সিলেট ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র), ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার যখন সংবাদমাধ্যমে দ্রুত বাড়ছে, তখন মতামতধর্মী লেখা বা ‘অপ-এড’ প্রকাশের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার সীমিত কিংবা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সংবাদপত্র। লেখার মৌলিকত্ব, লেখকের দায়বদ্ধতা এবং পাঠকের কাছে মতামতের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এমন নীতিমালা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রগুলোর প্রকাশনা নির্দেশিকা থেকে জানা গেছে।
নিম্যান ল্যাবের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সংবাদপত্র তাদের অপ-এড বা মতামতধর্মী লেখা জমা দেওয়ার নীতিমালায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করেছে।
ইউএসএ টুডে জানিয়েছে, সাধারণ বানান ও ব্যাকরণ পরীক্ষার মতো কাজে ব্যবহৃত টুল ছাড়া অন্য কোনো ধরনের এআই সহায়তায় তৈরি লেখা তারা গ্রহণ করে না। অর্থাৎ লেখার মূল বিষয়বস্তু, ভাষা বা কাঠামো তৈরিতে এআইয়ের সহায়তা নেওয়া হলে তা প্রকাশের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
দ্য আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশন-এর নীতিমালায় বলা হয়েছে, জমা দেওয়া মতামতধর্মী লেখা লেখকের নিজের মৌলিক কাজ হতে হবে; সেটি এআইয়ের তৈরি হওয়া যাবে না। একইভাবে দ্য শিকাগো ট্রিবিউন লেখকদের কাছ থেকে এমন প্রত্যয়ন চায় যে, সংশ্লিষ্ট লেখা তৈরিতে তারা এআই ব্যবহার করেননি।
এআই ব্যবহারের বিষয়ে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ থাকা সংবাদপত্রগুলোর মধ্যে দ্য বস্টন গ্লোব, দ্য ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারার, দ্য সিয়াটল টাইমস, দ্য কানসাস সিটি স্টার এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর নামও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা
অপ-এড বা মতামতধর্মী লেখার ক্ষেত্রে লেখকের ব্যক্তিগত অবস্থান, যুক্তি, অভিজ্ঞতা ও ভাষাশৈলী গুরুত্বপূর্ণ। ফলে একটি লেখা লেখকের নিজের চিন্তা ও বিশ্লেষণের ফল কি না—এ প্রশ্নটি এআইয়ের বিস্তারের সঙ্গে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।
সাধারণ সংবাদ প্রতিবেদনের তুলনায় অপ-এডে লেখকের ব্যক্তিগত কণ্ঠ ও দায়বদ্ধতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট। কোনো লেখক যদি এআইকে দিয়ে যুক্তি, বক্তব্য কিংবা পুরো লেখা তৈরি করান, তাহলে প্রকাশিত মতামতের প্রকৃত লেখক কে—এ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এআইয়ের তৈরি তথ্যে ভুল, অসম্পূর্ণতা বা মনগড়া তথ্য থাকার ঝুঁকিও রয়েছে।
তবে এআই নিষিদ্ধ করার নীতিমালা সব ধরনের এআই-ভিত্তিক সহায়তাকে একইভাবে বিবেচনা করছে না। কিছু সংবাদপত্র সাধারণ বানান ও ব্যাকরণ সংশোধনের মতো সীমিত ব্যবহারের সুযোগ রাখছে। এতে বোঝা যায়, মূল বিতর্কটি কেবল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে নয়; বরং লেখার মূল বক্তব্য, বিশ্লেষণ ও সৃজনশীল অংশটি কে তৈরি করছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সাংবাদিকতায় নতুন নৈতিক প্রশ্ন
এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে এর ব্যবহার নিয়ে নীতিগত প্রশ্নও বাড়ছে। সংবাদ লেখা, সম্পাদনা, অনুবাদ, তথ্য বিশ্লেষণ ও গবেষণায় এআই বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু মতামতধর্মী লেখার ক্ষেত্রে লেখকের নিজস্ব কণ্ঠ এবং চিন্তার মৌলিকত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে সংবাদপত্রগুলোর নতুন নীতিমালায় একদিকে যেমন এআইয়ের ব্যবহার সীমিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে লেখকের কাছ থেকে তথ্য প্রকাশ ও প্রত্যয়নের মতো অতিরিক্ত দায়বদ্ধতাও চাওয়া হচ্ছে। শিকাগো ট্রিবিউনের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন-ভিত্তিক পদ্ধতি সেই প্রবণতারই একটি উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও একটি বিষয়ে আলোচনা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে—এআই সংবাদমাধ্যমের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লেখকের দায়, মৌলিকত্ব এবং প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্য ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করতে হচ্ছে।
ফলে অপ-এডে এআই নিষিদ্ধ করার সাম্প্রতিক প্রবণতা কেবল একটি প্রযুক্তিকে প্রত্যাখ্যানের ঘটনা নয়; বরং মতামতধর্মী সাংবাদিকতায় লেখকের নিজস্ব কণ্ঠ, মৌলিকতা ও দায়বদ্ধতা কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে—সেই বৃহত্তর বিতর্কেরই অংশ।
বিস্তারিত নিম্যান ল্যাবের প্রতিবেদনে: https://twp.ai/4hvAAd

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি