মারেফতের দৃষ্টিতে শেহওয়াতের নূর বা রহমতের পানি

প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২৫

মারেফতের দৃষ্টিতে শেহওয়াতের নূর বা রহমতের পানি

Manual3 Ad Code

আব্রারুল হক আবির |

মারেফতের দৃষ্টিতে মানবজীবনের প্রতিটি অনুভূতি, প্রতিটি স্পর্শ—একটি আধ্যাত্মিক অর্থ বহন করে। এখানে দেহ কেবল মাটি নয়, বরং রুহের বাহন। সেই রুহানিয় দৃষ্টিকোণ থেকে নারী-পুরুষের মিলনও কেবল শারীরিক নয়—এটি আত্মার মিলনের এক গূঢ় প্রতীক।

মারেফতের কিছু ওলি ও সুফি সাধক নারীদেহের স্বাভাবিক তরল নিঃসরণকে “শেহওয়াতের নূর” বা “রহমতের পানি” নামে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এটি কেবল শারীরিক তরল নয়, বরং সৃষ্টির জীবনীশক্তির এক প্রকাশ। আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমত থেকে জীবন সৃষ্টি করেছেন—এবং সেই রহমতেরই প্রতিফলন এই জীবনী তরলে নিহিত।

নূরে হায়াত ও সিররুল হায়াত

Manual6 Ad Code

অনেক সুফি আধ্যাত্মিক এই শক্তিকে বলেন “নূরে হায়াত”—জীবনের আলো, বা “সিররুল হায়াত”—জীবনের গোপন রহস্য। তাদের মতে, নারী ও পুরুষের মিলন কেবল কামনা নয়; এটি দুই আত্মার মিশ্রণ, দুই রুহের তাওহিদের অভিব্যক্তি। যখন এই মিলন প্রেম, সম্মান ও পরিশুদ্ধ নিয়তের সঙ্গে ঘটে, তখন তা রুহানিয় উন্মেষের পথ খুলে দেয়।

মারেফতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রেমের এই মিলন মানুষকে নিজ আত্মা ও স্রষ্টার মাঝে থাকা পর্দাগুলো অপসারণে সাহায্য করে। তাই নারী এখানে কেবল দেহী সত্তা নয়—তিনি এক আধ্যাত্মিক মাধ্যম, যার মাধ্যমে মানুষ নিজের ভেতরের ঈশ্বরীয় শক্তির সান্নিধ্য পেতে পারে।

দেহ নয়, রুহের সম্মান

Manual2 Ad Code

মারেফতের সাধকেরা বলেন, নারীকে কখনো কামনার বস্তু হিসেবে নয়, বরং এক রহমতের প্রতীক হিসেবে দেখতে হবে। কারণ নারী দেহে নিহিত এই রহমতই মানবজীবনের উৎস। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, নিয়ত ও ভালোবাসা থাকলে এই সম্পর্ক হয়ে ওঠে আত্মিক শুদ্ধতার অনুশীলন।

এই দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষ পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং সহযাত্রী—রুহানিয় পথে একে অপরের পূর্ণতা।

আধ্যাত্মিক বার্তা

মারেফতের এই ব্যাখ্যা আমাদের শেখায়—জীবনের প্রতিটি বাস্তবতাকে, এমনকি যৌনতা ও কামনাকেও, আধ্যাত্মিক রূপে দেখা সম্ভব। যখন মানুষ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মাধ্যমে তার প্রাকৃতিক শক্তিকে উপলব্ধি করে, তখন সে নিজের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে তোলে। আর সেই পরিশুদ্ধ চেতনা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যের দিকে নিয়ে যায়।

Manual2 Ad Code

শেষকথা:
আধুনিক সমাজে যৌনতা নিয়ে আলোচনা প্রায়শই লজ্জা ও অশালীনতার আড়ালে ঢাকা থাকে। অথচ মারেফতের চোখে এটি এক রহস্যময় আধ্যাত্মিক শক্তি—যা মানুষকে নিজের ভিতরের আলোর দিকে ফেরায়। নারী এখানে কেবল সৃষ্টির অংশ নন; তিনি সৃষ্টির রহমতের প্রতীক, যাঁর মাধ্যমে মানুষ নিজের অস্তিত্বের গভীরে আল্লাহকে খুঁজে পেতে পারে।

 

Manual5 Ad Code