সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় ওয়ার্কার্স পার্টির ত্রাণ তৎপরতা শুরু

প্রকাশিত: ১১:১৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২৬

সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় ওয়ার্কার্স পার্টির ত্রাণ তৎপরতা শুরু

Manual7 Ad Code
  • ১৭ সদস্যের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটি গঠন, দেশব্যাপী তহবিল সংগ্রহ ও সহায়তা কার্যক্রমের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৮ জুলাই ২০২৬ : দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

Manual3 Ad Code

একই সঙ্গে সম্ভাব্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা এবং পার্টির কমরেডদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের উদ্যোগে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Manual8 Ad Code

শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৫টায় রাজধানীর পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

সভায় বিভাগীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সদস্য কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতনকে আহ্বায়ক করে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি চিকিৎসা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটি গঠন করা হয়।

Manual3 Ad Code

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে দুর্যোগপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক সচেতন নাগরিক ও সংগঠনের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ওয়ার্কার্স পার্টি আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সম্ভাব্য বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন সহায়তা পৌঁছে দিতে কেন্দ্রীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পার্টির নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ, জরুরি প্রয়োজন নিরূপণ এবং দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সভায় ‘চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম’—এই নীতিকে সামনে রেখে নিজেদের সক্ষমতা থেকেই তহবিল গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে ‘আপনি আচরি ধর্ম, অপরকে শেখাও’—এই চেতনাকে ধারণ করে কমিটির সদস্যরা সভাস্থলেই প্রাথমিক তহবিল গঠনের জন্য স্বেচ্ছায় আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

এ সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কমিটির প্রত্যেক সদস্য নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে তহবিল সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করবেন। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় ইউনিটের মাধ্যমে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে প্রয়োজনের মুহূর্তে দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

Manual1 Ad Code

সভা থেকে পার্টির শুভানুধ্যায়ী, শুভাকাঙ্ক্ষী, গণতান্ত্রিক শক্তি, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী এবং দেশের বিত্তবান নাগরিকদের প্রতি সম্ভাব্য বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। অতীতের মতো এবারও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

এছাড়া সভায় সম্ভাব্য দুর্যোগকালে পার্টির নেতাকর্মী ও কমরেডদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-পরামর্শ, ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নিয়ে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলীয় উদ্যোগকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শেষে জানানো হয়, বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে জনসাধারণের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।