জামালপুরে চারদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা শুরু হচ্ছে ২৩ জানুয়ারি

প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২৬

জামালপুরে চারদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা শুরু হচ্ছে ২৩ জানুয়ারি

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | জামালপুর, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ : ‘আলোকিত মানুষ গড়ার’ মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এর আয়োজনে আগামী ২৩-২৬ জানুয়ারি ২০২৬ (শুক্রবার থেকে সোমবার) জামালপুর সদরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণে শুরু হচ্ছে চারদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব।

সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহযোগিতা এবং জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহায়তায় আয়োজিত এই বইমেলা চলবে ২৩ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।

Manual5 Ad Code

প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ জ্ঞান-সংস্কৃতির মিলনমেলা।

বইমেলায় প্রতিটি বইয়ে রয়েছে ২৫% থেকে ৩৫% পর্যন্ত মূল্যছাড়। আপনারা আপনাদের বন্ধু-বান্ধব, পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ আমন্ত্রিত।

আসুন, বই পড়ুন, বই কিনুন, চিত্তকে দীপান্বিত করুন।

পাঠের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে ভ্রাম্যমাণ বইমেলা কর্মসূচি

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ বইমেলার ইউনিট ইনচার্জ অমিত চক্রবর্তী জানান, কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের “আলোকিত মানুষ গড়ার কর্মযজ্ঞ”-এর অংশ হিসেবেই সারাদেশে “ভ্রাম্যমাণ বইমেলা কর্মসূচি” চালু করা হয়েছে।

তার ভাষায়— “এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাঠপ্রেমী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের হাতে সহজলভ্যভাবে বিশ্বসেরা বইগুলো পৌঁছে দেওয়া। পাঠের আনন্দ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই আমরা আলোকিত সমাজের স্বপ্ন দেখি।”

তিনি জানান, মেলায় গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, ইতিহাস, অনুবাদ, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, রূপকথা ও শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষভাবে বাছাইকৃত বই পাওয়া যাবে। পাঠপ্রেমীদের আকৃষ্ট করতে বইমেলায় থাকছে বিশেষ মূল্যছাড়ের অফারও।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে উদ্বোধন

২৩ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে জামালপুর সদরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হবে মেলার।

উদ্বোধনী আয়োজনে পাঠক, সংস্কৃতিসেবী ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিট ইনচার্জ অমিত চক্রবর্তী।

“জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল যাত্রা”— কমরেড আমিরুজ্জামান

Manual5 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠক, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা–এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান মেলার সফলতা কামনা করে বলেন— “আলোকিত মানুষ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের হাত ধরে ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করেছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। ৪৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীন, চিন্তাশীল ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরির নিরলস সাধনায় নিবেদিত।”

তিনি আরও বলেন— “বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কোনো গৎবাঁধা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার এক সজীব অঙ্গন। অনুসন্ধিৎসু ও সৌন্দর্যপ্রবণ মানুষদের মিলনস্থলই এই কেন্দ্র। বই পড়ার অভ্যাস, জ্ঞানচর্চা ও রুচিশীল সংস্কৃতি বিকাশই এর লক্ষ্য।”

তার আশাবাদ— “জামালপুরের এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলায় জ্ঞানপিপাসু মানুষের অংশগ্রহণে ‘আলোকিত মানুষ গড়ার’ আন্দোলন আরও বেগবান হবে।”

পাঠপ্রেমীদের মিলনমেলা: উচ্ছ্বাসে মুখর তরুণ সমাজ

জামালপুর শহরজুড়ে বইপ্রেমী মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের দলগতভাবে মেলায় অংশগ্রহণের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী ও তরুণ পাঠকরা বলছেন— এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বইপড়ার আগ্রহ আরও বাড়বে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র: এক আলোকিত যাত্রার ধারাবাহিকতা

১৯৭৮ সালে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস ও প্রজ্ঞামূলক সংস্কৃতিচর্চা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে কেন্দ্রের পাঠচক্র, লাইব্রেরি ও মোবাইল লাইব্রেরি কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত।

ভ্রাম্যমাণ বইমেলা সেই ধারাবাহিকতারই এক নবীন সংযোজন— যাতে রাজধানী থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনপদেও পৌঁছে যাচ্ছে বই ও আলোচনার জগৎ।

Manual3 Ad Code

সমাপ্তি ২৬ জানুয়ারি

আগামী ২৬ জানুয়ারি, সোমবার মেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে। আয়োজকদের আশা— চারদিনব্যাপী এই আয়োজন জামালপুরের পাঠপ্রেমী মানুষকে নতুন অনুপ্রেরণা দেবে বইপড়া ও জ্ঞানচর্চার পথে এগিয়ে যেতে।

Manual4 Ad Code

এই বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার নয়— এটি জ্ঞান, মনন ও আলোকিত সমাজ গঠনের এক উজ্জ্বল উৎসব।

“বইই মানুষকে আলোকিত করে— সেই আলো ছড়িয়ে দিতেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই যাত্রা।”