নিউইয়র্ক আদালতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো, অপহরণের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২৬

নিউইয়র্ক আদালতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো, অপহরণের অভিযোগ

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র), ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ : প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক সিটির একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। আদালত কক্ষের দরজায় প্রবেশের ঠিক আগে তার পায়ে বাঁধা শিকলের শব্দ শোনা যায়। এরপর সাংবাদিক ও জনসাধারণের সামনে উপস্থিত করা হলে তিনি বললেন, তাকে ‘অপহরণ’ করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী নাটকীয় এই শুনানিতে বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইনের সামনে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে বলা হলে মাদুরো স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, “আমি নিকোলাস মাদুরো, ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট। আমাকে তেসরা জানুয়ারি থেকে অপহরণ করে এখানে রাখা হয়েছে।” তার বক্তব্য আদালতের দোভাষীর মাধ্যমে অনুবাদ করা হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কারাকাসে নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৯২ বছর বয়সী বিচারক হেলারস্টেইন তাকে সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, এসব বিষয়ে আলোচনা করার জন্য উপযুক্ত সময় ও স্থান থাকবে।

Manual1 Ad Code

শুনানিতে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। “আমি নির্দোষ। আমি একজন ভদ্র মানুষ,” বলেন মাদুরো। তার স্ত্রী ফ্লোরেসও নিজেকে “সম্পূর্ণ নির্দোষ” বলে দাবি করেন।

Manual1 Ad Code

মার্কিন বাহিনী শনিবার ভেনেজুয়েলার একটি কম্পাউন্ড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। ওই অভিযানের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলায় একাধিক সামরিক স্থাপনায়ও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
শুনানির সময় নীল ও কমলা রঙের কারা পোশাক পরা মাদুরো ও ফ্লোরেস স্প্যানিশ অনুবাদ শোনার জন্য হেডফোন ব্যবহার করেন। তাদের মাঝখানে একজন আইনজীবী বসে ছিলেন। মাদুরো একটি হলুদ লিগ্যাল প্যাডে নোট লিখতে দেখা যায় এবং শুনানি শেষে সেটি নিজের কাছে রাখার অনুমতি চান।

উল্লেখ্য, এই একই আদালত কক্ষে কয়েক মাস আগে মার্কিন র‍্যাপার শন ‘ডিডি’ কম্বসের বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আদালতে প্রবেশের সময় মাদুরো দর্শক সারিতে বসা কয়েকজনের দিকে মাথা নেড়ে অভিবাদন জানান।

Manual4 Ad Code

শুনানির পুরো সময় জুড়ে তাকে শান্ত ও অভিব্যক্তিহীন দেখা যায়। এমনকি দর্শক সারি থেকে এক ব্যক্তি হঠাৎ চিৎকার করে মাদুরোকে তার অপরাধের ‘মাশুল’ দেওয়ার কথা বললেও তিনি সংযত থাকেন। পাল্টা জবাবে স্প্যানিশ ভাষায় মাদুরো বলেন, “আমি একজন প্রেসিডেন্ট এবং একজন যুদ্ধবন্দি।” পরে নিরাপত্তাকর্মীরা ওই ব্যক্তিকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে দেন।

মাদুরোর প্রশাসন নিয়ে দীর্ঘদিন রিপোর্ট করা ভেনেজুয়েলার সাংবাদিক মাইবোর্ট পেটিট জানান, গ্রেপ্তারের সময় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কারাকাসের ফুয়ের্তে তিউনার কাছে তার পারিবারিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Manual2 Ad Code

মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলনামূলকভাবে শান্ত দেখা যায়। তার চোখ ও কপালে ব্যান্ডেজ ছিল। আইনজীবীরা জানান, গ্রেপ্তারের সময় প্রাপ্ত আঘাতের কারণেই এই অবস্থা এবং তার পাঁজরে ফ্র্যাকচারের আশঙ্কায় এক্স-রের আবেদন করা হয়েছে।

শুনানিতে তারা কেউই জামিন চাননি। ফলে আপাতত তাদের ফেডারেল হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক ও সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রাখার অভিযোগ এনেছে। এসব মামলায় তার স্ত্রী, ছেলে এবং আরও কয়েকজন সহযোগীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আদালত আগামী ১৭ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ