সিলেট ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২১
কূটনৈতিক সংবাদদাতা | ঢাকা, ২০ জুলাই ২০২১ : বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং (৭৬) আর নেই। শুক্রবার (১৬ জুলাই ২০২১) রুমানিয়ার একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।মঙ্গলবার (২০ জুলাই ২০২১) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইস্টার্ন লিংকের এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নানা দেশের অজস্র সহমর্মী মানুষ। যুদ্ধের মাঠে, রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে, শরণার্থী শিবিরে, প্রতিবাদে বা জনমত গঠনে কঠিন সেই সময়ে তারা ভূমিকা রেখেছেন। সেই বন্ধুদের মধ্যে ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং ছিলেন অন্যতম।
সাইমন ড্রিং ইংল্যান্ডের নরফোকের ফাকেনহাম নামক এক ছোট্ট শহরে ১৯৪৫ সালের ১১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তাকে বোর্ডিং স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর তিনি কিংস্ লিন টেকনিক্যাল কলেজে অধ্যায়ন করেন। ১৬ বৎসর বয়সে তিনি গৃহত্যাগ করেন। ১৯৬২ সালে বহিঃবিশ্ব ভ্রমণের অংশ হিসেবে ভারত ভ্রমণ করেন।
সায়মন ড্রিং একমাত্র সাংবাদিক, যিনি ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের ভয়াবহতা ও নৃশংসতার শুরু থেকেই প্রতিবেদন করছিলেন। বাংলাদেশ থেকে তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল। ভারতে মার্ক টালি যেমন, সায়মন ড্রিং বাংলাদেশের মানুষের কাছে সেরকমই একজন।
সায়মন ড্রিং বিবিসি, রয়টার্স, টেলিগ্রাফ, ওয়াশিংটন পোস্টের মতো শীর্ষ সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। পেয়েছেন বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্টার অব দ্য ইয়ার-১৯৭১।
২০০০ সালে সায়মন ড্রিং বাংলাদেশে এসেছিলেন এ দেশের প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি গড়ে তোলার প্রধান কারিগর হিসেবে। ২০০১ সালে একুশে টিভির সম্প্রচার বন্ধ হলে ২০০২ সালের অক্টোবরে সরকার সায়মন ড্রিংয়ের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে। এরপর তিনি বাংলাদেশ থেকে চলে যান।
১৯৪৫ সালে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন সায়মন ড্রিং। ১৮ বছর বয়সে ব্যাংকক ওয়ার্ল্ড নিউজপেপার থেকে তিনি কাজ শুরু করেন। নিজ চোখে দেখেছেন ২২টি যুদ্ধ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লব।
রাষ্ট্রপতির শোক
রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ প্রখ্যাত সাংবাদিক সায়মন ড্রিং-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আজ এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, সায়মন ড্রিং মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন খবরা-খবর ও ঘটনা প্রবাহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশে গণহত্যা সম্পর্কে জানাতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, সায়মন ড্রিং প্রচারিত সংবাদ মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন শুভাকাক্সক্ষী ও পরীক্ষিত বন্ধুকে হারালো।
রাষ্ট্রপতি সায়মন ড্রিং-এর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ওয়ার্কার্স পার্টির শোক
মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিংয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর শোক
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিংয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। গত শুক্রবার রুমানিয়ায় তিনি মারা যান। সায়মনের প্রয়াণের সংবাদে মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য ও বিশ্বব্যাপী শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান।
ড. হাছান মাহমুদ এক শোকবার্তায় বলেন, সায়মন ড্রিং বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম বিদেশি সাংবাদিক, যিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর লোমহর্ষক নির্যাতন ও গণহত্যার কথা সারা বিশ্বকে জানিয়ে দেন। বাংলাদেশের জন্মলগ্নে এই মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত এদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সায়মন ড্রিংয়ের অবদান ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সৈয়দ আমিরুজ্জামানের শোক
প্রখ্যাত সাংবাদিক সায়মন ড্রিং-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর শোক প্রকাশ
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বাংলাদেশ সরকারের দেয়া মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ।
আজ এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বর্বরতার চিত্র সাইমন ড্রিং প্রথম বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন। এতে নিরস্ত্র বাঙালিদের গণহত্যার প্রকৃত ঘটনা বিশ্ববাসী জানতে পেরেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে সাইমন ড্রিং-এর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি