বকেয়া বেতনসহ ৭ দফা দাবিতে মহাখালীতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৬

বকেয়া বেতনসহ ৭ দফা দাবিতে মহাখালীতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৬ জুন ২০২৬ : বকেয়া বেতন-ভাতাসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ করেছেন একটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা।

Manual5 Ad Code

মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) সকাল থেকে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিলে ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাখালী, তেজগাঁও, সাতরাস্তা, বনানী ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দাবি আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েও কার্যকর কোনো সমাধান না পাওয়ায় তারা সড়কে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। সকাল থেকেই শত শত শ্রমিক মহাখালী-তেজগাঁও সড়কের বিভিন্ন অংশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

Manual1 Ad Code

শ্রমিকদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে তারা বেতন না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক শ্রমিক বাসাভাড়া, সন্তানের শিক্ষাব্যয় এবং দৈনন্দিন খরচ চালাতে ঋণের বোঝা কাঁধে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনে নামতে হয়েছে।

অবরোধ চলাকালে শ্রমিকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী, গত মে মাসের বকেয়া বেতন অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া ২০২৫ সালের অর্জিত ছুটির অর্থ, ডিসেম্বর ২০২৫ সালের এরিয়া বিলের বকেয়া, নোটিশ পে-বিল এবং শ্রম আইন অনুযায়ী পরবর্তী চার মাস বা ১২০ দিনের বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানান তারা।

এছাড়া শ্রম আইন অনুযায়ী সব শ্রমিক-কর্মচারীর সার্ভিস বেনিফিট শতভাগ পরিশোধ এবং পাওনা আদায়ের প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হয়রানি, পুলিশি মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি কিংবা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন থেকে বিরত থাকার নিশ্চয়তা দাবি করেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।

Manual7 Ad Code

শ্রমিকদের সাত দফা দাবি

১. গত মে মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ।
২. ২০২৫ সালের ছুটির অর্থ প্রদান।
৩. ডিসেম্বর ২০২৫ সালের এরিয়া বিলের বকেয়া পরিশোধ।
৪. নোটিশ পে-বিল পরিশোধ।
৫. শ্রম আইন অনুযায়ী পরবর্তী ৪ মাস বা ১২০ দিনের বেতন-ভাতা প্রদান।
৬. সব শ্রমিক-কর্মচারীর সার্ভিস বেনিফিট শতভাগ পরিশোধ।
৭. পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানি, পুলিশি মামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা শারীরিক-মানসিক নির্যাতন না করা।

অবরোধের কারণে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে আশপাশের সড়কগুলোতেও এর প্রভাব পড়ে। অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে পায়ে হেঁটে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করেন। অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখার চেষ্টা করছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন এবং দাবি পূরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

শ্রমিক নেতারা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ন্যায্য পাওনার জন্য অপেক্ষা করছি। বহুবার আলোচনা ও দাবি উত্থাপন করেও কোনো সমাধান পাইনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

Manual8 Ad Code

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে দ্রুত সমাধান এবং সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে শ্রমিকদের অবরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা। তারা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শ্রমিকদের দাবি ও মালিকপক্ষের অবস্থান নিয়ে পরবর্তী সময়ে আলোচনার অগ্রগতি পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ