শিক্ষা, সাহিত্য ও সমাজসেবায় সম্মাননা পেলেন পারভেজ হাসান

প্রকাশিত: ১:০৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২৬

শিক্ষা, সাহিত্য ও সমাজসেবায় সম্মাননা পেলেন পারভেজ হাসান

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১১ এপ্রিল ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শিক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কবি, গীতিকার ও সাংবাদিক পারভেজ হাসানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সবুজ বাংলা সমাজকল্যাণ সংস্থা আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

Manual6 Ad Code

শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৪টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার জানাউড়া বাজার সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এক মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। খেলাধুলার আয়োজনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো এবছর গুণীজনদের সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী পারভেজ হাসানকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন তাজু তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী

পারভেজ হাসানের জন্ম শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাইটুলা গ্রামের মটলীপাড়ার মুন্সি বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। পিতা আব্দুর রশিদ ও মাতা রীনা বেগমের জ্যেষ্ঠ সন্তান তিনি। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও সৃজনশীল মননের অধিকারী পারভেজ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন কবিতা লেখা শুরু করেন। নবম শ্রেণিতে ওঠার পর তিনি গান লেখায়ও পারদর্শিতা অর্জন করেন।

তিনি ২০১০ সালে সাংবাদিকতা শুরু করলেও কিছুদিন বিরতির পর ২০২৩ সালে পুনরায় এ পেশায় যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক বর্তমান বাংলা পত্রিকার শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও সাময়িকীতে নিয়মিত তার লেখা প্রকাশিত হচ্ছে।

সাহিত্য ও সংগীতে অবদান

এ পর্যন্ত পারভেজ হাসানের শতাধিক ইসলামিক গজল, চার শতাধিক গান এবং কয়েকশ’ কবিতা ও ছড়া রচিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত গীতিকার; তার লেখা গান নিয়মিত বেতারে প্রচারিত হচ্ছে।

তিনি লিটল ম্যাগাজিন পঙক্তি–এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন এবং সাহিত্যচর্চায় নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করে যাচ্ছেন।

শিক্ষাজীবন ও পেশা

পারভেজ হাসান ২০১০ সালে সিন্দুরখান হাজী আব্দুল গফুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি, ২০১২ সালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, ২০১৬ সালে কমলগঞ্জ গণ মহাবিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে অনার্স এবং ২০১৭ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি দীর্ঘ প্রায় এক দশক বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি মানবসেবামূলক উদ্যোগ হিসেবে ফার্মেসি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

Manual3 Ad Code

সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা

সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে পারভেজ হাসান বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুব ফোরামের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, সাঁকো নির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

এছাড়া ২০২৪ সাল থেকে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন গ্রামে অসহায় মানুষের জন্য ১৪টি টিউবওয়েল স্থাপন, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

অর্জন ও স্বীকৃতি

তার কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

২০১৮ সালে “সেরা ইয়েস ২০১৭” সম্মাননা (টিআইবি),

Manual2 Ad Code

২০২৫ সালে জেলা পর্যায়ে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান,

২০২৫ সালে “ফ্রেন্ডস পাওয়ার” থেকে আজীবন সম্মাননা,

Manual7 Ad Code

২০২৬ সালে একুশে টিভিতে বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার।

সংগঠনিক সম্পৃক্ততা

পারভেজ হাসান বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—দেশপ্রেমিক বেতার শ্রোতা সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি, সাইটুলা সমাজকল্যাণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, সনাক (টিআইবি) সদস্যসহ একাধিক সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমেদ, যুবদল নেতা আজির উদ্দিন, ব্যবসায়ী জামাল আহমেদ, যুবনেতা শাকির আহমেদ, ছাত্রদল নেতা জালাল আহমেদ, সাংবাদিক রুবেল আহমেদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন

পারভেজ হাসান তার কর্মের মাধ্যমে একটি আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে দেশব্যাপী ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই তার লক্ষ্য।

স্থানীয়দের মতে, তার এই সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং শ্রীমঙ্গলের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনের জন্যও গর্বের বিষয়।