভাবে উপস্থাপিত হলে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।]

#

শরীফ শমসির
লেখক, গবেষক
ঢাকা

Manual6 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ