বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী আবদুল কাদিরের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬

বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী আবদুল কাদিরের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | মৌলভীবাজার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ : বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষা দরদী ও সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক হাজী আবদুল কাদিরের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

দিনটি উপলক্ষে তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে।

হাজী আবদুল কাদির ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকার একজন আলোকিত মানুষ। তিনি পতনউষার উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সহসভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান এলাকাবাসীর কাছে আজও স্মরণীয়।

তিনি ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি ৯৬ বছর বয়সে কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীরামপুরে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় তিনি ৮ সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে যান।

সমাজসেবা ও শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা

হাজী আবদুল কাদির আজীবন সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন—শিক্ষাই সমাজ পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক সহায়তা, পরামর্শ ও সাংগঠনিক ভূমিকা রেখে গেছেন।

পতনউষার উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম ব্রত।

Manual5 Ad Code

রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিবারের ভিত্তি

হাজী আবদুল কাদির ছিলেন একটি সচেতন, প্রগতিশীল ও রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল পরিবারের অভিভাবক। তাঁর সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ যুবমৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক সম্পাদক কমরেড আব্দুল আহাদ মিনার।

তাঁর অন্যান্য সন্তানরা হলেন—
আব্দুল মতিন (কানাডা প্রবাসী),
আব্দুল কাইয়ুম আনোয়ার (সৌদি আরব প্রবাসী),
আব্দুল মান্নান মানোয়ার,
আব্দুল হান্নান দেলোয়ার (জাপান প্রবাসী),
সায়েক আহমদ,
মুনমুন আহমদ নেছার,
ইয়ার আহমদ আনকার
এবং যুবমৈত্রীর সাবেক নেতা কমরেড আবু আহমেদ জিলাপ।

তাঁর সন্তানদের অনেকেই দেশ-বিদেশে অবস্থান করলেও সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা তাঁরা পিতার কাছ থেকেই অর্জন করেছেন বলে জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠজনেরা।

বিশিষ্টজনদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

হাজী আবদুল কাদিরের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা প্রকাশ করে এক প্রতিক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠক, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “প্রয়াত হাজী আবদুল কাদির ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা, প্রজ্ঞাসম্পন্ন ও মূল্যবোধনির্ভর মানুষ। তিনি সমাজসেবায় যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বহুদিন এলাকাবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শিক্ষা ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান তাঁকে এক আলোকিত মানুষ হিসেবে পরিচিত করেছে।”

মানুষের হৃদয়ে অমলিন স্মৃতি

এলাকাবাসীর মতে, হাজী আবদুল কাদির ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, মানবিক ও পরোপকারী একজন মানুষ। সামাজিক বিরোধ মীমাংসা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নৈতিক মূল্যবোধে তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
আজ তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা দোয়া ও স্মরণানুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন।

হাজী আবদুল কাদিরের জীবন ও কর্ম প্রমাণ করে—একজন মানুষ চাইলে নীরবে, নিরলসভাবে সমাজের জন্য আলো হয়ে থাকতে পারেন। সমাজসেবক ও শিক্ষা দরদী এই মানুষটির স্মৃতি মৌলভীবাজারবাসীর হৃদয়ে চির অম্লান হয়ে থাকবে।

Manual3 Ad Code

সমাজসেবা, শিক্ষা দরদী, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক হাজী আবদুল কাদিরকে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—

Manual6 Ad Code

আলোকিত মানুষ—হাজী আবদুল কাদির

— সৈয়দ আমিরুজ্জামান

শ্রীরামপুরের মাটিতে জন্ম এক আলোর মানুষ,
নাম তাঁর উচ্চারণে নত হয় বিবেক-অনুশাস।
নীরব পদচারণায় গড়েছেন সমাজভিত্তি,
হাজী আবদুল কাদির—নৈতিকতার প্রতিচ্ছবি।

চমক নয়, প্রচার নয়, ছিল না বাহুল্য কথা,
কাজের ভেতরেই খুঁজতেন জীবনের সার্থকতা।
মানুষের দুঃখে তিনি হতেন নীরব আশ্রয়,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর পরিচয়।

শিক্ষার আলো ছড়াতে ছিলেন আজীবন নিবেদিত,
বিশ্বাস করতেন—জ্ঞানেই ভবিষ্যৎ হয় নির্মিত।
পতনউষার স্কুলে তাঁর ত্যাগের ইতিহাস,
ইট-সিমেন্টে নয়, গড়া ছিল মূল্যবোধের আকাশ।

Manual7 Ad Code

দাতা সদস্য, অভিভাবক, সহসভাপতি হয়ে,
শিক্ষালয়ের হাল ধরেছেন সময়ের ঝড় বয়ে।
দরিদ্র মেধাবীর চোখে দেখতেন স্বপ্নের রোদ,
বলতেন—“এই শিশুরাই আগামীর শক্তির কোষ।”

শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে বসে না থাকলেও তিনি,
প্রতিটি পাঠের ভেতরেই ছিলেন নীরব সঙ্গী।
একটি ভালো মানুষ গড়াই ছিল তাঁর সাধনা,
নম্বর নয়—নৈতিকতাই ছিল শিক্ষা-ব্যাকরণা।

সমাজে যখন দ্বন্দ্ব, বিবাদে ওঠে ঝড়,
তাঁর কথায় নেমে আসত শান্তির নরম পরশ।
কঠিন সত্যও বলতেন মমতার মোড়কে,
ন্যায়ের পথে অবিচল—কখনো না ভড়কে।

রাজনীতির চর্চাও ছিল আদর্শের ভিতর,
ক্ষমতা নয়—দায়িত্বই ছিল তাঁর পরিচয়পর।
সচেতন, প্রগতিশীল এক পরিবারের স্তম্ভ,
যেখানে চিন্তা, চেতনা ছিল দৃঢ় ও অটল দৃম্ভ।

সন্তানদের মাঝে বপন করেছেন যে বীজ,
দেশ-বিদেশে ছড়িয়েছে সেই আদর্শের সীজ।
ছাত্রমৈত্রী, যুবমৈত্রী, শ্রমজীবী মানুষের লড়াই,
তাঁর ঘর থেকেই শিখেছে ন্যায়ের পথচলাই।

দূর কানাডা, সৌদি, জাপান—ভৌগোলিক দূরতা,
তবু হৃদয়ে বহন করে পিতার মানবিকতা।
যেখানেই থেকেছে সন্তান, কাজ বা জীবিকার টানে,
মানুষের পাশে দাঁড়ানোই শিখেছে পিতার বাণী মানে।

নব্বই ছুঁই ছুঁই বয়সে ক্লান্ত হয়নি মন,
শেষদিন অবধি ছিল সমাজের জন্য নিবেদন।
২০২৪-এর জানুয়ারির এক শীতল প্রভাতে,
নীরবে পাড়ি দিলেন অনন্ত আলোর পথে।

ফেলে গেলেন স্মৃতি, কাজ আর আলোর রেখা,
যা কোনো মৃত্যুতে হয় না মুছে ফেলা।
শ্রীরামপুর জানে, কমলগঞ্জ জানে আজ,
একজন মানুষ কেমন হলে গড়ে ওঠে সমাজ।

আজ তাঁকে স্মরণ করে কেবল পরিবার নয়,
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক—সব স্তরের হৃদয়।
কারণ তিনি ছিলেন না কেবল একটি নাম,
তিনি ছিলেন চলমান এক মানবিক ব্যাকরণ।

হাজী আবদুল কাদির—আপনি নেই চোখের সামনে,
তবু আছেন প্রতিটি ভালো কাজে, প্রতিটি প্রজন্মের প্রাণে।
যতদিন থাকবে শিক্ষা, ন্যায় আর মানবিক আলো,
ততদিন আপনার নাম থাকবে উজ্জ্বল, অমলিন ভালো।