আইনে ক্ষতিপূরণ বাড়ালে নৌ-সড়কে দুর্ঘটনা কমতে পারে: ব্লাস্টের মতবিনিময়সভায় বক্তারা

প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২২

আইনে ক্ষতিপূরণ বাড়ালে নৌ-সড়কে দুর্ঘটনা কমতে পারে: ব্লাস্টের মতবিনিময়সভায় বক্তারা

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৩ জানুয়ারি ২০২২ : নৌপথ ও সড়কপথে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের দাবি জানানো হয়েছে। ‘নৌপথ ও সড়কপথে অবহেলিত মৃত্যু: যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতে করণীয়’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ দাবি জানান।

বক্তারা সড়কে যানবাহন ও যাত্রীদের সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়ানোর সুপারিশও করেন।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) সোমবার (৩ জানুয়ারি ২০২২) এই মতবিনিময় সভা করে।
এতে বক্তারা বলেন, শুধু আইন সংশোধন করে সড়ক বা নৌ দুর্ঘটনা কমানো যাবে না। নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে লঞ্চের মালিক, চালক ও সুপারভাইজারকে আরও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি তাদের জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

Manual7 Ad Code

তারা বলেন, ১৯৭৬ সালের অধ্যাদেশ দিয়ে সমুদ্র অধিদপ্তরে থাকা নৌ আদালতকে উন্মুক্ত স্থানে বিচার কার্যক্রম চালাতে হবে। নৌপথ বিদ্যমান আইনে যাত্রীদের সুরক্ষা নেই। এ আইন বেশ দুর্বল। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে নৌ দুর্ঘটনা হলে বিচারে তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না।
তারা বলেন, বিচারে শাস্তি বাড়ানো একমাত্র সমাধান নয়, সামাজিক সচেতনতাও বাড়াতে হবে।

মতবিনিময় সভায় আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, বিদ্যমান আইনে ক্ষতিপূরণ খুবই কম, আইন সংশোধন করে ক্ষতিপূরণ বাড়ানো হলে দুর্ঘটনা কমতে পারে। নৌ আইন সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, লঞ্চের ভেতর ইঞ্জিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে অবশ্যই মালিক দায়ী। নীতিমালা মেনে যানবাহন চললে দুর্ঘটনা কমে যাবে।

Manual6 Ad Code

ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, নৌ ও সড়কপথে আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। এই কাঠামোগত যেন পরিবর্তন আসে, সে জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর নির্বাহী প্রধান আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসন চাইলে ক্ষতিপূরণ দিতে আইন কোনো বাধা নয়। এটা সংশোধন করাই যায়। সড়কে বা নৌপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

Manual8 Ad Code

নিরাপদ সড়ক চাই-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ২৮ বছর ধরে নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করছি, যা এখনও শেষ হয়নি। আগামী দিনেও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ব্যারিস্টার অনিক আর হক বলেন, নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি হিসেবে প্রতিটি লঞ্চে বিআইডব্লিউটিএর একজন প্রতিনিধি থাকতে হবে। লঞ্চের ইঞ্জিন, চালকের লাইসেন্স, সনদ, ফিটনেস ঠিক আছে কি না- এসব বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় আরও বক্তৃতা করেন অধ্যাপক ড. আসিফ রায়হান, জীবন বীমা করপোরেশনের লিয়াকত আলী খান, আইনজীবী জীবনানন্দ জয়ন্ত, ইশরাত জাহান সিদ্দিকী প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক জ ই মামুন।

Manual4 Ad Code

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ