দেশে ১৮ বছরের আগেই বিয়ে ৪৭.২ শতাংশ নারীর: ইউনিসেফ

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২৬

দেশে ১৮ বছরের আগেই বিয়ে ৪৭.২ শতাংশ নারীর: ইউনিসেফ

Manual8 Ad Code
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বিনিয়োগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২১ অক্টোবর ২০২৬ : বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। তাঁদের মধ্যে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়সের আগেই। বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্যের ভিত্তিতে এ চিত্র তুলে ধরেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।

বাল্যবিবাহ বন্ধ, মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। বাংলাদেশে তিন দিনের সফর শেষে শিশুদের কল্যাণে তিনটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল।

তাঁর প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

ইউনিসেফের মতে, বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি অল্প বয়সে গর্ভধারণের আশঙ্কা তৈরি হয়, যা তাদের শারীরিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে ভবিষ্যতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকার কড়াইল বস্তির পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন ক্যাথরিন রাসেল। এ ছাড়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

Manual6 Ad Code

বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া ১৪ বছর বয়সী বুশরার সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্যাথরিন রাসেল জানান, ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের কমিউনিটি নেতারা বুশরার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেন।

Manual1 Ad Code

তিনি বলেন, মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে না, বরং কমিউনিটি ও বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তেও সহায়তা করবে।

ঢাকা সফরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক। এ সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে ওই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ক্যাথরিন রাসেল বলেন, বাজেটের মধ্য দিয়েই সরকারের অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করা।

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা শিশুরা ইতিমধ্যে অনেক কিছু হারিয়েছে। এখন তাদের শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হতে দেওয়া যাবে না।

রোহিঙ্গা শিশুদের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্যও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

Manual2 Ad Code

ইউনিসেফের এই আহ্বানে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো আবারও সামনে এসেছে। সংস্থাটির মতে, এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে শিশুদের অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ