শ্রীমঙ্গলে গ্রামের রাস্তা পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৩:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে গ্রামের রাস্তা পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন

Manual8 Ad Code
  • বর্ষায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কুঞ্জবন গ্রাম, প্রসূতি নিতে ব্যবহার করতে হয় পলো

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৫ জুলাই ২০২৬: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের কুঞ্জবন গ্রামের দীর্ঘদিনের কাঁচা সড়ক দ্রুত পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্বাধীনতার পর থেকে গ্রামটির গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পাকা না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Manual5 Ad Code

বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে কুঞ্জবন গ্রামের প্রধান সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, প্রবীণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে বক্তারা গ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্র তুলে ধরে দ্রুত সড়ক উন্নয়নের দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রামবাসীদের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা গ্রামের সড়ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে কুঞ্জবন গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চলতি বর্ষা মৌসুমে কাঁচা সড়কগুলো কাদামাটিতে পরিণত হওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং রোগীদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টির সময় গ্রামের অনেক অংশ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

Manual6 Ad Code

গ্রামবাসীরা জানান, কুঞ্জবন গ্রামে দুটি মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি পাক পাঞ্জাতন মোকাম রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও যাতায়াত করেন। কিন্তু জরাজীর্ণ কাঁচা সড়কের কারণে বর্ষাকালে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি কমে যায় এবং বৃদ্ধ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে ওঠে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে স্থানীয়রা জানান, প্রসূতি ও গর্ভবতী নারীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। ফলে বাধ্য হয়ে বাঁশ দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী বহনযোগ্য খাট বা ‘পলো’-তে করে রোগী বহন করতে হয়। কাদাময় রাস্তার কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, টমটমসহ অন্যান্য হালকা যানবাহনও চলাচল করতে পারে না।

মানববন্ধনে গ্রামবাসীরা সর্দার হারুন মিয়ার বাড়ির সামনে থেকে ইনুছ মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত, শ্যামল মাস্টারের বাড়ি থেকে কদ্দুছ মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত, মেরাজ মিয়ার বাড়ি থেকে কালাম মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত এবং আওয়াল মিয়ার বাড়ি থেকে রহমত আলীর বাড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাকাকরণের দাবি জানান।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন মো. শাহীন মিয়া, মো. সুলেমান, মো. ইয়াকুব মিয়া, মো. জাহাঙ্গীর, মো. জুবায়েল, মো. কদ্দুছ আলী এবং মোছা. হাসিনা বেগম।

বক্তারা বলেন, “এই সড়কগুলো দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। বর্ষা এলেই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না, রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তি হয়। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি আমরা বহুবার শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। এখন আর আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু দেখতে চাই।”

Manual1 Ad Code

তারা আরও বলেন, “কুঞ্জবন গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। একটি টেকসই সড়ক নির্মাণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই হবে না, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

Manual4 Ad Code

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দাবি জানান।

কর্মসূচি শেষে গ্রামবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ায় তারা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধনের মাধ্যমে নিজেদের দুর্ভোগ তুলে ধরেছেন। দ্রুত সড়ক পাকাকরণের উদ্যোগ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার কথাও ইঙ্গিত দেন তারা।