উপনির্বাচনে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের দলীয় প্রার্থীতার তথ্য সঠিক নয়

প্রকাশিত: ১:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২০

উপনির্বাচনে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের দলীয় প্রার্থীতার তথ্য সঠিক নয়

Manual1 Ad Code

ঢাকা, ১৯ অাগস্ট ২০২০: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসন্ন ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তনয়া সায়মা ওয়াজেদ পুতুল মনোনীত হয়েছন বলে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারিত হচ্ছে যার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহলে বেশ জোরালোভাবে আলোচনা চলছে এই প্রসঙ্গে। তবে দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে যে, এমন কোনো বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সম্ভাবনার কথা আলোচিত হয়নি। তাছাড়া দলীয় প্রার্থীতার জন্য মনোয়নপত্রও তোলা হয়নি তার নামে।

Manual5 Ad Code

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এরইমধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে যে ঢাকা-১৮ আসনের প্রয়াত এমপি অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর শূন্য আসনটিতে অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে। এর পর পরই এ তথ্যের যথার্থতা যাচাই না করেই বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ স্যোশাল মিডিয়ায় করা পোস্টে অভিনন্দন বার্তা জানাতে থাকেন। আকস্মিক এই ঘটনার মূল সত্যতা সম্পর্কে জানতে দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায় যে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল কোনো আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বলে যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে তা মূলত একটি গুজব।
আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে কেউ এখন পর্যন্ত মনোনয়ন ফরমই ক্রয় করেনি। তাছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা হলো মনোনয়ন বোর্ডের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই মনোনয়ন বোর্ডের সভার এখনো তারিখই নির্ধারিত হয়নি।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবসময় প্রত্যাশা করে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের যারা আছেন তারা রাজনীতিতে আসুক। কিন্তু এই অতিউৎসাহ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক্ষেত্রে সকল নেতাকর্মীকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বাণ জানান।
তাছাড়া একটি বিশেষ সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত সায়মা ওয়াজেদ পুতুল কিংবা সজীব ওয়াজেদ জয়ও সরাসরি রাজনীতিতে আসা বা নির্বাচনের ব্যাপারে কোন ঘোষণা দেননি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর নির্দেশনাই দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যপ্রণালী নির্ধারণে একমাত্র দিক নির্দেশনা, এক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটবে না।
প্রসঙ্গত, সিরাজগঞ্জ-১, নওগাঁ-৬, পাবনা-৪, ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সোমবার থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। চলবে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। এই ৫ টি আসনে যে উপনির্বাচন হচ্ছে, সেই ৫ টি আসনের জন্য সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষ থেকে কোন মনোনয়নপত্র কেনা হয়নি। কোন একটি মহল একেবারেই অবান্তরভাবে অথবা হয়তো না বুঝেই এ ধরণের গুজব ছড়াচ্ছে। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল জাতীয় এবং আন্তর্জাআতিক প্রেক্ষাপটে একজন গূরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাই এমন আচরণ মোটেই প্রত্যাশিত নয় বলে জানান অনেকে।
জানা যায়, যে ছবিটি দিয়ে এই তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, সেটি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল যখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছিলেন সেই সময় তাকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছিল, সেই অভিনন্দন বার্তাটি গণভবনে তাঁর হাতে তুলে দেন ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। সেই পুরনো ছবিটি দিয়ে এই প্রচারটা করা হচ্ছে। বাস্তবে মনোনয়ণের ব্যাপারে এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছে।
পাশাপাশি কতিপয় নেতাকর্মীদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ দলীয় হাইকমান্ডকে ক্ষুব্ধ করতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। কারণ,যার ব্যাপারে এমন তথ্য যাচাই ছাড়াই গুজবের প্রচারণা বানানো হলো তিনি অবশ্যই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ভবিষ্যতে যেন এমন কিছু না ঘটে সেজন্য সকলকে আরো সচেতন থাকারও আহ্বান জানান বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ