বলিভিয়ার সমাজতন্ত্রী গেরিলা যোদ্ধা কমরেড মণিকা এর্টল

প্রকাশিত: ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২০

বলিভিয়ার সমাজতন্ত্রী গেরিলা যোদ্ধা কমরেড মণিকা এর্টল

Manual7 Ad Code

অনুসন্ধিৎসু | ঢাকা, ০১ এপ্রিল ২০২০ : বলিভিয়ার সমাজতন্ত্রী গেরিলা যোদ্ধা কমরেড মণিকা এর্টলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। লাল সালাম।

Manual7 Ad Code

১৯৭১-এর ১ এপ্রিল, বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর উগ্র দক্ষিণপন্থী সদস্য, কর্নেল রোবের্তো কুইনতানিল্লা পেরেইরাকে হত্যা করেন জার্মান বংশোদ্ভূত বলিভিয়ার সমাজতন্ত্রী গেরিলা যোদ্ধা মণিকা এর্টল।

Manual5 Ad Code

১৯৬৭ সালে আর্নেস্টো চে গেভারা যখন গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে বলিভিয়ায় বিপ্লব সংঘটনের চেষ্টা করছিলেন, তখন সিআইএ-র প্রত‍্যক্ষ নির্দেশনা ও সহযোগিতায় বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট চে’কে বন্দী করতে সক্ষম হয়। সেসময় ওই কর্নেল পেরেইরার নির্দেশেই, বন্দী অবস্থায় অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে, চে’কে হত্যা করা হয় ও তার হাত দুটো কেটে নেওয়া হয়। এর বদলা সরূপ সেদিন পেরেইরাকে হত্যা করা হয়েছিল, আর সে কারণেই কমরেড মণিকা পরিচিতি লাভ করেন “চে হত্যার প্রতিশোধগ্রহণকারী” বলে।

মণিকার পিতা ছিলেন হিটলারের অনুগামী এবং জার্মানির নাৎসী মতবাদের একজন প্রচারক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি পালিয়ে বলিভিয়াতে এসে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তবে মণিকা তার পিতার এই রাজনৈতিক মতাদর্শ ঘৃণাভরে প্রত‍্যাখ‍ান করেন। তিনি সমাজতন্ত্রের নীতিআদর্শ গ্রহণ করেন এবং কিউবার বিপ্লব ও এর আর্জেন্টিনিও কমান্ডার বিপ্লবী চে’র দৃঢ় সমর্থকে পরিণত হন। মার্কিন সমর্থনপুষ্ট বলিভিয়ার সেনাবাহিনী লা হিগুয়েরাতে গেভারাকে হত‍্যা করার পর, তিনি বলিভিয়ার বিপ্লবী গেরিলা আন্দোলন ন‍্যাশনাল লিবারেশন আর্মি অফ বলিভিয়ায় (ELN) সরাসরি যোগদান করেন।

Manual4 Ad Code

১৯৭১ সালে মণিকা জার্মানির হামবুর্গ শহরে ফিরে আসেন। কর্নেল রোবের্তো তখন সেখানে বলিভিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। চে’র হত‍্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টতার জন্য ELN তাকে টার্গেট করতে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই বলিভিয়ার সরকার তাকে সেখানে পাঠিয়েছিল। সেখানেই তিনি নিজে কুইনতানিল্লাকে পরপর তিনবার গুলি করে হত্যা করেন ও নিরাপদে সরে আসতে সক্ষম হন। এভাবেই চে হত‍্যার প্রতিশোধ গ্রহণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়।

শেষ পর্যন্ত কমরেড মণিকা ১৯৭৩ সালের ১২ মে বলিভিয়ায় সে দেশের সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সেস কর্তৃক ধৃত ও নিহত হন। হত্যা করার আগে তাকে ব‍্যাপক নির্যাতন করা হয় এবং তার লাশ আর খুঁজে পাওয়া যায় নাই। আর এভাবে নিজের জীবন দিয়ে হলেও “চে হত‍্যার প্রতিশোধগ্রহণকারী” হিসেবে লাতিন আমেরিকার মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকলেন কমরেড মণিকা এর্টল।
সূত্র : রেডফিশ

Manual6 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ