বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual8 Ad Code
  • মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, শিক্ষানুরাগী ও জনসেবায় নিবেদিত এক কর্মবীরকে স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৭ জুলাই ২০২৬ : আজ (১৭ জুলাই) বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ, জনসেবা, শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক উন্নয়নে আজীবন নিবেদিত এই কর্মবীর ২০২০ সালের ১৭ জুলাই রাত সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন।

আবদুল হাই ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ছোট ভাই। তবে পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে তিনি নিজ কর্মগুণ, সততা, দেশপ্রেম ও দায়িত্বনিষ্ঠার মাধ্যমে নিজস্ব একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে যেমন তিনি সম্মানিত ছিলেন, তেমনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, মানবিকতা এবং কর্মনিষ্ঠার জন্যও সর্বমহলে প্রশংসিত ছিলেন।

করোনার সঙ্গে লড়াই

২০২০ সালের জুলাই মাসের শুরুতে তাঁর শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ২ জুলাই নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে কোভিড-১৯ শনাক্ত হলে সেদিন রাতেই তাঁকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ১২ জুলাই থেকে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। দীর্ঘ লড়াই শেষে ১৭ জুলাই রাত সোয়া ১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পরদিন নিজ জন্মভূমি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জানাজা ও দাফনে শোকের ছায়া নেমে আসে সমগ্র হাওরাঞ্চলে।

মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সংগঠক

১৯৫৩ সালে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন আবদুল হাই। ছাত্রজীবন থেকেই দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে মাতৃভূমির স্বাধীনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করা এই বীর যোদ্ধা বিজয় অর্জনের পর স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের কাজেও আত্মনিয়োগ করেন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তিনি সারাজীবন কাজ করে গেছেন।

প্রশাসনিক জীবনে দক্ষতা ও সততার দৃষ্টান্ত

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে জাতীয় সংসদের তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার এবং পরবর্তীকালে স্পিকার মো. আবদুল হামিদের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখার উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। একই বছর তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অত্যন্ত নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন কর্মনিষ্ঠ, বিনয়ী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, যিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছিলেন।

শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা

প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে ছিল তাঁর অসামান্য অবদান। তিনি মিঠামইন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর সভাপতি এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রবাহ’-এর সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং হাজী তায়েব উদ্দীন হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হাওরাঞ্চলের শিক্ষাবিস্তার, তরুণদের নৈতিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান স্থানীয় মানুষের কাছে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

এলাকার যোগাযোগ, শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে সাধারণ মানুষের অত্যন্ত কাছের মানুষে পরিণত করেছিল। হাওরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিনি ‘হাওরবন্ধু’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

আদর্শিক রাজনীতির এক নিবেদিত কর্মী

ব্যক্তিজীবনে আবদুল হাই ছিলেন আদর্শিক, সাদাসিধে এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একজন মানুষ। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিশ্বাস করতেন দেশ গঠনের মূল শক্তি হচ্ছে শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সামাজিক সম্প্রীতি।

পরিবারের নয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন অষ্টম। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন পরিবারপ্রেমী, বিনয়ী এবং পরোপকারী। তাঁর সততা, কর্মনিষ্ঠা ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তাঁর সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনরা।

শ্রদ্ধায় স্মরণ

Manual8 Ad Code

ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি ও স্মরণসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।

দেশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন, শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজ উন্নয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর কর্ম, আদর্শ এবং দেশপ্রেম আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি উপলক্ষে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই
— সৈয়দ আমিরুজ্জামান |

আজও ভোরের শিশির নামে স্মৃতির সবুজ ঘাসে,
নীরবতা দাঁড়িয়ে থাকে বিষণ্নতার পাশে।
ক্যালেন্ডারের পাতায় লেখা—সতেরোই জুলাই,
বাংলার বুকে জেগে থাকে এক অমর পরিচয়।

ছয়টি বছর পেরিয়ে গেছে, থামেনি স্মৃতিধারা,
মানুষ বাঁচে কর্মে তারই, মুছে না সে সারা।
যারা দেশের জন্য বাঁচে, দেশের তরে মরে,
তাদের নাম উচ্চারিত হয় যুগের অন্তরে।

তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, অগ্নিদিনের সন্তান,
দেশমাতৃকার আহ্বানে যার জেগেছিল প্রাণ।
মায়ের কোলের স্নেহ ত্যাগে ছুটে গিয়েছিলেন,
রক্তমাখা রণভূমিতে শপথ লিখেছিলেন।

বাংলার মাঠ, নদী আর হাওর, কাদা আর জল,
ডেকেছিল তাঁকে—”এসো বীর, ভাঙো শত্রুর বল।”
তিনি তখন বুকের মাঝে সূর্যেরই শপথ,
স্বাধীনতার নামটি নিয়ে পেরিয়েছেন রথ।

যুদ্ধ শেষে ফিরেছিলেন বিজয়ের পতাকা,
চোখে তখন রক্তিম ভোর, মুখে হাসির আঁকা।
মায়ের হাতে লাল-সবুজের বিজয়গাঁথা দিয়ে,
বলেছিলেন—”এই দেশটাকে রাখব বুকের নীড়ে।”

স্বাধীনতার পরে তিনি থামেননি আর কভু,
দেশ গড়ারই স্বপ্ন ছিল প্রতিদিনের কর্ম।
রাষ্ট্রসেবার অঙ্গনে তিনি নিষ্ঠাবান কর্মী,
কর্তব্যে ছিলেন অবিচল, সততাই সম্বল।

জাতীয় সংসদের প্রাঙ্গণে কর্মের দীপ্তি ছড়ায়,
নীরব হাতে দায়িত্ব নেন, বিনয় হৃদয় জুড়ায়।
ডেপুটি স্পিকার, স্পিকারের বিশ্বস্ত সহচর,
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির আপন কর্মঘর।

Manual1 Ad Code

সহকারী একান্ত সচিব—নামের আড়াল ভেঙে,
দেশের কাজে কাটিয়েছেন দিন নিরবধি রঙ্গে।
ক্ষমতার নয়, কর্তব্য ছিল তাঁর বড় পরিচয়,
নিবেদিত প্রাণ কর্মবীরের অমলিন জয়গান হয়।

হাওরের মানুষ ডাকত তাঁকে—”হাওরবন্ধু” নামে,
দুঃখে-সুখে ছুটে যেতেন মানুষেরই টানে।
যেখানে ছিল বঞ্চনা আর উন্নয়নের ডাক,
সেখানে তাঁর পদচিহ্ন আজও দেয় যে ডাক।

বিদ্যালয়ের স্বপ্ন গড়েন আলোর প্রদীপ জ্বেলে,
জ্ঞান যেন যায় ঘরে ঘরে শিশুদেরই মেলে।
কলেজ গড়ার সংগ্রামে তিনি অগ্রপথিক,
শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন হয়ে দীপ্ত শিখা।

সংস্কৃতির সংগঠনে তিনি ছিলেন প্রাণ,
প্রবাহ বয়ে যেত যেন তাঁর কর্মগান।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদজুড়ে নেতৃত্বের দীপ,
সমাজসেবার অনল জ্বেলে করতেন অর্পিত নীপ।

মানুষ তাঁকে ভালোবেসে আপন করে নিত,
দরিদ্রেরই কাঁধে রেখে সান্ত্বনার হাত দিত।
কখনো তিনি উচ্চস্বরে নিজের কথা বলেননি,
কর্মের ভাষাই জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা গড়েননি?

হ্যাঁ, গড়েছেন—নিঃশব্দ পথে দায়িত্বেরই ছন্দ,
দেশপ্রেম ছিল তাঁর বুকে অনন্ত আনন্দ।
সত্য ছিল তাঁর অলংকার, বিনয় ছিল ঢাল,
মানুষ হয়ে মানুষেরই হয়েছেন অবলম্বনকাল।

তারপর এলো অদৃশ্য এক মৃত্যুর কালো ছায়া,
করোনার সেই নিষ্ঠুর দিনে কাঁদল দেশের মায়া।
অসুখ এসে শরীর জুড়ে লিখল বিষাদরেখা,
তবু আশা ছিল—ফিরবেন আবার, হবে নতুন দেখা।

সামরিক সেই হাসপাতাল লড়েছে দিনরাত,
চিকিৎসকের প্রার্থনায়ও থামেনি মৃত্যুঘাত।
শেষরাতে নিভে গেল যে জীবনের প্রদীপ,
বাংলার বুকে ছড়িয়ে দিল অশ্রুর নীল নীড়।

Manual1 Ad Code

স্ত্রী, সন্তান, স্বজনেরা আজও স্মৃতির তীরে,
খোঁজেন তাঁকে প্রতিদিনই আপন হৃদয় নীড়ে।
একটি ঘর হয়তো আজও অপেক্ষাতে রয়,
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে না-ফেরা এক জয়।

মিঠামইনের মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছেন তিনি,
হাওরের হাওয়া আজও বয়ে আনে সেই ঋণী।
বর্ষার জলে ঢেউ ওঠে আর কাশফুল দোলে ধীর,
মনে হয় যেন ডাকছে তাঁকে বাংলারই নীল।

আকাশ যখন সন্ধ্যা নামে লালিমা মেখে যায়,
মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিগাথা বাতাস গেয়ে যায়।
সেই গানে এক উচ্চারণ—আবদুল হাই নাম,
দেশপ্রেমের অভিধানে যার অক্ষয় অবিরাম।

যারা তরুণ, যারা আজও ভবিষ্যতের পথিক,
তাঁদের কাছে রেখে গেলেন আদর্শের দিক।
ক্ষমতা ক্ষণিক, পদও ক্ষণিক, অমর শুধু কর্ম,
দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ—সেই তো শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

একটি জীবন কেমন করে ইতিহাসে মেশে,
মানুষ যদি মানুষ হয়ে মানুষেরই পাশে।
তাঁর জীবন সেই পাঠশালা, আলোকিত অধ্যায়,
নতুন প্রজন্ম শিখুক এসে সেই মহৎ পরিচয়।

আজ মৃত্যু নয়, স্মৃতির দিন; অঙ্গীকারের ক্ষণ,
দেশগড়ারই শপথ নিক প্রতিটি প্রজন্ম।
স্বাধীনতার অর্থ শুধু পতাকা ও গান নয়,
সততা, শ্রম, মানবসেবা—সেই তো সত্য জয়।

Manual1 Ad Code

যতদিন এই পদ্মা-মেঘনা, যমুনা বহমান,
যতদিন বাংলার আকাশে উঠবে রক্তিম ভোরবেলা প্রাণ,
যতদিন মুক্তিযুদ্ধ হবে জাতির শ্রেষ্ঠ গান,
ততদিন শ্রদ্ধায় উচ্চারিত হবে তোমার নাম।

তুমি আছো পতাকার রঙে, বিজয়ের উল্লাসে,
তুমি আছো কৃষকের ঘামে, শ্রমিকেরই শ্বাসে।
তুমি আছো শিশুদের স্বপ্নে, বিদ্যালয়ের দ্বারে,
তুমি আছো মুক্ত আকাশের দীপ্ত নক্ষত্রতারে।

তুমি আছো হাওরের জলে, ধানের সবুজ ক্ষেতে,
তুমি আছো মানুষের ভালোবাসার নীরব সেতু বেঁধে।
তুমি আছো রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বস্ত অঙ্গীকারে,
তুমি আছো মুক্তিযুদ্ধের রক্তলেখা দ্বারে।

আজ ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই,
হে বীর মুক্তিযোদ্ধা, হে কর্মবীর আবদুল হাই।
তোমার জীবন শিখিয়ে যাক—দেশই সবার আগে,
মানুষ বাঁচে আদর্শ নিয়ে, কর্মের অনুরাগে।

শ্রদ্ধার ফুল ঝরে পড়ুক বাংলার প্রতিটি প্রান্তে,
তোমার ত্যাগের দীপ্ত ইতিহাস থাকুক হৃদয়কান্তে।
যে আলো তুমি জ্বেলে গেছো নিঃস্বার্থ জীবনভর,
সেই আলোয় আলোকিত হোক আগামী ভোরের ঘর।

হে স্বাধীনতার সৈনিক, ঘুমাও শান্তিময়,
তোমার কীর্তি বাংলার বুকে চিরদিন অক্ষয়।
সময়ের সব ঝড় পেরিয়ে, ইতিহাসের পাতায়,
তোমার নাম দীপশিখা হয়ে জ্বলুক শত শত প্রভাতেই।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ