নিরাপদ খাদ্যের যোগান নিশ্চিতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৫

নিরাপদ খাদ্যের যোগান নিশ্চিতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

Manual4 Ad Code
বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৫-এ বিশেষ সেমিনারে বক্তাদের অভিমত

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২৫ : “বাংলাদেশে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর ২০২৫) বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে ‘নিরাপদ খাদ্যের যোগান নিশ্চিতে সম্মিলিত প্রয়াস’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব বলেছেন।

Manual6 Ad Code

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) তথ্যানুসারে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭ কোটি ৭১ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার থেকে বঞ্চিত এবং ২০২৩ সালে প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে। এই বাস্তবতায় সঠিক পরিকল্পনা, গবেষণা ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠবে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন।

Manual2 Ad Code

সেমিনার আয়োজন ও উপস্থিতি

সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর কৈবর্ত সভাকক্ষে, বিসেফ ফাউন্ডেশন, ফুড সেফটি অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (WBB) ট্রাস্ট এর যৌথ উদ্যোগে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির কমিউনিকেশন অফিসার শানজিদা আক্তার।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিসেফ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী রেজাউল করিম সিদ্দিক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, প্রশিকা’র ডেপুটি ডিরেক্টর (এগ্রিকালচার) সুমনা রানী দাস এবং ইউগ্লেনা গ্যাংকি’র ডেপুটি ম্যানেজার জনাব শাহীদ আলম চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধে রেজাউল করিম সিদ্দিক বলেন, “উন্নত খাদ্য বলতে সেই খাদ্যকে বোঝায় যা পুষ্টিকর, নিরাপদ এবং মানুষের সাধ্যের মধ্যে। খাদ্য অপচয়, অসম বন্টন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখনো বিশ্বে প্রায় ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত জীবনযাপন করছে।”

তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সচেতনতামূলক প্রচারণা, প্রযুক্তিগত সহায়তা, কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান এবং টেকসই কৃষি নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে যৌথভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

খাদ্য নীতিমালায় সমন্বয়ের অভাব বড় প্রতিবন্ধকতা

এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, “বাংলাদেশে খাদ্য সম্পর্কিত ২৫টি আইন থাকলেও এখনো কোনো কার্যকর নীতিমালা বা বিধিমালা প্রণয়ন হয়নি। মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণেই খাদ্যের উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত অনিয়ম রয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদেরও ভূমিকা নিতে হবে — “নিজেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সরকারের সহযোগী হিসেবে খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় অংশ নিতে হবে।”

ছাদ বাগানে নিরাপদ সবজির বিপ্লব

প্রশিকার ডেপুটি ডিরেক্টর (এগ্রিকালচার) সুমনা রানী দাস বলেন, “ছাদ বাগান এখন নিরাপদ সবজি উৎপাদনের কার্যকর মাধ্যম। ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে ইতিমধ্যে ৬৫০০টিরও বেশি ছাদ বাগান গড়ে উঠেছে, যা নগর কৃষির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।”

তিনি জানান, সীমিত জায়গায় নিরাপদ সবজি উৎপাদন শহরবাসীর পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি খাদ্য আমদানি ও বাজার নির্ভরতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতে স্কুলভিত্তিক উদ্যোগ

Manual5 Ad Code

ইউগ্লেনা গ্যাংকি’র ডেপুটি ম্যানেজার শাহীদ আলম চৌধুরী বলেন, “শিশুদের খাদ্য নিরাপত্তা একটি বড় বিষয়। আমরা স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম খাদ্য সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”

সভাপতির বক্তব্য: খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি

সভাপতির বক্তব্যে গাউস পিয়ারী বলেন, “খাদ্য শুধু মানবাধিকারের অংশ নয়, এটি টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো দেশই প্রকৃত উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে না।”

তিনি বলেন, পৃথিবীতে একদিকে কোটি মানুষ পর্যাপ্ত খাদ্য পাচ্ছে না, অন্যদিকে বিপুল খাদ্য অপচয় হচ্ছে — এই বৈপরীত্য দূর করতেই সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার বিকাশ অপরিহার্য।

অংশগ্রহণ ও উপসংহার

Manual4 Ad Code

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, এইড ফাউন্ডেশন, লোটাস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বারসিক, ডিজেবল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাই স্কুল, শেরে বাংলা আইডিয়াল স্কুল, রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, টোবাকো কন্ট্রোল রিসার্চ সেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিনিধিবৃন্দ।

সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের মিডিয়া অফিসার নাজমুন নাহার। তিনি বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কেবল সরকারের নয়, এটি আমাদের সকলের দায়িত্ব। সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে বাংলাদেশ নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।”

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ