ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণের প্রজ্বলন বন্ধ করায় ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্বেগ, পুনরায় চালুর দাবি

প্রকাশিত: ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২৬

ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণের প্রজ্বলন বন্ধ করায় ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্বেগ, পুনরায় চালুর দাবি

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০২ জুলাই ২০২৬ : ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ‘শিখা অনির্বাণ’-এর প্রজ্বলন বন্ধ রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

দলটির কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরো এক বিবৃতিতে অবিলম্বে শিখা অনির্বাণ পুনরায় প্রজ্বলনের দাবি জানিয়ে বিষয়টিকে জাতীয় আবেগ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছে।বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের আহ্বায়ক কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও গণমাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয়, শিখা অনির্বাণ কেবল একটি স্মারক নয়; এটি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ত্যাগ, সাহস ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। এর অনির্বাণ শিখা স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনা, দেশপ্রেম এবং জাতীয় গৌরবের ধারক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

Manual5 Ad Code

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আদর্শিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তির অন্যতম প্রতীক হলো ‘শিখা অনির্বাণ’। জনগণকে অবহিত না করে বা পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই এর প্রজ্বলন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এতে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।

Manual8 Ad Code

ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো তাদের বিবৃতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের যুক্তিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় ইতিহাস ও আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে শিখা অনির্বাণের গুরুত্ব বিবেচনায় এ ধরনের ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয়। তারা মনে করে, দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বা প্রশাসনিক যুক্তির চেয়ে ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Manual6 Ad Code

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের স্বার্থে শিখা অনির্বাণ পুনরায় প্রজ্বলনের মাধ্যমে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান ঘটানো উচিত। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে জনমনে যে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত শিখা অনির্বাণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ ও বীর সেনানীদের স্মরণে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। জাতীয় বিভিন্ন দিবস, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কর্মসূচিতে এর প্রতীকী গুরুত্ব বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এর প্রজ্বলন বন্ধ থাকার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক মহল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

Manual5 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ