মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এম এ রহিম স্মরণে

প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এম এ রহিম স্মরণে

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৯ এপ্রিল ২০২৬ : ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার দুইবারের চেয়ারম্যান এম এ রহিমের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

Manual8 Ad Code

তিনি ২০২৩ সালের ১৯ এপ্রিল রাত ১১টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ১৯৭১ সালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা, শ্রীমঙ্গল ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সদস্য, হাজী রশিদ মিয়া মেহেরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সাপ্তাহিক শ্রীভূমি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, শ্রীমঙ্গলের গণমানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ বরেণ্য রাজনীতিক এম এ রহিম উদীচী সহ অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এম এ রহিমের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রদ্ধা

Manual7 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এম এ রহিমের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন গণমানুষের অন্যতম নেতা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

এম এ রহিম স্মরণে
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি-আলোক, প্রজ্জ্বলিত শিখা
এম এ রহিম নামটি যেন জনতারই দীক্ষা।
শ্রীমঙ্গলের পথঘাটে আজও তারই ছাপ,
ইতিহাসের পৃষ্ঠায় লেখা অমর এক প্রতাপ।

Manual3 Ad Code

ঊনসত্তরের উত্তাল দিনে তরুণ কণ্ঠ জাগে,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে শপথ বুকের ভেতর লাগে।
একাত্তরের রণাঙ্গনে সংগঠনের ডাক,
স্বাধীনতার স্বপ্ন গাঁথা অগ্নিশপথ পাক।

ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অগ্রসারী নেতা,
স্বাধীনতার মন্ত্র বুকে জ্বালিয়েছেন কথা।
শ্রীমঙ্গল ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা তিনি,
যুবসমাজে জাগিয়েছেন সংগ্রামেরই বাণী।

রাজনীতির বিস্তৃত পথে দৃঢ় পদচারণ,
জনমানুষের অধিকারেই ছিল তার সাধন।
দুইবারেরই চেয়ারম্যান পৌরসভার প্রাণ,
সেবা দিয়ে গড়েছেন এক উন্নয়নের মান।

মৌলভীবাজার জেলার মাটির সঙ্গে মিশে,
মানুষেরই সুখদুঃখে থেকেছেন তিনি পাশে।
দলমত পেরিয়ে গেছেন অসাম্প্রদায়িক ডাকে,
মানবতার পতাকা তুলে ধরেছেন তিনি রাখে।

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব সদস্য এক, কলমেও সাথ,
সত্যের পথে আপসহীন, ছিলেন সদা দৃপ্ত।
“শ্রীভূমি”র পাতায় পাতায় জেগে ওঠে আলো,
সময়েরই কথকতায় রেখেছেন তিনি ভালো।

বিদ্যালয়ের স্বপ্ন বুকে গড়েছেন এক ধারা,
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেন অজস্রেরই সাড়া।
হাজী রশিদ মিয়া মেহেরজান নামে স্কুল প্রতিষ্ঠা,
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়া তারই অবদান।

উদীচীর সাথে সম্পৃক্ততা মুক্তির দূত,
সংস্কৃতির বন্ধনে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয় সেতু।
শিল্প-সাহিত্য-মানবতার মিলনমেলা ঘিরে,
অসংখ্য প্রাণ পেয়েছে আলো তারই নীরব নীড়ে।

রাজনীতির কঠিন পথে থেকেছেন অবিচল,
প্রলোভনের ঝড় এড়িয়ে থেকেছেন অনড়।
গণমানুষের কণ্ঠস্বর, প্রতিবাদের ধ্বনি,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন অগ্নিবাণী।

রাতের শেষে নিভে গেল এক আলোর প্রদীপ,
তবুও তার স্মৃতি যেন অমলিন অনুপম দীপ।
২০২৩ সালের সেই নিঃশব্দ রাত,
জাতি হারাল এক সংগ্রামী, থামল জীবন-গাথা।

Manual8 Ad Code

তবু কি থামে ইতিহাস? থামে কি তার গান?
মানুষের হৃদয়ে তিনি চির অম্লান।
তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে ফিরে আসে স্মৃতি,
শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তার সংগ্রামনীতি।

ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রদ্ধা ঝরে গভীর বেদনাতে,
সহযোদ্ধারা স্মরণ করে নীরব অশ্রুপাতে।
রাজনীতির নানা ধারা মিলেমিশে এক,
শ্রদ্ধার অঞ্জলি রাখে তার স্মৃতিরই টেক।

শ্রীমঙ্গলের আকাশ জুড়ে আজও তার নাম,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জ্বলে অবিরাম।
গণমানুষের ভালোবাসা অক্ষয় অমর,
তার কর্মের আলোতেই পথ খুঁজে ঘর।

যতদিন এই বাংলার মাটি থাকবে জেগে,
স্বাধীনতার ইতিহাস গান গাইবে বুকে।
ততদিন এম এ রহিম থাকবেন অনন্ত,
সংগ্রামের প্রতীক হয়ে দীপ্ত অনিবার্য সত্তা।

নদীর মতো বহমান তার কর্মের ধারা,
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়াবে আলোকধারা।
অন্ধকারে পথ দেখানো এক দীপশিখা,
বাংলার বুকে জ্বলবে তিনি মুক্তিরই দীক্ষা।

শ্রদ্ধা জানাই নতশিরে, বিনম্র উচ্চারণ—
তুমি আছো, থাকবে চির, জনগণের স্পন্দন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ