ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ সৈয়দ আব্দুল হান্নান আর নেই

প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২১

ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ সৈয়দ আব্দুল হান্নান আর নেই

Manual4 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | সিলেট, ৩১ অাগস্ট ২০২১ : ভাষা সৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট জেলা সভাপতি, জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল হান্নান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ মঙ্গলবার (৩১ অাগস্ট ২০২১) বেলা আড়াইটার দিকে তিনি সিলেটের একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভূগছিলেন।

Manual7 Ad Code

কীর্তিমান এই পুরুষ, জগন্নাথপুর তথা সিলেটে বিভাগের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন সিলেট নগরীতে বসবাস করে আসছিলেন।

কয়েক বছর আগেও সিলেটর রাজপথে সভা সমাবেশ যে কোন গণতান্ত্রিক অান্দোলনের অগ্রভাগে আপাদমস্তক সফেদ খদ্দরের পায়জামা পাঞ্জাবি পরিহিত সৌম্যদর্শন একজন নেতা সবার দৃষ্টি কাড়তেন। তিনি ছিলেন গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের বন্ধু। শহরের আনাচে কানাচে দেখা যেতো তাকে। পায়ে হেটে চষে বেড়াতেন সর্বত্র।
মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ, প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ সৈয়দ আব্দুল হান্নান লোকচক্ষুর আড়ালে।
নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। সারাদিন তার বিছানায় কাটতো।
সৈয়দ আব্দুল হান্নান এক সংগ্রামী মানুষের নাম। ভাষা আন্দোলন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের তিনি অন্যতম সংগঠক। এদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রয়েছে তার অগ্রনী ভূমিকা।
বাংলাদেশের ইতিহাস আন্দোলন-সংগ্রাম শহীদ বীরদের আত্মত্যাগের ইতিহাস। এই ত্যাগের ইতিহাসে বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে মহৎ কীর্তি। সুদিনের স্বপ্নে সামাজিক ন্যায় বিচার ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বহু বাঙালি ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের মধ্যে মাটি ও মানুষের নেতা প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি একজন।
ভাষা সৈনিক, শিক্ষানুরাগী, সমাজকর্মী, মানবতাবাদী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক, বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধেরর অন্যতম সংগঠক সৈয়দ আবদুল হান্নানের জন্ম ১৯২৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর
তৎকালীন সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ মহকুমার
জগন্নাথপুর থানার ঐতিহ্যবাহী গ্রাম সৈয়দপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলাম পরিবারে। তার পিতার নাম সৈয়দ শমসেদ আলী। আর মাতার নাম মোসাম্মৎ ইয়াহুরা বিবি। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি হলেন দ্বিতীয়।
সৈয়দ আবদুল হান্নানের শিক্ষাজীবন শুরু হয়
নিজ গ্রামের সরকারি মক্তবে। এখান থেকে তিনি কৃতিত্বের সাথে পঞ্চম শ্রেনী পাশ করেন। কিন্তু তখন নিজ এলাকায় কোন মাধ্যমিক স্কুল না থাকায় দুই বছর তার শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। পরবর্তিতে তিনি লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে চলে যান হবিগঞ্জ সদরে। ১৯৫০ সালে তিনি হবিগঞ্জ গভঃ হাইস্কুল ষষ্ঠ শ্রেনীত ভর্তি হন।তখন হবিগঞ্জ গভঃ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন
সৈয়দ আবদুল হান্নানের আত্মীয় সৈয়দপুরের
সন্তান সৈয়দ হাফিজুর রহমান।
উল্লেখ্য সৈয়দ হাফিজুর রহমান ছিলেন তৎকালীন সুনামগঞ্জ মহকুমার প্রথম মুসলিম গ্রেজুয়েট।
এই হাফিজুর রহমান সাহেবের কঠোর তত্ত্বাবধানে এগিয়ে চলে তার লেখাপড়া। ১৯৫২ সালে সৈয়দ আবদুল হান্নান যখন অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র দেশে শুরু হয় মহান ভাষা আন্দোলন। তিনিও সেই আন্দলনে সক্রিয় কর্মী হিসাবে অংশগ্রহন করেন। একই বছর ১৯৫২ সালে ২৬ এপ্রিল কমিউনিসট পার্টি প্রভাবিত
বামপন্থি ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন গঠিত হলে তিনি তাতে সক্রিয় কর্মী ও সংগঠক হিসাবে যোগদান করেন।
একই সময় তার যোগাযোগ হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিউনিস্ট পার্টির সাথে। এরপর ব্যক্তিজীবনে লেখাপড়ার চেয়ে কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষ আর দেশ মাতৃকার মুক্তি তার কাছে বড় হয়ে ওঠে।শোষনমুক্ত সমাজ গঠন ও দেশ মাতৃকার স্বাধীকারের স্বপ্নে বিভোর হয়ে তিনি নিজেকে তাতে উৎসর্গ করেন।তিনি এতটা রাজনীতি মনস্ক হয়ে পড়েন যে তার লেখাপড়া শিকেয় ওঠে। ১৯৫৩ সালে নবম শ্রেনীতে পড়ার সময় তার ছাত্র জীবনের ইতি ঘটে। এরপর তিনি নিজেকে আরো বেশী করে উৎসর্গ করেন মানুষের মুক্তির সংগ্রাম আর লড়াইয়ে।
তার জীবনে শুরু হয় নতুন অধ্যায় যা অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ি হওয়ার আগ পর্যন্ত ছিল চলমান।
এরপর ১৯৫৩ সালের জানুয়ারি মাসে
অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রী দল গঠিত হলে সৈয়দ আবদুল হান্নান এর সুনামগঞ্জ
মহকুমা শাখা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৫৪ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিউনিস্ট পার্টির
নির্দেশে তিনি ঢাকার নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত আদমজী জুট মিলে চাকুরী গ্রহণ করেন। তিনি আদমজী জুট
মিলস মজদুর ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে
অংশগ্রহন করেন।
এবং পরবর্তিতে তিনি আদমজী জুট মিলের সহকারী সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই বছর মে মাসের ১৫ তারিখে নারায়নগঞ্জের আদমজী জুট মিলস এবং চট্রগামের চন্দ্রঘোনা পেপারমিলে পাকিস্তান
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে বাঙালি ও গণতন্ত্র
বিরোধি অপশক্তি বাঙালি-বিহারী শ্রমিকদের মধ্যে সংঘাতময় অবস্থার সৃষ্টি করে এবং বাঙালি-বিহারী দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়। এ দাঙ্গায় বহু শ্রমিক হতাহত হয়।
এ সময় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ৯২ -ক
ধারার ক্ষমতা বলে পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন
জারি করে। এ সময় আদমজীর দাঙ্গাকে কেন্দ্র
করে সরকার ব্যাপক ধড় পাকড় চালায়। সরকারের দায়ের করা মামলায় সৈয়দ আবদুল হান্নানকেও আসামী করে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় ২৭ দিন কারাবন্দি হিসাবে তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে থাকেন। পরে তার চাচাতো ভাই ও ভগ্নিপতি সৈয়দ রাছ উদ্দিন আহমদ (রাছ মিয়া) সাহেবর চেষ্টায় তিনি জামিনে মুক্ত হন। জেল থেকে বের হয়ে সৈয়দ আবদুল হান্নান আবার আদমজীতে চাকুরী ও মজদুর ইউনিয়নের কাজে সক্রিয় হন। তবে মামলা চলতে থাকে। ১৯৫৬ সালে আতাউর রহমান খান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হলে এই মামলা প্রত্যাহার করা হয়।
১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়। সৈয়দ আবদুল হান্নান আদমজী মজদুর ইউনিয়নের প্রতিনিধি হিসাবে এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
এরপর ১৯৫৮ সালে ৭ অক্টোবর মেজর জেনারেল ইসকন্দর মির্জা পাকিস্তানের রাস্ট্র ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করেন। তখন ৯২- ক ধারা বলে আদমজী জুট মিল থেকে সৈয়দ আবদুল হান্নান সহ অনেক কে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপরও সৈয়দ আবদুল হান্নান ১৯৬২ সালের মে পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে বাঙালির সকল স্বাধিকার আন্দোলন সমুহের সাথে যুক্ত থাকেন।
মে মাসের পর তিনি নিজ গ্রামের বাড়ী সুনামগঞ্জের সৈয়দপুরে চলে আসেন। গ্রামে ফিরে তিনি প্রথমেই নিজ এলাকার কৃষকদের সমস্যা সমাধানে আত্মনিয়োগ করে কমিউনিস্ট পার্টি প্রভাবিত কৃষক সমিতি সংগঠিত করেন। এ সময় তিনি জগন্নাথপুর থানা পাওয়ার পাম্প সমিতি গঠন করেন। এর সভাপতি হন মীর্জা আবদুল ওয়াহিদ ও সাধারন সম্পাদক হন সৈয়দ আবদুল হান্নান নিজে। এরপর জগন্নাথপুর থানার নয়টি ইউনিয়নের জন্য নয়টি ডিজেল চালিত পাওয়ার পাম্প সংগ্রহ করেন। এর ফলে ১৯৬৫ সালের মধ্যে জগন্নাথপুর থানার অধিকাংশ আমন জমি বোরোতে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়। এর ফলে এই অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি খাদ্যাভাব অনেকটা দূর হয়। এর পূর্বে প্রায় প্রতি বছরই এ অঞ্চলে বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারনে খাদ্য সংকট লেগে থাকতো।
এসব কাজের পাশাপাশে সৈয়দ আবদুল হান্নান
বাঙালির জাতীয় স্বাধিকার অর্জন কৃষক শ্রমিকের উন্নত জীবন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত করতে থাকেন কমিউনিস্ট পার্টি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ও গণসংগঠন কৃষক সমিতি। এভাবে দিনরাতের কঠোর পরিশ্রমে তিনি নিজ এলাকাকে প্রগতিশীলদের একটি শক্ত ঘাঁটিতে পরিনত করেন।
শুধু তাই নয় সৈয়দ আবদুল হান্নান নিজ বাড়ীতে আত্ম গোপনে থাকা বহু প্রগতিশীল রাজনীতিবিদদের আশ্রয় দিতেন।
সাম্প্রদায়িক দাঙা বিরোধী আন্দোলন, বাঙালীর
স্বাধিকার আন্দোলন, ছয় দফা ও এগার দফা আন্দোলন, উনসত্তরের গণআন্দোলনে তিনি বৃহত্তর
সিলেট অঞ্চলে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭০ সালের সাধারন নির্বাচনে সৈয়দ আবদুল হান্নান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) মনোনীত প্রার্থী হিসাবে জগন্নাথপুর দক্ষিন সুনামগঞ্জ আসনে নির্বাচন করেন।তৎকালীন অগ্নিকন্যা খ্যাত মতিয়া চৌধুরী তার নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিয়েছিলেন।
নির্বাচনের পর পাকিস্তানী কায়েমী চক্র বাঙালীদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে শুরু করে টালবাহানা। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষনা করলেন “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধিনতার সংগ্রাম…” শুরু হয়ে গেলো
বাঙালীর স্বাধিনতা সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধ।
সৈয়দ আবদুল হান্নান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ
শুরু হলে তিনি ভারতে চলে যান। এবং মেঘালয়ের মাইলাম বালাট ক্যাম্পের অধীনে কাজ শুরু করেন।পরে তিনি জীবনবাঁজি রেখে মুক্তিযুদ্ধের কাজে গোপনে বিভিন্ন ক্যাম্পে যোগাযোগ করে গেরিলা যোদ্ধা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভারতে গিয়ে মুক্তি বাহিনীতে যোগ দেয়ার কারনে পাকিস্তানি বাহিনী কয়েক বার তার গ্রামের বাড়ীতে অভিযান চালায়।গ্রামের মানুষের সহযোগীতায় তার বাড়িঘর পাক বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পায়।
১৯৭৭ সালে সৈয়দ আবদুল হান্নান সৈয়দপুর
শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
নির্বাচিত হন। তার আমলে অত্র ইউনিয়নে নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের পাশাপাশি কৃষিতে বিপ্লব সাধিত হয়। উৎপন্ন হয় রেকর্ড পরিমান ধান নানা ধরনের শাক সবজি খাদ্য শস্য। তার কর্মের স্বীকৃতি হিসাবে সৈয়দ আবদুল হান্নান ১৯৭৮ সালে শ্রেষ্ট চেয়ারম্যান হিসাবে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তাকে ২০১১ সালে তিনি ধরিত্রী বাংলাদেশ -১৪১৭ বঙ্গাব্দ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি তিনি একজন সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। অসংখ্য স্কুল কলেজ মাদ্রাসা মসজিদ প্রতিষ্ঠায় রেখেছেন অনন্য অবদান। সামাজিক উন্নয়নমুলক নানামুখি কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
প্রগতিশীল রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতায়ও ছিল সৈয়দ আবদুল হান্নানের পদচারনা। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন দৈনিক সংবাদ এর সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি। এ ছাড়া সাপ্তাহিক যুগভেরী
ও সাপ্তাহিক একতা ‘র প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।
দেশের অনেক খ্যাতিমান সাংবাদিকদের সাথে তার ছিল জানাশুনা। অনেকেই তার বাড়ীতে গেছেন।রাজনীতিবিদদের মধ্যে বরুন রায়, আব্দুস সামাদ আজাদ, দেওয়ান ফরিদ গাজী, পীর হাবিবুর রহমান, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, আব্দুল হামিদ, নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখের সাথে তার ছিল ঘনিষ্ঠাতস। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের তিনি ছিলেন ঘনিষ্ঠ সহচর। ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সহ বিভিন্ন সময় সুনামগঞ্জ মহকুমা জেলা ন্যপ এর সভাপতি সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সৈয়দ আবদুল হান্নান দীর্ঘ দিন থেকে পালন করেছেন সিলেট জেলা ন্যাপ এর সভাপতির দায়িত্ব। তিনি ১৪ দলীয় জোটেরও অন্যতম নেতা।
রাজনীতির মাঠের এই নিবেদিত প্রাণ মানুষ
সৈয়দ আবদুল হান্নান ১৯৫৯ সালে সৈয়দা দিলারা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের চার ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলে মেয়ে সবাই দেশে বিদেশে কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তার বড় ছেলে সৈয়দ হাসান আহমদ যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
২য় ছেলে সৈয়দ হোসেন আহমদ কানাডা প্রবাসী। ৩য় ছেলে সৈয়দ মহসীন আহমদ খ্যাতিমান আইনজীবি ও সিলেট ল কলেজের অধ্যক্ষ। ৪র্থ ছেলে সৈয়দ সুয়েব আহমদও আইনজীবি।
সৈয়দ আবদুল হান্নানের বড় মেয়ে ডাঃ সৈয়দা রাজনা বেগম যুক্তরাজ্য প্রবাসী খ্যাতিমান গাইনী রোগ বিশেষজ্ঞ। তার স্বামী ডাঃ মুজিবুল হক যুক্তরাজ্য প্রবাসী শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে তারা দু’জন সুলতানাত অব ওমানে কর্মরত।
তার ২য় মেয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সৈয়দা রেখা বেগম।সাবেক জি এস সিলেট সরকারী মহিলা কলেজ। তার স্বামী সাবেক ছাত্রনেতা সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, সাধারন সম্পাদক যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। ৩য় মেয়ে ব্যাংকার সৈয়দা রুবানা বেগম। তার স্বামী মাহবুব আহমদ চৌধুরী গ্রুপ ক্যাপ্টেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
আজীবন মানুষের কল্যানে নিবেদিত প্রাণ সদাহাস্যময় অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবদুল হান্নান এখন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিলেটের শাহী ঈদগাহ ‘র সৈয়দপুর হাউসের বাসভবনে শয্যাশায়ী ছিলেন। নীরবে নিভৃতে অতিবাহিত হয়েছে তার দিন। গত দুই মাসের ব্যবধানে তিনি হারিয়েছেন তার ছোট দুই ভাই সৈয়দ আবদুর রহমান ও সৈয়দ আতাউর রহমান কে। তাদের মৃত্যুতে তিনি শারিরিক মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েছিলেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির শোক

ভাষা সৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট জেলা সভাপতি, জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল হান্নানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।

সৈয়দ অামিরুজ্জামানের শোক প্রকাশ

Manual6 Ad Code

ভাষা সৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট জেলা সভাপতি, জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল হান্নানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান। তাঁর মৃত্যুতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা শাখার সম্পাদক তাপস ঘোষ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি দেওয়ান মাসুকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দীন এবং শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সভাপতি শেখ জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক রোহেল আহমদ, বাংলাদেশ যুবমৈত্রীর শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি জামাল মুশরাফিয়া ও বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অজিত বোনার্জি, বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদের সৈয়দা তাহমিনা বেগম ও তৃণমূল নারী উদ্দোক্তা সোসাইটি (গ্রাসরুটস)-এর মৌলভীবাজার জেলা যুগ্ম অাহবায়ক অন্তরা ঘোষ।

Manual5 Ad Code

ঐক্য ন্যাপের শোক বিবৃতি

ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ তারেক এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সিলেট জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা, ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীণ জননেতা আবদুল হান্নানের মৃত্যুতে গভীর শোক জানান এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার ও ভক্ত-অনুরক্তদের জানান আন্তরিক সমবেদনা। তাঁর মৃত্যুতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন ন্যাশনাল অাওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নীহারেন্দু হোম সজল।

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ