২৪ আগস্ট দাবি দিবস পালন করবে জাতীয় কৃষক সমিতি ও খেতমজুর ইউনিয়ন

প্রকাশিত: ১:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

২৪ আগস্ট দাবি দিবস পালন করবে জাতীয় কৃষক সমিতি ও খেতমজুর ইউনিয়ন

Manual3 Ad Code

ঢাকা, ২২ অাগস্ট ২০২০ : আগামী ২৪ আগস্ট সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যৌথভাবে দাবি দিবস পালন করবে জাতীয় কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন। ভার্চুয়াল অ্যাপ জুমের মাধ্যমে জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। গত ২০ আগস্ট সকাল ১১টায় সংগঠনের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিকের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম গোলাপ এ সভা পরিচালনা করেন।
সভার শুরুতে করোনাকালীন সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশিষ্ট রাজনৈতিকবিদ, সাহ্যিতিক, অধ্যাপক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিযার, সাংবাদিক, পুলিশ, নার্সসহ যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের প্রতি শোক জানিয়ে স্ব-স্ব স্থানে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ১৫ দফা দাবী তুলে ধরেন। সভায় আগামী ২৪ আগস্ট, ২০২০ সোমবার সারাদেশে জাতীয় কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন যৌথভাবে ১৫ দফা দাবীতে দেশব্যাপি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানববন্ধন পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জাতীয় কৃষক সমিতি ও খেতমজুর ইউনিয়ন সকল নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীকে দিবসটি পালন করার আহবান জানান।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় নেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা নুর আহমদ বকুল, নজরুল ইসলাম হক্কানী, হাজী বশিরুল আলম, দীপংকর সাহা দিপু, নজরুল ইসলাম, মোস্তফা আলমগীর রতন, গোলাম নওজব চৌধুরী পাওয়ার, আবুল কালাম আজাদ খান, অধ্যাপক মহিবুল্লাহ মোড়ল, এড. আবুবক্কর সিদ্দিকী প্রমুখ।

নিম্নে ১৫ দফা দাবী দেওয়া হল:
১। পাট শিল্প বাঁচাও, পাটচাষি বাঁচাও। পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত কর; রাষ্ট্রায়ত্ত পাটশিল্প পুনরায় চালু কর।মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, জাতীয় স্বার্থে পাটশিল্প রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোল।

২। আম্পান ও বন্যা পরিস্থিতিকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা; আম্পান ও বন্যা দুর্গতদের জন্য বিনামূল্যে ৬ মাসের খাদ্য সহায়তা প্রদান।

Manual5 Ad Code

৩। বন্যা কবলিত এলাকায় কৃষকের সব ধরণের কৃষিঋণ, এনজিও ঋণ মওকুফ; জরুরি ভিত্তিতে বন্যাকবলিত কৃষকদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করে নগদ অর্থ প্রদান; বিনামূল্যে আমন চারা বিতরণ, রবিশস্যের জন্য-গম, আলু, ভুট্টা, সবজি এবং ডালজাতীয় চাষ করার জন্য বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ।

৪। চরাঞ্চলের খামারিদের গবাদি পশু সংরক্ষণে আলাদা আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন ও গো-খাদ্যের সংকট নিরসন; সুপীয় পানির ব্যবস্থা, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ, সু-চিকিৎসা নিশ্চিত; নদীভাঙন রোধে বাঁধ মেরামত-সংস্কার, নদীশাসন, নদী খনন, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

৫। খোদ কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় ও তা গুদামজাত ও বিপনন করতে প্রতি উপজেলায় প্যাডিসাইলো নির্মাণ করা এবং তার পরিচালনার ভার সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রোয়ার কো-অপারেটিভের (উৎপাদক সমবায়) উপর ন্যস্ত করা।

৬। ‘৮৭-এর ভুমিসংস্কার আইনের সুপারিশ অনুযায়ী বর্গাচাষিদের সাথে বর্গাচুক্তিপত্র সম্পাদন, বর্গাস্বত্ব প্রদান করা এবং সমিতিতে সংগঠিত করে কৃষি ঋণ এবং কৃষি প্রনোদনা প্রদান করা।

Manual4 Ad Code

৭। খাসজমি, জলমহালের উপর প্রকৃত ভূমিহীন, মৎস্যজীবীদের অধিকার প্রদান করা।

Manual2 Ad Code

৮। ৭২ সালের সংবিধানের নির্দেশনা মোতাবেক কৃষি সমবায়-কে কৃষি উৎপাদনের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত করা; উৎপাদনের উপকরণ-সার, বীজ, কৃষিযান্ত্রকীকরণের সকল যন্ত্রপাতি পুঁজিপতি শ্রেণির হাতে না দিয়ে এসব সমবায় সমিতির মাধ্যমে প্রদান করা।

৯। সারা দেশের খেতমজুরদের নিবন্ধন করা, ৪০ দিনের কাজ বাড়িয়ে খেতমজুরদের জন্য ১৫০ দিনের কাজের গ্যারান্টি প্রদান করা; কাজ না থাকলে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা।

১০। গ্রাম ও শহরের ৬০বছরোদ্ধ খেতমজুর, ভূমিহীন শ্রমজীবি মানুষের জন্য সার্বজনিন পেনশন ভাতা প্রদান করা; গ্রাম ও শহরের খেতমজুর শ্রমজীবি ও কর্মজীবী গরীব মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা

১১। গ্রামের কৃষক-খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের জন্য বিনামূল্যের সবধরণের চিকিৎসার ব্যয়ভার রাষ্ট্রকর্তৃক গ্রহন ও তাদের সন্তানদের শিক্ষাভাতা প্রদান করা।

১২। গ্রামাঞ্চলের কৃষক-খেতমজুর-গ্রামীন শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে তাদের ল্যাবটব, স্মাটফোনের ব্যবস্থা জন্য ও আনুসাঙ্গিক অন্যান্য সুযোগ সুবিধা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।

১৩। মজুত বিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত। চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের সরকার কর্তৃক প্রনীত চুক্তিনামা অনুযায়ী সরকারী গুদামে সরবরাহ করতে বাধ্য করা। এদের খাদ্য মজুদ তদারকী জন্য “কন্টোল অব এন্সেসিলিয়াল কমোডিটিস এ্যাক্ট” আইনের কঠোর প্রয়োগ।

১৪। হাওর-বাওর চরাঞ্চালসহ সমগ্র অঞ্চলে কৃষিজীবী নারীদের বিশেষ প্রণোদনা (স্বাস্থ্য, খাদ্য ও বাসস্থান) প্যাকেজের আওতায় আনতে হবে।

১৫। ছোট ছোট খামার (পোলট্রি, ডেইরি, মৎস্য খামার, নার্সারী) সমূহকে লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে তাদের স্বল্প সুদে ঋণ ও পর্যাপ্ত প্রণোদনা দিতে হবে।

Manual7 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ