শ্রীমঙ্গলে সাপ্তাহিক চায়ের জনপদ সম্মাননা পেলেন ৭০ কনটেন্ট ক্রিয়েটর

প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে সাপ্তাহিক চায়ের জনপদ সম্মাননা পেলেন ৭০ কনটেন্ট ক্রিয়েটর

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৩ জুলাই ২০২৬ : দেশের ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের সৃজনশীলতা, ইতিবাচক উদ্যোগ ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির স্বীকৃতি দিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চায়ের জনপদ কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’।

Manual5 Ad Code

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে কনটেন্ট নির্মাতাদের নিয়ে এ ধরনের আয়োজন এ অঞ্চলে প্রথম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের পাশাপাশি চূড়ান্তভাবে মনোনীত ও অংশগ্রহণকারী প্রায় ৭০ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৫টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পাঁচ তারকা মানের প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ-এর জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পলাশ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক নির্মল এস পলাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবী ডা. মো. নাজিম আল কোরেশী রাফাত।

Manual5 Ad Code

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল্লাহ আকন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী, দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান চৌধুরী তুহিন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মোছাব্বির আলী মুন্না এবং শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ আবুজাফর সালাউদ্দিনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে জনমত গঠন, তথ্যপ্রচার এবং ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তবে এর ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল, তথ্যনির্ভর ও সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরির বিকল্প নেই। এ ধরনের পুরস্কার ও স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মের কনটেন্ট নির্মাতাদের আরও গুণগত মানসম্পন্ন ও সমাজকল্যাণমূলক কাজ করতে উৎসাহিত করবে।

Manual5 Ad Code

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘চায়ের জনপদ কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’-এর জন্য গত ২৫ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নিবন্ধনের পর যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রকাশ করা হয়। মনোনীতদের মধ্যে ২ মে বিকেল ৫টা থেকে ৬ মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনলাইনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেই ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১১ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

ন্যাচারাল অ্যান্ড লাইফস্টাইল ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন ইউসুফ শাহরিয়ার, মো. আল আমিন ইসলাম, ফাহিম আহমেদ, রোকসানা আফরিন শিমু, তানভীর আহমেদ, শিশির ধর, রাদিয়ান হোসেন ও মো. শহিদ। এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড কমেডি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন দীপ চক্রবর্তী। ফুড অ্যান্ড রেসিপি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন কাজী ফয়সল আহমেদ রিয়াদ এবং আদার্স (অন্যান্য) ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন মো. ফারহান তানভীর ফাহিম।

Manual1 Ad Code

বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চূড়ান্তভাবে মনোনীত ও অংশগ্রহণকারী প্রায় ৭০ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের একটি ব্যতিক্রমী দিক ছিল পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ। পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারকের পাশাপাশি অতিথি, বিজয়ী এবং অংশগ্রহণকারী কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে কাঠাল, জাম, নিম ও কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের এই উদ্যোগ উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের প্রশংসা অর্জন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আয়োজক ও সাপ্তাহিক ‘চায়ের জনপদ’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো. তোফায়েল আহমেদ (পাপ্পু) বলেন, ‘চায়ের জনপদ’ একটি স্থানীয় ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শ্রীমঙ্গলের ইতিবাচক সংবাদ, পর্যটন, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক, তথ্যভিত্তিক ও সৃজনশীল কনটেন্ট নির্মাতাদের উৎসাহিত করতেই এই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ভালো ও দায়িত্বশীল কনটেন্ট সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শ্রীমঙ্গলের কনটেন্ট নির্মাতাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি একটি ইতিবাচক কনটেন্ট সংস্কৃতি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। প্রথম আয়োজনেই যে সাড়া ও ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আগামীতে আরও বড় পরিসরে, আরও সমৃদ্ধভাবে এ আয়োজন নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল কনটেন্ট নির্মাণকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অংশগ্রহণকারী কনটেন্ট ক্রিয়েটররাও এই সম্মাননাকে নিজেদের কাজের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কনটেন্ট নির্মাতাদের আরও গবেষণাভিত্তিক, ইতিবাচক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ