সাংবাদিকদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা মধ্যযুগীয় বর্বরতা: নূরুল কবীর

প্রকাশিত: ১:২০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২৬

সাংবাদিকদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা মধ্যযুগীয় বর্বরতা: নূরুল কবীর

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ : সাংবাদিকদের একটি ভবনের ভেতরে আটকে রেখে চারদিকে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দমকল বাহিনীকে বাধা দেওয়ার ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর।

Manual2 Ad Code

তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই মতভিন্নতার প্রকাশ হতে পারে না; বরং এটি সভ্য সমাজের মৌলিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সাম্প্রতিক সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে প্রথমবারের মতো এ সম্মিলনের আয়োজন করা হয়।

Manual4 Ad Code

নূরুল কবীর বলেন, “দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে যে হামলা চালানো হয়েছে, তা কেবল একটি ভবনের ওপর হামলা নয়, কিংবা যন্ত্রপাতি বা সম্পদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও নয়। সাংবাদিকদের একটি ভবনের ওপর রেখে চারদিক থেকে আগুন লাগিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা সভ্যতার এই পর্যায়ে কল্পনাতীত বর্বরতা।”

তিনি বলেন, এ ধরনের হামলাকে কোনো পত্রিকার সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে একমত বা দ্বিমত হওয়ার প্রশ্ন হিসেবে দেখা যাবে না। “আজ একটি সংবাদপত্রের ওপর হামলা হয়েছে, আগামীকাল আরেকটির ওপর হতে পারে। এরপর অন্য কোনো গণমাধ্যমও রেহাই পাবে না। তাই এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক সমাজসহ গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ থাকা অত্যন্ত জরুরি।”

গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে স্বাধীন ও নির্ভীক গণমাধ্যমের বিকল্প নেই উল্লেখ করে নূরুল কবীর বলেন, সমাজে ভিন্নমত থাকবে, ভিন্ন কণ্ঠ থাকবে—এই বৈচিত্র্য বজায় রাখাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি। এই ভিন্ন কণ্ঠকে দমন করার চেষ্টা মানেই পুরো সমাজকে স্তব্ধ করে দেওয়া।
তিনি বলেন, “যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ সাংবাদিকতায় আসে, তা কখনোই অপরাধ হতে পারে না। যখন গণমাধ্যমকে আক্রমণ করা হয় বা স্তব্ধ করার চেষ্টা চলে, তখন শুধু সাংবাদিকদের নয়, পুরো সমাজের অধিকার হুমকির মুখে পড়ে।”

সরকার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আইনি ও বেআইনি নানা পন্থায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দমন করার প্রবণতা বাড়ছে। “যেসব প্রতিষ্ঠান গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বাহন হিসেবে কাজ করে, সেগুলোকে দমন করতে আইন, বলপ্রয়োগ ও ভয়ভীতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই।”

Manual8 Ad Code

নূরুল কবীর বলেন, গণমাধ্যম কেবল কয়েকশ বা কয়েক হাজার সাংবাদিকের স্বার্থরক্ষার মাধ্যম নয়। সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, সক্রিয় থাকতে না পারে এবং সত্য প্রকাশে বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অধিকার অনিবার্যভাবে সংকুচিত হয়ে পড়বে।
বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের বিকাশ ও গণতন্ত্রের উন্নয়নের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে—যেখানেই গণমাধ্যম দুর্বল হয়েছে, সেখানেই গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ যখন কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা থেকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও বিপজ্জনক ইঙ্গিত বহন করে।”

তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে অপমান ও অপব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী এই সহিংসতা চালাচ্ছে। “জুলাইয়ের নামে সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে তারা আসলে সেই আন্দোলনের মূল গণতান্ত্রিক চেতনাকেই ধ্বংস করতে চাচ্ছে।”

সম্মিলনের শেষাংশে নূরুল কবীর স্বাধীন গণমাধ্যমের পক্ষে সাংবাদিক সমাজ, নাগরিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে অপমান ও অপব্যবহার করে কিছু গোষ্ঠী এই সহিংসতা চালাচ্ছে। জুলাইয়ের নামে সংবাদপত্র কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে তারা আসলে সেই আন্দোলনের মূল গণতান্ত্রিক চেতনাকেই ধ্বংস করতে চাচ্ছে।

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ