শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষিতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে সিদ্ধিরগঞ্জে বাসদের মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২৬

শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষিতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে সিদ্ধিরগঞ্জে বাসদের মানববন্ধন

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ), ২৪ জুন ২০২৬ : শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত কথিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও এলপি গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং জনগণের স্বার্থে জনকল্যাণমুখী জাতীয় বাজেট প্রণয়নের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।

বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) বিকেল ৫টায় সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল চৌধুরী বাড়ি বাসস্ট্যান্ডের সামনে বাসদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

Manual3 Ad Code

মানববন্ধন ও সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শ্রমিক, নারী ও যুব প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির সদস্য রুহুল আমীন সোহাগ। বক্তব্য দেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব কমরেড আবু নাঈম খান বিপ্লব, বাসদের জেলা বর্ধিত ফোরামের সদস্য ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট সিদ্ধিরগঞ্জ শাখার সদস্য সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও জনকল্যাণের চেয়ে ধনী ও কর্পোরেট গোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণে অধিক মনোযোগী। তাদের দাবি, বাজেটে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চ আয়ের ব্যক্তি ও বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর জন্য কর-সুবিধা ও উৎসে কর হ্রাসের সুযোগ রাখা হলেও ভ্যাটের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের চাপ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম আরও বাড়তে পারে, যা সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

Manual7 Ad Code

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিক্ষা খাত একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলেও জাতীয় বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়নি। তারা উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ ও ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে বরাদ্দের ঘাটতির কারণে শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গ তুলে নেতারা বলেন, পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। সরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট নিরসন, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে বাজেটে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া জরুরি।

কৃষি খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বিপণন সংকট এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে কৃষকরা বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, বাজার ব্যবস্থার সংস্কার এবং কৃষিখাতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

Manual2 Ad Code

বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। শ্রমজীবী, নিম্নআয়ের ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী প্রতিদিন জীবনধারণের সংগ্রামে আরও বেশি চাপে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও এলপি গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত কথিত অসম ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তির সমালোচনা করে নেতারা বলেন, দেশের অর্থনীতি, শিল্প, কৃষি ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো চুক্তি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বৈষম্যমূলক ও অসম চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়ন কিংবা বাতিলের দাবি জানান তারা।

Manual3 Ad Code

বক্তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এমন একটি বাজেট প্রয়োজন, যা জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং জনসেবামূলক খাতগুলোর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি প্রকৃত জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ জনগণের অধিকার, গণতান্ত্রিক দাবি এবং জনস্বার্থ রক্ষার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকারকে কার্যকর ও জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ