প্রকাশ হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশের লেখক ডিরেকটরি’র নতুন সংস্করণ

প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২৫

প্রকাশ হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশের লেখক ডিরেকটরি’র নতুন সংস্করণ

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০২৫ : বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনের অন্যতম তথ্যভান্ডার ‘বাংলাদেশের লেখক ডিরেকটরি’-র নতুন সংস্করণ প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। দেশের লেখক, কবি, সাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের তথ্যসমৃদ্ধ এই প্রকাশনাটি আগামী বছর প্রকাশের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সম্পাদক কাদের বাবু ও তার সহকর্মীরা।

প্রথমবার ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘বাংলাদেশের লেখক ডিরেকটরি’। ১৫ ফর্মার সেই সংস্করণে স্থান পেয়েছিল প্রায় আড়াই হাজার লেখকের তথ্য। পাঠক, গবেষক, সম্পাদক ও প্রকাশকদের কাছে এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পরে চাহিদার কারণে ২০২২ সালে প্রকাশিত হয় হালনাগাদ দ্বিতীয় সংস্করণ, যার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ ফর্মায়।

Manual2 Ad Code

দ্বিতীয় সংস্করণে শুধু লেখকের নাম নয়, যোগ করা হয়েছিল লেখকের উল্লেখযোগ্য বইয়ের নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা এবং চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক ও প্রবাসী লেখকদের তথ্য। এছাড়া দেশের জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক পত্রিকা, লিটল ম্যাগাজিন ও অনলাইন সাহিত্য পোর্টালের যোগাযোগের ঠিকানাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ফলে একটি কপি হাতে থাকলে যে কেউ সহজেই যেকোনো লেখক বা প্রকাশনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন।

Manual8 Ad Code

ডিরেকটরিটির ব্যাপক সাড়া পড়ে লেখক সমাজে। অনেকেই নিজেদের টেবিলে রাখেন এই প্রকাশনাটি। সাহিত্যপত্র সম্পাদনা, বই প্রকাশ বা উৎসব আয়োজনের ক্ষেত্রে এটি হয়ে ওঠে নির্ভরযোগ্য সহচর। বাবুই প্রকাশনা থেকে সরাসরি কিংবা ডাকযোগে দেশজুড়ে বিতরণ করা হয় বইটি।

এবারের নতুন সংস্করণে থাকবে আরও হালনাগাদ ও বিস্তৃত তথ্যভান্ডার। জানা গেছে, ইতিমধ্যে মৃত লেখকদের তথ্য বাদ দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের লেখকদের তথ্য সংযোজনের কাজ চলছে। এ ছাড়াও প্রবাসী বাংলাদেশি লেখকদের তালিকাও আরও সমৃদ্ধ করা হবে।

সম্পাদক কাদের বাবু বলেন, “বাংলাদেশের লেখালেখির অঙ্গনে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সবাইকে এক ছাতার নিচে আনার প্রয়াসই মূল লক্ষ্য। লেখক, চিত্রশিল্পী বা সম্পাদক — সবাই এই উদ্যোগের অংশ হতে পারেন। আমরা চাই, কেউ যেন বাদ না পড়েন।”

নতুন সংস্করণের জন্য দেশের সব লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের নিজেদের তথ্য পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। যাঁরা আগে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাঁরাও চাইলে তথ্য হালনাগাদ করতে পারবেন।

তথ্য পাঠানোর ফরমেট নির্ধারণ করা হয়েছে নিচের মতো —

নাম

যে বিষয়ে লিখেন

পরিচয়ের ধরন (যেমন: কবি, লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক)

জন্মতারিখ ও স্থান

পৈত্রিক জেলা ও উপজেলা

রক্তের গ্রুপ

প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ও উল্লেখযোগ্য বইয়ের নাম

Manual5 Ad Code

সেলফোন নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা

যারা নতুন সংস্করণে তথ্য দিতে চান, তারা ইমেইল করতে পারবেন: lekhokdirectory@gmail.com
অথবা ফোনে যোগাযোগ করতে পারেন সম্পাদক কাদের বাবু (01715331098)।

প্রকাশক সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশের লেখক ডিরেকটরি’র পরবর্তী সংস্করণ শুধু একটি তালিকা নয়, বরং বাংলাদেশের সাহিত্যচর্চার একটি ঐতিহাসিক দলিল হয়ে উঠবে। কারণ এতে শুধু নাম নয়, প্রতিটি লেখকের সৃষ্টিশীল পরিচয়, সাহিত্যিক অবদান ও যোগাযোগের তথ্য থাকবে এক জায়গায়।

কাদের বাবু আরও জানান, “আমরা চাই এই ডিরেকটরি প্রতিটি লেখকের টেবিলে থাকুক। নতুন প্রজন্মের লেখকরা যেন সহজেই প্রবীণ লেখকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

Manual7 Ad Code

সাহিত্যাঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের লেখকদের এমন একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার সাহিত্য গবেষণা, সম্পাদনা, প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ