ছায়ানটে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সৈয়দ আমিরুজ্জামানের নিন্দা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫

ছায়ানটে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সৈয়দ আমিরুজ্জামানের নিন্দা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ : দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষক, শিল্পী, মানবাধিকারকর্মী, রাজনীতিক, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এই হামলাকে সংস্কৃতিচর্চা ও মুক্ত চিন্তার ওপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করা হয়। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

Manual2 Ad Code

ছায়ানট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) গভীর রাতে সংঘবদ্ধ একটি দল ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবনে হামলা চালায়। তারা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে ছয়তলা ভবনের প্রতিটি তলায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করে। হামলাকারীরা শ্রেণিকক্ষের সিসি ক্যামেরা, কম্পিউটার, আসবাব ও বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করে এবং ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও হার্ডডিস্ক লুট করে নিয়ে যায়।
ছায়ানটের সহসভাপতি পার্থ তানভীর নভেদ বলেন, গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হলেও আগে থেকেই সতর্ক থাকার কারণে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা প্রাণে রক্ষা পান। সাধারণ সম্পাদক শিল্পী লাইসা আহমদ লিসা বলেন, এই হামলা ছায়ানটের আদর্শ ও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। যত দ্রুত সম্ভব ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে।
এদিকে ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী ও সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ছায়ানট রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়; সংগীত ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সমাজ গড়াই তাদের লক্ষ্য। তারা বলেন, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতিবিরোধী গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
শুক্রবার সকালে শিক্ষক, শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে এসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন। দুপুরে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে ভবনের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সংবাদপত্র ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই হতে হবে, কিন্তু আইন হাতে তুলে নিয়ে নাশকতা বরদাশতযোগ্য নয়।
আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী সারা হোসেন বলেন, বিজয়ের মাসে সংবাদপত্র ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মেধা ও মনন ধ্বংসের চেষ্টারই পুনরাবৃত্তি। তিনি হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ছায়ানট বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তার অনন্য কেন্দ্র। যারা সেখানে আগুন দিয়েছে তারা ইতিহাস ও সংস্কৃতি মুছে ফেলতে চায় এবং তারা মানুষের সৃজনশীল অভিব্যক্তির শত্রু। তিনি একই সঙ্গে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনাকেও ফ্যাসিবাদী তৎপরতার অংশ বলে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া ছায়ানটে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে হামলা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও মুক্তচিন্তার জন্য ভয়াবহ হুমকি। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Manual6 Ad Code

মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, সংস্কৃতি ও মুক্ত মতপ্রকাশ রক্ষায় সব ধরনের সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের হামলা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

 

Manual4 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ