এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাকৃবির মারজানা আক্তার

প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০২৬

এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাকৃবির মারজানা আক্তার

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৬ মে ২০২৬ : বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও গবেষণা খাতে যুক্ত হলো এক গৌরবময় অধ্যায়। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ এর ২০২৬ সালের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অসামান্য অবদান রাখা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের স্বীকৃতি দিতে প্রতিবছর আন্তর্জাতিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

মারজানা আক্তার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগ থেকে অণুজীববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

Manual6 Ad Code

গবেষক মারজানা আক্তারের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল বাংলাদেশের হাঁস-মুরগির মধ্যে প্রথমবার ‘চিকেন ইনফেকশিয়াস অ্যানিমিয়া ভাইরাস’ (CIAV)-এর অত্যন্ত ক্ষতিকর ‘জেনোটাইপ ৩বি স্ট্রেন’ (Genotype IIIb strain) শনাক্ত করা। দেশের পোল্ট্রি শিল্পের সুরক্ষায় এবং এ সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধে তার এ আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী একটি অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Manual5 Ad Code

এছাড়াও, গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গত বছরের ডিসেম্বরে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সামনে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, যা দেশের জন্য একটি অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত ছিল।

Manual5 Ad Code

২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর সিঙ্গাপুরভিত্তিক সাময়িকী ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট’ এ তালিকা প্রকাশ করে আসছে। এ তালিকায় স্থান পেতে হলে গবেষণায় অসামান্য অবদান, যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, আন্তর্জাতিক বা জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি কিংবা একাডেমিক ও শিল্পখাতে সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বের প্রমাণ রাখতে হয়।

Manual4 Ad Code

বাংলাদেশি নারী বিজ্ঞানীদের জন্য এই তালিকায় স্থান পাওয়ার ইতিহাস বেশ গৌরবময়। এর আগে ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী এবং ২০২৩ সালে অণুজীববিজ্ঞানী ড. সেঁজুতি সাহা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে অবদানের জন্য এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন।

পূর্বসূরিদের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার তরুণ গবেষক মারজানা আক্তারের এ বৈশ্বিক অর্জন দেশের বিজ্ঞানচর্চা এবং বিশেষ করে তরুণ নারী গবেষকদের জন্য এক নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে। এ অনন্য সাফল্যে তার পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে ভাসানো হচ্ছে অভিনন্দন ও প্রশংসায়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ