সিলেট ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তনের যে ক্ষতির হিসাব হয় না: উপকূলে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক বন্ধন; অদৃশ্য ক্ষতির স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক | সাতক্ষীরা, ১৬ আগস্ট ২০২৬ : জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করতে গেলে সাধারণত চোখে পড়ে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসল, গবাদিপশু কিংবা আয়-রোজগারের ক্ষতি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার পর কত টাকার সম্পদ নষ্ট হলো—সেই হিসাব তুলনামূলকভাবে সহজ। কিন্তু একটি পরিবার যখন বারবার ঘর বদলাতে বাধ্য হয়, একটি সম্প্রদায় যখন তার পুরোনো বসতভিটা ও সামাজিক বন্ধন হারায়, কোনো পবিত্র স্থান যখন নদী বা সাগরের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়, কিংবা দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতিতে একটি অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা যখন বদলে যায়—সেসব ক্ষতির মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে?
জলবায়ু পরিবর্তনের এমন ক্ষতিগুলোকেই বলা হচ্ছে ‘নন-ইকোনমিক লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ বা অর্থনৈতিকভাবে পরিমাপ করা কঠিন ক্ষয়ক্ষতি। আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্ব পেলেও বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশে এসব ক্ষতির বড় অংশ এখনো নীতিনির্ধারণ ও গণমাধ্যমের আলোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না।
উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় এই বাস্তবতা বিশেষভাবে দৃশ্যমান। লবণাক্ততা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে উপকূলের মানুষ। এসব দুর্যোগে শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, বদলে যাচ্ছে মানুষের বসবাসের ধরন, সামাজিক সম্পর্ক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের প্রত্যাশাও।
এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের জন্য ‘ক্লাইমেট চেঞ্জের কারণে নন-ইকোনমিক লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ বিষয়ে তিনদিনের একটি কর্মশালার আয়োজন করছে আর্থ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক (EJN)। আগামী ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর সাতক্ষীরায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জলবায়ু পরিবর্তনের এমন ক্ষতিগুলো আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান ও তুলে ধরার দক্ষতা বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
টাকার অঙ্কে ধরা পড়ে না সব ক্ষতি
একটি ঘূর্ণিঝড়ে একটি পরিবারের ঘর ভেঙে গেলে তার আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি নির্ধারণ করা যায়। কিন্তু সেই ঘরটি যদি এমন একটি জায়গায় ছিল যেখানে পরিবারটি কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করত, তাহলে সেই জায়গার সঙ্গে তাদের স্মৃতি, পরিচয় ও সামাজিক সম্পর্কের মূল্য কী?
একইভাবে নদীভাঙনে কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক স্থান হারিয়ে গেলে শুধু স্থাপনাটির নির্মাণমূল্য দিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কোনো জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, লোকজ জ্ঞান, ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি কিংবা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা জীবনযাত্রায় জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত পড়লেও তার সরাসরি অর্থমূল্য নির্ধারণ করা কঠিন।
এ ধরনের ক্ষতির মধ্যে রয়েছে জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব, শিক্ষা ব্যাহত হওয়া, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিচয় হারানো, সামাজিক বন্ধন দুর্বল হওয়া এবং মানুষের মর্যাদা ও জীবনযাপনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে যখন মানুষ এক স্থান থেকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়, তখন ক্ষতির প্রভাব আরও জটিল হয়ে ওঠে। বাস্তুচ্যুতির ফলে কেউ হয়তো কর্মসংস্থান হারায়, কেউ সন্তানদের শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, আবার কোনো পরিবার আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত সামাজিক কাঠামো থেকে দূরে সরে যায়। এসব পরিবর্তনের অনেকটাই জাতীয় অর্থনৈতিক হিসাব বা দুর্যোগ-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির প্রচলিত তালিকায় ধরা পড়ে না।
সাতক্ষীরায় বাস্তবতার তীব্রতা
সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদগুলো দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের নানা অভিঘাতের মুখোমুখি। বিশেষ করে শ্যামনগরসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় লবণাক্ততা, পানির সংকট, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
[এখানে শ্যামনগর/আশাশুনি/কালীগঞ্জের একটি নির্দিষ্ট গ্রামের মাঠ-রিপোর্ট যুক্ত করা যেতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দার নাম, বয়স, পেশা, কত বছর ধরে এলাকায় বসবাস এবং জলবায়ুজনিত পরিবর্তনে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে কী কী পরিবর্তন এসেছে—এসব তথ্য যোগ করলে প্রতিবেদনটি অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।]
বিশুদ্ধ পানির সংকটের মতো একটি বিষয়ও এখানে শুধু অবকাঠামোগত সমস্যা নয়। দূরবর্তী স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে নারীদের অতিরিক্ত সময় ও শ্রম দিতে হয়। এর প্রভাব পড়ে তাদের স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সন্তানদের যত্ন এবং দৈনন্দিন জীবনে।
[এখানে অন্তত দুইজন নারী বাসিন্দার সাক্ষাৎকার যুক্ত করা উচিত—একজন তরুণী এবং একজন বয়স্ক নারী হলে প্রজন্মগত পার্থক্যও তুলে ধরা যাবে।]
নারীর ওপর আলাদা চাপ
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সব মানুষের ওপর সমানভাবে পড়ে না। একই দুর্যোগের অভিঘাত নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে।
উপকূলে পানির সংকট বাড়লে পানি সংগ্রহের দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রে নারীদের ওপর পড়ে। দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া, সন্তান ও বয়স্কদের দেখভাল, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনের মতো বিষয়গুলোও তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
আবার বাস্তুচ্যুতি ও পুরুষ সদস্যদের কর্মসংস্থানের জন্য অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে অনেক নারীকে পরিবার ও জীবিকার অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হয়। এসব পরিস্থিতির মানসিক ও সামাজিক ক্ষতিও অর্থমূল্যে পরিমাপ করা কঠিন।
তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় শুধু ‘কত টাকা ক্ষতি হলো’—এই প্রশ্ন যথেষ্ট নয়। কার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে এবং কেন পড়ছে—সেই প্রশ্নও জরুরি।
হারিয়ে যাচ্ছে সামাজিক বন্ধন ও সংস্কৃতি
জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতির আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে। একটি গ্রাম বা পাড়া যখন ভাঙনের মুখে পড়ে, তখন শুধু ঘরবাড়িই হারায় না; ভেঙে যায় প্রতিবেশী সম্পর্ক, পারিবারিক নেটওয়ার্ক, স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং বহু বছরের সাংস্কৃতিক চর্চা।
কোনো জনগোষ্ঠী যদি বারবার স্থান পরিবর্তন করে, তাহলে তাদের নিজস্ব জীবনযাত্রা ও ঐতিহ্য ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। উৎসব, ধর্মীয় আচার, লোকসংগীত, স্থানীয় জ্ঞান কিংবা প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক—সবকিছুর ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
এই ক্ষতিগুলোর কোনো সহজ বাজারমূল্য নেই। কিন্তু মানুষের জীবন ও পরিচয়ের জন্য এগুলোর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতিও বড় বিষয়
জলবায়ু দুর্যোগের তাৎক্ষণিক ধাক্কার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপও তৈরি হয়। বারবার ঘর হারানোর আশঙ্কা, জীবিকা অনিশ্চিত হওয়া, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ, ঋণের চাপ কিংবা নতুন জায়গায় মানিয়ে নেওয়ার সংগ্রাম মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
একটি পরিবার ঘূর্ণিঝড়ের পর ঘর পুনর্নির্মাণ করতে পারে, কিন্তু একই পরিবারের মধ্যে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী ভয়, অনিশ্চয়তা বা নিরাপত্তাহীনতা পুনর্গঠন করা অনেক বেশি কঠিন।
[এখানে স্থানীয় চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ/মনোসামাজিক সহায়তা নিয়ে কাজ করেন এমন সংস্থা বা গবেষকের বক্তব্য যুক্ত করা প্রয়োজন।]
শিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে শিক্ষা ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দুর্যোগে বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা, পরিবারের বাস্তুচ্যুতি কিংবা শিশুকে পরিবারের কাজে যুক্ত করার প্রয়োজন—এসব কারণে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের ক্ষেত্রে একবার কোনো শিশু দীর্ঘ সময় স্কুলের বাইরে থাকলে তাকে আবার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে যেতে পারে। এর ফলে একটি দুর্যোগের প্রভাব কয়েক মাস বা কয়েক বছরের গণ্ডি পেরিয়ে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যতের ওপর পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বনাম বাস্তব প্রয়োজন
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালের জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন—COP27—এ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতির জন্য একটি তহবিল বা ‘Fund for Responding to Loss and Damage’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঐকমত্য হয়।
তবে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজনের তুলনায় এই তহবিলের অর্থ এখনো অত্যন্ত সীমিত—এমন সমালোচনা রয়েছে। Loss and Damage Collaboration-এর হিসাবে, ২০২৫ সালেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির প্রয়োজন আনুমানিক ৩৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
অন্যদিকে জলবায়ু ন্যায্যতা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, বর্তমান কাঠামোয় অর্থনৈতিক ক্ষতির তুলনায় অর্থমূল্যে পরিমাপ করা কঠিন ক্ষয়ক্ষতিগুলো কতটা গুরুত্ব পাবে।
অর্থাৎ, ক্ষতিগ্রস্ত একটি সম্প্রদায় যদি তার বসতভিটা, সংস্কৃতি, সামাজিক বন্ধন, স্বাস্থ্য বা পরিচয়ের ক্ষতি নিয়ে সহায়তা চায়, সেই ক্ষতি কীভাবে স্বীকৃতি পাবে—এ প্রশ্ন এখনো বড় হয়ে আছে।
সাংবাদিকতার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
NELD নিয়ে সাংবাদিকতার মূল চ্যালেঞ্জ হলো অদৃশ্য বা কঠিনে-পরিমাপযোগ্য ক্ষতিকে দৃশ্যমান করা। একটি প্রতিবেদনে যদি শুধু বাঁধ ভাঙা, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা ফসল নষ্ট হওয়ার পরিমাণ তুলে ধরা হয়, তাহলে ক্ষতির একটি অংশই পাঠকের সামনে আসে।
একজন সাংবাদিককে জানতে হবে—এই দুর্যোগের পরে মানুষ কী হারিয়েছে যা টাকায় হিসাব করা যায় না? কে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? নারী ও পুরুষের অভিজ্ঞতা কি একই? শিশুদের ওপর কী প্রভাব পড়েছে? মানুষ কি তার সংস্কৃতি, সামাজিক সম্পর্ক বা পরিচয়ের কোনো অংশ হারাচ্ছে? স্থানীয় জ্ঞান ও জীববৈচিত্র্যের কী হচ্ছে?
এই প্রশ্নগুলোই একটি সাধারণ দুর্যোগ-সংবাদকে গভীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে পরিণত করতে পারে।
EJN-এর তিন দিনের কর্মশালায় সাংবাদিকদের এসব বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ভিন্নতা, নারী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর অভিঘাত এবং অভিযোজন ও সহনশীলতার গল্প কীভাবে সাংবাদিকতার মাধ্যমে তুলে ধরা যায়—তা নিয়েও আলোচনা হবে। কর্মশালার অংশ হিসেবে একটি মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনেরও আয়োজন থাকবে।
সমাধানের গল্পও জরুরি
জলবায়ু সাংবাদিকতা শুধু বিপর্যয়ের ছবি দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। কোন জনগোষ্ঠী কীভাবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াচ্ছে, স্থানীয়ভাবে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, কোথায় সরকারি বা বেসরকারি অভিযোজন ব্যবস্থা কাজ করছে এবং কোথায় তা ব্যর্থ হচ্ছে—এসবও প্রতিবেদনে আসা প্রয়োজন।
তবে ‘সহনশীলতা’ বা resilience-এর গল্প বলার সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে শুধু দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম হিসেবে দেখানোও যথেষ্ট নয়। কেন তাদের বারবার সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ কতটা, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দায় কোথায়—এসব প্রশ্নও তুলতে হবে।
কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের গল্প নয়; এটি বৈষম্য, অধিকার, উন্নয়ন, অর্থায়ন এবং জলবায়ু ন্যায্যতারও গল্প।
প্রয়োজন ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি শুধু ভাঙা ঘর, নষ্ট ফসল কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তায় সীমাবদ্ধ নয়।
কোনো মা যখন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত, কোনো পরিবার যখন পূর্বপুরুষের ভিটা হারিয়ে অন্যত্র চলে যায়, কোনো সম্প্রদায় যখন তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, কিংবা কোনো মানুষ যখন বারবার দুর্যোগের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে—সেগুলোও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি।
এই ক্ষতিগুলোকে নীতিনির্ধারণের আলোচনায় এবং সংবাদমাধ্যমের পাতায় দৃশ্যমান করা এখন সময়ের দাবি। কারণ যে ক্ষতির হিসাব করা হয় না, অনেক সময় সেই ক্ষতির জন্য ন্যায়সংগত প্রতিকারও দাবি করা যায় না।
সাতক্ষীরার উপকূল থেকে সেই অদৃশ্য ক্ষতির গল্পগুলো তুলে আনার প্রয়োজন তাই শুধু সাংবাদিকতার বিষয় নয়; এটি জলবায়ু ন্যায়বিচারেরও প্রশ্ন।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি