আজ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সাদী মহম্মদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২৬

আজ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সাদী মহম্মদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৩ মার্চ ২০২৬ : আজ বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, শিক্ষক ও সুরকার সাদী মহম্মদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।

Manual2 Ad Code

২০২৪ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পরও রবীন্দ্রসংগীতের জগতে তার অবদান ও স্মৃতি সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে গভীরভাবে রয়ে গেছে।

বাংলাদেশে রবীন্দ্রসংগীত চর্চা ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে সংগীতাঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের প্রতি তার নিবেদন, গায়কীর স্বতন্ত্র ভঙ্গি এবং গভীর আবেগময় পরিবেশনা তাকে সংগীতপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে প্রিয় করে তোলে।

সাদী মহম্মদের পারিবারিক জীবনও বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তার বাবা সলিমউল্লাহকে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হত্যা করে। শহীদ বাবার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি সড়কের নামকরণ করা হয় ‘সলিমউল্লাহ রোড’। তার ভাই শিবলী মোহাম্মদ দেশের খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী।

ব্যক্তিগত জীবনের নানা আঘাত তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। ২০২৩ সালের ৮ জুলাই তার মা শহীদ জায়া জেবুন্নেছা সলিমউল্লাহ (৯৬) বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং দীর্ঘ সময় এক ধরনের মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে কাটান বলে ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।

Manual4 Ad Code

সংগীত শিক্ষায়ও সাদী মহম্মদের ছিল শক্ত ভিত। তিনি ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রসংগীতের ওপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে দেশে ফিরে রবীন্দ্রসংগীত চর্চা, পরিবেশনা এবং শিক্ষাদানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেন।

রবীন্দ্রসংগীতের শিল্পী হিসেবে তার মূল পরিচিতি গড়ে উঠলেও আধুনিক গানেও তিনি সমানভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার কণ্ঠে অসংখ্য রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক গানের অ্যালবামেও তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন।

২০০৭ সালে ‘আমাকে খুঁজে পাবে ভোরের শিশিরে’ অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘শ্রাবণ আকাশে’ এবং ২০১২ সালে ‘সার্থক জনম আমার’ শিরোনামের অ্যালবাম। সংগীতচর্চার পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘রবিরাগ’-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং রবীন্দ্রসংগীতের প্রচার-প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

Manual6 Ad Code

সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি নানা সম্মাননা লাভ করেন। ২০১২ সালে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আই তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করে। এছাড়া ২০১৫ সালে তিনি বাংলা একাডেমি প্রদত্ত ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ লাভ করেন।

Manual8 Ad Code

আজ তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সংগীতাঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন। সংগীতপ্রেমীরা মনে করেন, তার কণ্ঠে পরিবেশিত রবীন্দ্রসংগীত আগামী প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে এবং বাংলা সংগীতের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করবে।