বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি: ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে

প্রকাশিত: ১২:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২৫

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি: ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে

Manual7 Ad Code

মেহেদী হাসান রাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর, ০৪ নভেম্বর ২০২৫ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আজ একটি পরিচিত নাম— শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি রাজপথের রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নিজের সক্রিয়তায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ধরে রেখেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Manual1 Ad Code

লক্ষ্মীপুর জেলার সন্তান এ্যানি চৌধুরী ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ এবং ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর উপজেলা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দুই মেয়াদেই তিনি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা

স্কুল জীবনেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন লক্ষ্মীপুরে মূসার খাল খনন কর্মসূচীতে অংশ নেন, সেই সময় এ্যানি ছাত্র হিসেবে ওই কর্মসূচীতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এই সময় থেকেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।

১৯৮৩ সালে তিনি ঢাকা তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে ১৯৮৫ সালে নির্বাচিত হন তিনি। ধারাবাহিকভাবে ছাত্র রাজনীতিতে নেতৃত্বগুণের পরিচয় দিয়ে ১৯৮৭ সালে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, ১৯৮৮ সালে সাধারণ সম্পাদক, এবং ১৯৮৯ সালে জিয়াউর রহমান হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন।

ডাকসু ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বে

১৯৯০ সালে তিনি সর্বোচ্চ ভোটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য নির্বাচিত হন। তিন দফায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ডাকসুর ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে ডাকসুর ভারপ্রাপ্ত ভিপি ও সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Manual7 Ad Code

একই বছর তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।

জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান

ছাত্র রাজনীতির পর ১৯৯৯ সালে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেন।

Manual7 Ad Code

২০০৯ সালে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন।

দলীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা

২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (APPG) এর ভাইস-চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১০ সালে তিনি এই গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের নিউইয়র্ক সদর দফতরে সভায় অংশগ্রহণ করেন।

২০১৩ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ছাড়াও দলীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির সমন্বয়ক, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব এবং লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিষ্ঠা, ত্যাগ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রতীক

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি কখনোই দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। রাজনৈতিক দৃঢ়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতি অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্বের কারণে তিনি বিএনপির একজন নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

Manual4 Ad Code

দলের কঠিন সময়েও মাঠে-ঘাটে কর্মীদের পাশে থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন।

উপসংহার:
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি শুধু একজন রাজনীতিক নন, বরং বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার প্রতীক। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা প্রমাণ করে—আদর্শ, অধ্যবসায় ও জনসেবার অঙ্গীকারই একজন নেতাকে জনমানুষের আস্থার প্রতিমূর্তি করে তোলে।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ