জাতীয় সংগীত দিয়ে শুরু হলো ‘নারীর ডাকে মৈত্রীযাত্রা’

প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২৫

জাতীয় সংগীত দিয়ে শুরু হলো ‘নারীর ডাকে মৈত্রীযাত্রা’

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৬ মে ২০২৫ : “সমতার দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ! চলো, একসাথে হই ন্যয় ও মর্যাদার পথে।”- এইসব শ্লোগান ও প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রগতিশীল নারী, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক এবং পেশাজীবী সংগঠনগুলোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নারীর ডাকে মৈত্রীযাত্রা’ কর্মসূচি।

আজ শুক্রবার (১৬ মে ২০২৫) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশ করা হয়। এ কর্মসূচিতে ৫১টিরও বেশি সংগঠন সংহতি জানিয়ে অংশ নেয়।

Manual2 Ad Code

‘সমতার দাবিতে আমরা’ স্লোগানের এই কর্মসূচিতে প্রগতিশীল নারী, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিককর্মী, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বেলা দুইটা থেকে বিভিন্ন ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁদের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আসতে দেখা যায়।

বিভিন্ন সংগঠন এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, নারী মুক্তি কেন্দ্র, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, হিল উইমেনস ফেডারেশন, আদিবাসী ইউনিয়ন, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, বাংলাদেশ নারী জোট, নারী সংহতি, ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী), তীরন্দাজ, শ্রমিক অধিকার আন্দোলন প্রভৃতি।

Manual6 Ad Code

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মূলত নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই কর্মসূচি হচ্ছে। পাশাপাশি নারীদের প্রতি অবহেলা, অবজ্ঞা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে দীপ্ত প্রতিবাদ জানাতে কর্মসূচি হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারীদের সরব উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা এবং সামাজিক কাঠামো নারীদের সেই ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। নারীরা শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নয়, শ্রমক্ষেত্র থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গন, সংস্কৃতি এবং প্রতিদিনের জীবনে যেভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, তার মূল্যায়ন এখনও পর্যাপ্ত নয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারী শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী নারী, যৌনকর্মী ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারীদের ওপর যেসব নিপীড়ন চলছে, তার বেশিরভাগই থেকে যাচ্ছে বিচারহীন। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো এবং ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী যৌথভাবে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যকে আরও শক্তিশালী করছে। নারীদের নিজস্ব স্বরকে দাবিয়ে রাখার অপচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে প্রতিটি ঘটনাতেই।

এই কর্মসূচি কেবল নারীদের স্বার্থরক্ষা নয়, বরং এটি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির আন্দোলনের অংশ। সমাজের সব স্তরের মানুষকে এই যাত্রায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

নারীমুক্তি কোনও একক ইস্যু নয়, এটি শ্রমিক-মজুরের মুক্তি, জাতিসত্তার অধিকার, বাক-স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গেই জড়িত। তাই এই যাত্রা শুধুই নারীর নয় বরং সব প্রগতিশীল শক্তির মিলনমঞ্চ।

Manual8 Ad Code

আয়োজন উপলক্ষে ৩১টি স্লোগানের একটি তালিকা করেছেন আয়োজকেরা। স্লোগানগুলোতে নারীর অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা, শ্রমিকের অধিকার, ফ্যাসিবাদের বিরোধিতাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের পক্ষেও স্লোগান রাখা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ