শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু নিয়ে নিউজ করায় সাংবাদিককে হুমকি ও হামলার চেষ্টা

প্রকাশিত: ১:৪১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু নিয়ে নিউজ করায় সাংবাদিককে হুমকি ও হামলার চেষ্টা

Manual7 Ad Code
থানায় অভিযোগ, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হুমকি ও হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারী সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন বাদশা (২৮) জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার-এর মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার দুর্গানগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুল শহিদের পুত্র।

Manual3 Ad Code

থানায় দায়ের করা অভিযোগে গোলগাঁও গ্রামের ফারুক মিয়া (৪০)-কে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়াও তার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে জয়নাল আবেদীন বাদশা মোটরসাইকেলযোগে দুর্গানগর শান্তিবাজার এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে গালিগালাজ শুরু করে এবং মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেয়।

Manual6 Ad Code

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা সাংবাদিককে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে হত্যা করা হবে। এরপর তারা তাকে মারধরের চেষ্টা করলে আশপাশের স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে সাংবাদিককে উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন বাদশা জানান, সম্প্রতি তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের জেরেই তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগপত্রে দুর্গানগর গ্রামের মো. তৈফিক মিয়া ও মো. নুর উদ্দিনকে ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান আসামি ফারুক মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Manual4 Ad Code

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মুন্না বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সাংবাদিকের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজ-এর সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা ও হুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

এদিকে, শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় সাংবাদিক সমাজও ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিকের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ