নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য: জামায়াত নেতাকে হুঁশিয়ারি, উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ৯:০১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২৬

নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য: জামায়াত নেতাকে হুঁশিয়ারি, উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসানের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

রোববার রাত ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা শামীম আহসানের বক্তব্যকে ‘নারীবিদ্বেষী, কুরুচিপূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেন।

বিক্ষোভে বক্তব্য দিতে গিয়ে একাধিক নারী শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ‘বেশ্যা’ বলা হলো, অথচ কোনো দায়বদ্ধতা নেই? এটা শুধু আমাদের নয়, সারাদেশের নারীদের অপমান।” তারা আরও বলেন, “যে ব্যক্তি এ ধরনের মন্তব্য করতে পারে, তার জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলা উচিত।”

এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, নারীদের নিয়ে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করার পরও রাষ্ট্র ও প্রশাসনের নীরবতা হতাশাজনক। “নারীদের সম্মান নিয়ে আঘাত এলে সরকার তা কীভাবে হজম করে?”—প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভূমিকাও কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে। এক শিক্ষার্থী বলেন, “ডাকসু শুধু চোখ ধাঁধানো অনুষ্ঠান করেই দায় শেষ করে। ডাকসুর পাশের সিটে বসে থাকা সদস্যদের নারীদের ‘বেশ্যা’ বলা হয়, অথচ তারা কোনো প্রতিবাদ জানায় না। এই লজ্জা নিয়ে তারা কীভাবে ডাকসু অফিসে যায়?”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডাকসুর নেতারা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সময় না দিয়ে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকেন। “এই কাজের জন্য কি আমরা তাদের ভোট দিয়েছিলাম?”—এমন প্রশ্নও তোলেন বিক্ষোভকারীরা।

Manual1 Ad Code

এর আগে বিক্ষোভকারীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে মো. শামীম আহসানের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শামীম আহসানের বক্তব্যকে ‘অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও অর্বাচীন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তার এই বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম ও ঐতিহ্যকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।”

Manual1 Ad Code

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষমা না চাইলে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবেন। তাদের ভাষ্য, এটি শুধু একটি মন্তব্যের প্রতিবাদ নয়—বরং নারী মর্যাদা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান এবং গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির প্রশ্ন।

Manual4 Ad Code

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন মহল থেকে নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

Manual3 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ